Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

4
মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক, বিশেষ প্রতিনিধি : মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শুক্রবার সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম। এসময় ট্রেজারার প্রফেসর এ এম এম শামসুর রহমান, উপাচার্যের সহধর্মিনী আলেয়া সুরাইয়া মোহীত, রেজিস্ট্রার মো: আমিনুল ইসলাম সাথে ছিলেন। পরে নবনির্মিত বিজয় স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম ও তাঁর সহধর্মিনী আলেয়া সুরাইয়া মোহীত, ট্রেজারার প্রফেসর এ এম এম শামসুর রহমান, শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা পরিষদ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানগণ, প্রভোস্টগণ, এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা-শিক্ষার্থীবৃন্দসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বাধীনতা স্বপক্ষের ছাত্র সংগঠন। এরপর মাননীয় উপাচার্যের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য এক বিজয় র‌্যালি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর প্রদক্ষিণ করে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গাহি সাম্যের গান’ মঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আজ সকাল থেকেই ইচ্ছে করছিল জয় বাংলা শ্লোগানের সাথে নাচতে। আর নবনির্মিত বিজয় স্তম্ভে যখন পুষ্পস্তবক অর্পণ করছিলাম তখন জয় বাংলা শ্লোগান শুনে মনে হচ্ছিল আমিই শ্লোগান দিচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘কখনও সমাজ নেতাকে এগিয়ে নিয়ে যায়, আবার কখনও নেতা সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমনই এক নেতা, যে নেতা সমাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এখন আমাদের সকলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করা। আর বঙ্গবন্ধু এমন এক নেতা ছিলেন যাঁকে শুধু রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা করলে হবে না, বঙ্গবন্ধু একটি টেক্সট হতে হবে। তবেই পরবর্তী প্রজন্ম সঠিকভাবে ইতিহাস জানতে পারবে। এখনও অনেকে স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের পার্থক্য করতে পারে না। সঠিক ইতিহাসের আরও ব্যাপক প্রচার প্রয়োজন।

সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ও মহান বিজয় দিবস উদ্যাপন কমিটির আহŸায়ক প্রফেসর এ এম এম শামসুর রহমান। সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে অন্যতম। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখনও অনেক বুদ্ধিজীবী আছে যারা স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তিকে সমর্থন করে। তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি মনে করে সামরিক শক্তি তাদের পক্ষের শক্তি। তাই তারা যেকোনো কাজেই সামরিক বাহিনী চায়। নির্বাচনের মতো বিষয়েও তারা সেনাবাহিনী চায়। অথচ নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেমন- পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাব রয়েছে এবং সবশেষে সেনাবাহিনী অথচ বিএনপি শুরুতেই সেনাবাহিনী চায়।’

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো: নজরুল ইসলাম। এছাড়া আলোচক হিসেবে প্রক্টর ড. মো: জাহিদুল কবীর, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোহেল রানা, নাট্যকলা ও পরিবেশনাবিদ্যা ভিাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ রুহুল আমিন, রেজিস্ট্রার মো: আমিনুল ইসলাম এবং কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি মো: মাহবুবুল ইসলাম আলোচনা করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও মহান বিজয় দিবস উদ্যাপন কমিটির সদস্য সচিব মাসুম হাওলাদার। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সাব্বির আহমেদ এবং আপেল মাহমুদ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় বীর শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নাট্যকলা ও পরিবেশনাবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মো: মাজহারুল হোসেন তোকদার।

এছাড়া পূর্বে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরস্কার বিতরণ করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম। সন্ধ্যায় শব্দ মঙ্গলের পরিবেশনায় স্বাধীনতার কবিতা পাঠ, সংগীত বিভাগের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সবশেষে নাট্যকলা ও পরিবেশনাবিদ্যা বিভাগের পরিবেশনায় মিউজিক্যাল ড্রামা ‘উদ্দীপ্ত সময়ে’ মঞ্চস্থ হয়। মিউজিক্যাল ড্রামার নির্দেশনায় ছিলেন নাট্যকলা ও পরিবেশনাবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক মাজহারুল হোসেন তোকদার।