Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নাটোরের পদ্মার চরে সম্ভবনাময় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে সরকার- আবুল কালাম আজাদ এমপি

ABUL_KALAM_AZAD_M.P[1]
নাসিম উদ্দীন নাসিম, নাটোর প্রতিনিধি: নাটোরের বাগাতিপাড়া –লালপুরের সংসদ সদস্য ও নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ এম,পি জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত নাটোর অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উন্নয়ন এবং সম্ভাবাবনাময় এলাকা নাটোরের লালপুর উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চল। যোগাযোগ ব্যবস্থা, সরকারের বিপুল পরিমান খাস জমি, বিদ্যুতের সহজ লভ্যতা, গ্যাস সরবরাহের সুযোগ, পানির সরবরাহ ও বন্টনের সুবিধা, বর্জ্য সংগ্রহ, শোধন ও অপসারণের সুবিধা, বাসস্থান, চিকিৎসা সেবা, সহজে কাঁচামাল প্রাপ্তির সব রকম সুবিধাসহ আর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সকল সম্ভাবনাই বিদ্যমান লালপুরের পদ্মার চরাঞ্চলে। আর এই পদ্মা চরেই নাটোরের আপামর মানুষের দিন বদলের স্বপ্ন দেখা শুরু করেন আবুল কালাম আজাদ এমপি । নাটোরের মানুষের ভাগ্য ও দিনবদলের জন্য সংসদে সব সময় সোচ্চার ভূমিকা্ রেখে ইতিমধ্যে নাটোরের আপামর জনগণের দৃষ্টি কেড়েছেন তিনি । তারই দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে অবহেলিত নাটোরে গড়ে উঠছে অর্থনৈতিক অঞ্চল । যা সাড়ে তিন লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
২০১০ সালের ৯ নভেম্বর বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) গঠন হয়। এর আগে ২০১০ সালের ১ আগষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন ২০১০ পাশ হয়। ওই আইনে বলা হয় দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, উৎপাদন এবং রপ্তানী বৃদ্ধি ও বহুমুখী করণে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে পশ্চাদপদ ও অনগ্রসর এলাকাসহ সম্ভাবনাময় সকল এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করাই হলো বেজার মূল লক্ষ্যে। সেই মোতাবেক ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বেজার গভর্নিং বোর্ডের প্রথম বৈঠকে পাঁচটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অনুমোন দেওয়া হয়। এর পর পরই নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আবুল কালাম আজাদ নাটোরের লালপুরের পদ্মার চরে নাটোর অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। তিনি পদ্মার চরাঞ্চলে আর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার যৌক্তিক বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নিকট আবেদন জানান। এরপর ২ মে ২০১৫ স্থান নির্ধারণ ও সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের প্রকল্প পরিচালক নুরুন্নবী মৃধা উপজেলার চরাঞ্চলে অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের পক্ষে মত দেন। এর পর থেকে লালপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয় ।
তিনি জানান, এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে কৃষি ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। সহজলভ্য কাঁচামাল দিয়ে পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে এখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহবান জানানো হবে। তবে কৃষি ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি ইলেকট্রনিক্স কারাখানাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলা যাবে। জিটুজি (গভর্ণর টু গভর্ণর) পদ্ধতিতে অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ হবে।
তারা জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে শতাধিক শিল্প প্রতিষ্ঠান হবে এখানে। উৎপাদিত পন্য অগ্রধিকার ভিত্তিতে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত পন্য রপ্তানীও করা যাবে। অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হলে তিন লক্ষাধিক মানুষের কর্ম সংস্থান হবে।
তারা আরো বলেন, ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে পার্থক্য হলো ইপিজেডে উৎপাদিত পণ্যের ৮০ ভাগ দেশের বাইরে রপ্তানী করা হয়। আর অর্থনৈতিক অঞ্চলে উৎপাদিত পণ্যের সিংহভাগই দেশের অভ্যন্তরে বাজারজাত করা হবে।
বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের এক পত্রে দেশের সকল সরকারি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল সমুহে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগের তালিকায় নাটোর অর্থনৈতিক অঞ্চলের নামও রয়েচে। ফলে অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিদ্যুৎ প্রাপ্তির বিষয়টিও একধাপ এগিয়ে আছে। ধারণা করা হচ্ছে ভূমি জরিপ কার্যক্রম শেষেই সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের কাজ শুরুহবে।
আবুল কালাম আজাদ এম,পি জানান, লালপুর উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্যানুযী এ উপজেলায় অন্যান্য কৃষি ফসলের পাশাপাশি শাক-সবজি ও ফলফলাদির উৎপাদনও আশানুরূপ। উপজেলার দুই হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আম বাগান, দুই’শ হেক্টর জমিতে পেয়ারা বাগান, এক’শ ৫০ হেক্টর জমিতে রয়েছে কাঁঠাল বাগান । যা থেকে প্রতি বছর প্রচুর পরিমানে ফল উৎপাদন হয়। এছাড়া উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নাটোর, রাজশাহী ও পাবনা জেলার জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ফল ফলাদিসহ কৃষি শিল্পের কাঁচামাল সহজেই পাওয়া সম্ভব। ফলে কৃষি ভিত্তিক যে কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলে গড়ে তোলা সম্ভব। নাটোর ও ঈশ্বরদীতে রয়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার আড়ৎ। এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠতে পারে চামড়াজাত কারখানা। লালপুর উপজেলায় ব্যক্তি উদ্যোগে বাণজ্যিকভাবে প্রচুর পরিমানে গরু-মহিষ পালন করা হয়। পালন করা হয় গরু ভেড়া-ছাগল। এ থেকে গড়ে উঠতে পারে দুগ্ধজাত ও মাংশ প্রক্রিযাজাত করণ কারখানা। এছাড়া বিভিন্ন কুটির শিল্প কারখানা গড়ে তোলার সম্ভাবনাও রযেছে।