Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮

নওগাঁ-ঢাকা রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৭
অনিয়ম, নওগাঁ
No Comment

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: গত ৪ সেপ্টেম্বর ঈদের ছুটি শেষ হয়েছে। খুলেছে সরকারি-অফিস আদালতসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রিয়জনের সাথে ঈদ করতে বাড়িফেরা মানুষেরা এখন কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছেন। ঢাকায় ফেরা যাত্রীদের কাছ থেকে এ সুযোগে অভ্যন্তরীন রুটে চলাচলকারী বাস কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। নিরুপায় হয়ে ঢাকায় ফিরা যাত্রীরা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে টিকিট নিতে একপ্রকার বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে আবার অতিরিক্ত টাকা দিয়েও কাঙ্খিত বাসের টিকিট না পেয়ে ফিরেও গেছেন। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হবে বলে সূত্রে জানা গেছে।

নওগাঁ শহরের ঢাকা বাসষ্ট্যান্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রকি পরিবহন ৭০০ টাকা, কেয়া পরিবহণ ৭০০টাকা, বিচিত্রা ট্রাভেলস ৭০০ টাকা, চাঁদনি ট্রাভেলস ৭০০ টাকা, তনয় ট্রাভেলস ৭০০ টাকা, শাহ্ ফতেহ আলী ৬০০ টাকা, একতা পরিবহন ৫০০ টাকা, শ্যামলী পরিবহন ৫০০টাকা এবং এসআর ট্রাভেলস ৫০০ টাকায় টিকিট বিক্রি করছেন। এছাড়া অভ্যন্তরীন রুটে নওগাঁ-ঢাকা চলাচলকারী অন্যান্য বাস কর্তৃপক্ষ যে যার মতো করে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করছেন।

ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরার জন্য নওগাঁর ঢাকা বাসষ্ট্যান্ড গুলোতে এখন সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি প্রতিটি কাউন্টারে যাত্রীদের উপচেপড়া ভীড়। সবাই গন্তব্যস্থলে পৌছার জন্য কাউন্টারগুলোতে টিকিট কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। অনেকেই ঈদের আগেই টিকিট কিনেছেন। আবার অনেকে দিনের দিন টিকিট কিনে ঢাকায় ফিরছেন। অগ্রীম টিকিট না পেয়ে বাড়তি টাকা দিয়ে এখন টিকিট কিনতে হচ্ছে।

ঢাকায় কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য সজিব নামে এক যাত্রী শাহ্ ফতেহ আলী থেকে ৬০০ টাকায় ১টি টিকিট কিনেছেন। তিনি বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় নওগাঁ থেকে বাস রওয়ানা দিয়েছে। ঢাকায় পৌছাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে হয়েছে।

অপর যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি কাউন্টারে এখন ব্যাপক ভীড়। টিকিট পাওয়াই এখন সৌভাগ্যের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কষ্ট করে বিচিত্রা ট্রাভেলস থেকে ৭০০ টাকায় ১টি টিকিট পেয়েছি। আর এসময়টাকে কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের কাছ থেকে একপ্রকার জুলুম করে টাকাই নিচ্ছেন।

রকি পরিবহণের ম্যানজার বিপুল ও বিচিত্রা ট্রাভেলস ম্যানেজার ববিন বলেন, সারা বছর আমাদের তেমন ব্যবসা হয়না। আর আমরা এক সাইড ব্যবসা করি। বিশেষ করে ঈদের সময় যাত্রীদের চাপ বেশি থাকে। ঢাকায় যাত্রী নিয়ে যাওয়ার পর ফিরতি সময় প্রায় ফাঁকা বাসা নিয়ে আসতে হয়। যার জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে আমরা ভাড়া একটু বেশি নিয়ে থাকি।

নওগাঁ এসআর ট্রাভেলস ম্যানেজার মোরশেদ বলেন, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) নিয়ম অনুসারে সরকারি ভাড়া ৪৭০ টাকা। সারা বছর আমরা ৭০ টাকা কমিশন দিয়ে ৪০০ টাকায় যাত্রীদের টিকিট দিয়ে থাকি। কিন্তু ঈদের সময় আমরা ৫০০ টাকা ভাড়া নিয়। যদিও সরকারি নিয়ম থেকে ৩০ টাকা বেশি। এ ৩০ টাকা বেশি নেয়াও ঠিক হচ্ছেনা।

নওগাঁ মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোন নিয়ম নাই। তবে যারা অনিয়ম করে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নওগাঁ জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে বিষয়টি কেউ কোন অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দ্রæত পদক্ষেপ গ্রহনের আশ্বাস দেন তিনি।