Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ২২ নভেম্বর ২০১৮

নিজের যোগ্যতা না থাকলে কেন্দ্রীয় সরকার এসে কাজ করে দিবে না– হাসান সরকার


গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট: গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ২০ দলীয় জোট মেয়র পদপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার মঙ্গলবার নগরির গাছা (পূর্ব) অঞ্চলের ৩২, ৩৩, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইশড্ডা, জাঝর, অ্যারাবিয়ান গার্মেন্ট, বটতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং অপরাহ্নে নগরির টঙ্গী (পূর্ব) এলাকার টিন্ডটি, শিলমুন, মরকুনসহ সংলগাœ এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন।
পথসভায় হাসান উদ্দিন সরকার বলেন, আওয়ামীলীগের মেয়রপ্রার্থী অতিরিক্ত মাত্রায় ওয়াদা দিচ্ছেন। তিনি ডাবল রেল লাইন ও চলমান বিআরটি-সহ জাতীয় প্রকল্পগুলোকে স্থানীয় সরকারের প্রকল্প হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা, পরিধি ও স্থানীয় সরকার আইন সম্পর্কে ন্যুততম ধারণা থাকলে তিনি এসব ওয়াদা দিতেন না। তিনি এমন কিছু ওয়াদা দিচ্ছেন যা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাকেও হার মানাচ্ছে। জাহাঙ্গীর আলম কথায় কথায় কেন্দ্রীয় সরকারের কথা বলছেন। কিন্তু সিটি করপোরেশনের মতো স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ করার কোন সুযোগ নেই। নিজের যোগ্যতা বলেই স্থানীয় সরকার পরিচালনা করতে হয়। নিজের যোগ্যতা না থাকলে কেন্দ্রীয় সরকার এসে স্থানীয় সরকার পরিচালনা করবে না। স্থানীয় খাত থেকে রাজস্ব আহরণের যোগ্যতা ও ধারণা থাকতে হবে এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করতে হবে। কারোর স্থানীয় সরকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে তাকে স্থানীয় সরকার পরিচালনা করতে আসা মানেই জনগণের দুর্ভোাগ ডেকে আনা।
এসব পথসভা ও গণসংযোগে হাসান উদ্দিন সরকারের সাথে ছিলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, সিনিয়র সহসভাপতি সালাহ উদ্দিন সরকার, জেলা হেফাজতে ইসলামীর যুগ্ন সম্পাদক মুফতি নাসির উদ্দিন, মোশরাফ হোসেন খান, সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, মনিরুজ্জামান লাবলু, ফারুক হোসেন খান, ইঞ্জিনিয়ার ইদ্রিস খান, জাহাঙ্গীর হাজারী, মোশারফ হোসেন ভূইয়াসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। হাসান সরকারের গণসংযোগে জনতার ঢল নামে এবং প্রতিটি পথসভায়ই জনসভায় রুপ নেয়।

সকালে হাসান উদ্দিন সরকারের বাসভবনের উঠানে টঙ্গীর ১২৫ ওয়ার্ডের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সকল সদস্য ও এজেন্টদের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ¦ সালাহ উদ্দিন সরকার দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। এসময় তিনি সকল ধরণের গুজব ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সর্বাত্মকভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অবতীর্ণ হওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহŸান জানান। তিনি বলেন, বিগত আন্দোলন সংগ্রামের কঠিন সময়েও আমরা ভয় পাই নাই । এখন নির্বাচনকালীন সময়ে গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলার আশঙ্কা নেই, তাহলে এখন আমরা ভয় পাব কেন। তিনি বলেন, আমাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমাদের নেত্রীকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের পিছপা হওয়ার আর কোন সুযোগ নেই। অতীতের সকল ভেদাভেদ ও ভুলভ্রান্তি ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদেরকে বিজয় ছিনিয়ে আনতেই হবে। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, মাহবুবুল আলম শুক্কুর, প্রভাষক বসির উদ্দিন আহমেদ, আরিফ হোসেন হাওলাদার, জসিম উদ্দিন বাট, আব্দুর রহিম খান কালা, কসিম উদ্দিন প্রমুখ।

অপরদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা ৫৭টি ওয়ার্ডে পৃথক পৃথক গণসংযোগ করেন। মঙ্গল বার বিকেলে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের হারিনাল এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভাে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এসময় তার সাথে ছিলেন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শামা ওবায়েদ, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, রফিক শিকদার, মীর হালিমুজ্জামান ননী, সোহরাব উদ্দিন, ভিপি জয়নাল প্রমুখ কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা। এছাড়া কাউলতিয়া অঞ্চলে গণসংযোগ করেন বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে অ্যাডভোকেট রফিক শিকদার, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে শামা ওবায়েদ, ১ নম্বর ওয়ার্ডে গৌতম চক্রবর্তী, ২ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন।

আওয়ামীলীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আবারো আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ঃ এদিকে আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের আবারো অভিযোগ করেছেন হাসান উদ্দিন সরকার। মঙ্গলবার তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগে বলেন, আমি এ যাবত নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন করে আসছি। অপরদিকে গাজীপুর সিটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ও তার সমর্থকেরা একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট করছেন। আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রতিদ্ব›দ্বী মেয়র পদপ্রার্থী বিধি বর্হিভূতভাবে রঙ্গিন ছবিযুক্ত ফোর কালার বিলবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার, সাইনবোর্ড মহাসড়কের দুই পাশসহ নগরির বিভিন্ন এলাকায় স্থাপন করেছেন। যা সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণ বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।