Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ২১ নভেম্বর ২০১৮

নওগাঁয় ৫টি চালকলে ট্রাস্কফোর্স কমিটির অভিযান

সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৭
নওগাঁ
No Comment


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ দেশের খাদ্য ভান্ডার হিসাবে পরিচিত নওগাঁ জেলা হলেও সিন্ডিগেটের কারণে চালের বাজারে চলছে ভেলকি বাজি। দিনমুজুর ও সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হারিয়ে আতঙ্কে রয়েছে তাদের পরিবার। ঈদের পর পাইকারি ও খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিকেজি নাজিরশাইল পূর্বে ছিল ৫৪-৫৫ টাকা, বর্তমানে ৫৮-৬০ টাকা, বিআর-২৮ পূর্বে ছিল ৪৫-৪৬ টাকা, বর্তমানে ৫০-৫২টাকা, জিরাশাইল পূর্বে ছিল ৫০-৫২ টাকা, বর্তমানে ৫৫-৫৬ টাকা, পারিজা পূর্বে ছিল ৪০-৪২ টাকা, বর্তমানে ৪৪-৪৬ টাকা, স্বর্ণা পূর্বে ছিল ৩৫-৩৬ টাকা, বর্তমানে ৪০-৪২ টাকা, এলসি পূর্বে ছিল ৪০-৪২ টাকা, বর্তমানে ৪৪-৪৬ টাকা বিক্রি করা হয়েছে। গত ১৩দিনে প্রতিকেজি চালের দাম ৩-৫ টাকা এবং ৫০ কেজি ওজনের বস্তা প্রতি ১৫০-২০০ টাকা দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজারে অতিরিক্ত মজুদ ঠেকাতে ইতো মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায় সারানো পাঁচটি চালকলে জেলা ট্রাস্কফোর্স কমিটি থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সোমবার থেকে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযান পরিচালনার সময় বেলকন গ্রুপের চালকলের ভিতরে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাঁধা প্রদান করা হয়। প্রশাসনের অনুমোতি সাপেক্ষে ২জন সাংবাদিককে প্রবেশ করতে দেয় কিন্তু চালকল কর্তৃপক্ষ মুল ফটকের ভেতর থেকে তাদেরকেও বের করে দেয়। এসময় প্রশাসন রহস্যজনক ভাবে নিরব ভূমিকা পালন করে।
চালকলগুলো হলো, বেলকন গ্রুপের ১ ও ২, নাদিরা, বিএইচ হাইটেক ও জান মোহাম্মদ। এর মধ্যে ৪টি চাল কলের মালিক আলহাজ্ব মোঃ বেলাল হোসেন। অভিযান পরিচালনাকারীরা বেলকন গ্রুপের চালকল পরিদর্শন শেষে মূলগেটে আসলে কোন ধরনের মজুদ আছে কিনা এবং কেন সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয়া হলো না সে বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চায়। এসময় মূল ফটকের পাশে চাল প্যাকেটিং একটি ঘরে সাংবাদিকদের নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েকটি ধানের বস্তা দেখা গেলেও মূল গুদামে সাংবাদিকদের নিয়ে যাওয়া হয়নি। এনিয়ে সাংবাদিকের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে চালের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করে। ফলে খেটে খাওয়া সাধারন মানুষরা বিপাকে পড়েছেন চাল নিয়ে। সরকার চালের বাজার নিয়ন্ত্রন করতে জেলা প্রশাসনকে চালকলে অভিযান পরিচালনা করার নির্দেশ দেন এবং নির্দেশ অনুযায়ী
কোন চালকলে অতিরিক্ত চাল মজুদ আছে কিনা তা যাচাই করে আইন গত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। অথচ অভিযান পরিচালনার সময় সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ে নাটকীয়তায় শুরু হয়। প্রশাসন পক্ষ তাদের গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয়ে সাংবাদিকদের চাল কলে প্রবেশ করতে দেয়নি বলে বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকেরা মন্তব্য করেন।
এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান বলেন, জেলায় অবস্থিত চালকল গুলোতে ট্রাস্কফোর্স কমিটি থেকে নজরদারী এবং পরিদর্শন করা হয়েছে। সরকারের নীতিমালা অনুসারে চালকলগুলো পরিচালিত হচ্ছে কিনা, স্টক ঠিক আছে কিনা এবং বাজারে নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে কিনা তা দেখা হবে। আর যদি তারা সরবরাহ না করে তাহলে বুঝতে হবে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য আছে। কোন চালকল মিলে ধারন ক্ষমতার অতিরিক্ত মজুদদারী করা হয়েছে কিনা সেটা দেখার জন্য নিয়মিত পরদির্শনের অংশ হিসেবে এ পরির্দশন করা হলো।
তিনি আরো বলেন, পরিদর্শনে দেখা যায় পাঁচটি চালকলে ধারন ক্ষমতার তুলনায় মজুদ কম আছে। আমরা নিয়মিত পরিদর্শন শুরু করেছি। আগামী কয়েকদিন আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করবো। এর প্রভাব চালের বাজারে পড়ে কিনা সেটা অবশ্যই মনিটরিং করে দেখবো।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আব্দুস সালাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল লিমন রায়, সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন সহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
প্রশাসনের এ অভিযান বিষয়ে নওগাঁ জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের মিলারদের মিলে তেমন কোন মজুদ নাই। চালের মুল্য নিয়ন্ত্রনে সরকার আমদানিকে উৎসাহিত করার জন্য ২৮ শতাংশ শুল্ক থেকে কমিয়ে ২ শতাংশে নিয়ে আসছে। কিন্তু দুংখজনক হলেও সত্য সরকার দেশে শুল্ক প্রত্যাহর করলেও প্রতিবেশি দেশ ভারত চালের দাম বৃদ্ধি করে। চালের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চালের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সমস্যা থেকে উত্তোরনের জন্য একটা উপায় ভারতকে চালের দাম কমাতে হবে।