Pages

Categories

Search

আজ- সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নওগাঁ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগে ছাত্রলীগের হামলা-ভাংচুর, শিক্ষক লাঞ্ছিত আটক-৪

অক্টোবর ৩০, ২০১৭
অনিয়ম, নওগাঁ
No Comment


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের একটি অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে ছাত্রলীগ ও তার অংঙ্গ সংগঠন। এসময় বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. বেল্লাল হোসেনকে শারীরিক লাঞ্ছিত করা হয়। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় জড়িত থাকায় ছাত্রলীগ ও তার অংঙ্গ সংগঠনের চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। বর্তমান কলেজ এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আটকৃকতরা হলেন, শহরের বিহারী কলোনি মহল্লার সিরাজের ছেলে ও কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজ হোসেন, ডিগ্রী মোড় এলাকার আমিরের ছেলে স্বপন, আফজাল হোসেনের ছেলে রনি ও রেজাউল হোসেনে ছেলে রেদওয়ান। এদের সবার বয়স ২৫-২৮ বছরের মধ্যে।
কলেজের বাংলা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১টা থেকে কলেজের বাংলা বিভাগের দ্বিতীয় তলায় বদলি জণিত কারণে সহযোগী অধ্যাপক শহীদুল্লাহকে বিদায় এবং বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো: বেল্লাল হোসেনের বরণ অনুষ্ঠান চলছিল। এসময় কলেজের অধ্যক্ষ এএইচএমএ ছালেক, উপাধ্যক্ষ ড. মোস্তাফিজার সহ অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। দুপুর আড়াইটার দিকে অনুষ্ঠান শেষের দিকে রিয়াজ হোসেন, স্বপন, রনি ও রেদওয়ান সহ ১০/১৫ জন ছাত্রলীগ নামধারী ছাত্ররা এসে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ফুলের টব, বেঞ্চসহ অন্যান্য ভাঙচুর করে।
এ সময় প্রফেসর ড. বেল্লাল হোসেনকে জামার কলার ধরে মারপিট করা হয়। এছাড়া অন্যান্য শিক্ষকরাও আহত হয়। এ সময় বাংলা বিভাগের অনার্স ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী (বর্তমান পরীক্ষার্থী) এবং রোভার স্কাউটের জেলা সিনিয়ির রোভার প্রতিনিধি আরমান হোসেনকে ছাত্র শিবির আখ্যায়িত করে বেদম মারপিট করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে চারজন ছাত্রলীগ নামধারীকে আটক করে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল লিমন রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
প্রফেসর ড. বেল্লাল হোসেন বলেন, কলেজের বাংলা বিভাগে ঘরোয়া পরিবেশে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। কয়েকদিন আগেও তারা আমার কাছে একটি অনুষ্ঠানের নাম করে চাঁদা চেয়েছিল। তাদেরকে চাঁদা দেয়নি। এছাড়া আমাদের ঘরোয়া অনুষ্ঠানে তাদের জানানো হয়নি কেন। এসব বিষয় নিয়ে তারা আমাকে মারপিট করে ও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।
কলেজের অধ্যক্ষ এএইচএমএ ছালেক বলেন, তারা ছাত্রলীগ করে বলে আমি শুনেছি। ছাত্রলীগরা যেখানে দেশে সুনাম ছড়াচ্ছে। আর এখানে একজন শিক্ষকের গায়ে ছাত্রলীগরা হাত উঠিয়েছে। এরপর আর কি হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আমরা কলেজে পড়াশুনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চাই। দূর্বত্তদের হাতে কলেজ থাকতে পারেনা। আমরা এটাকে মুক্ত করতে চাই। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
নওগাঁ জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক বিমান কুমার রায় বলেন, কলেজ ছাত্রলীগের কোন কমিটি নাই। তবে তারা ছাত্রলীগের নাম ভাঙাতে পারে। যদি ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগাঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, কলেজ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল লিমন রায় জানান, ঘটনায় ৪/৫ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়াও মামলায় আরো অজ্ঞাত ১০/১৫ জন রয়েছে। তদন্ত করে দ্রæত গ্রেফতার করা হবে।