Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নওগাঁয় ৪৬ বছর ধরে গাছের নিচে বসে ভিক্ষা করছেন আঃ সামাদ

a1
জি এম মিঠন, উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি: কেউবা চলতি বাস ও ট্রেনে আবার কেউ কেউ বাস ষ্ট্যান্ড ও রেল ষ্টেশনে তাছাড়াও বিভিন্ন হাট-বাজার ও শহরের মার্কেট গুলো সহ গ্রামগঞ্জ ঘুড়ে ঘুড়ে কতই না ভিক্ষুখ ভিক্ষার পয়সা সংগ্রহ করে। তবে নওগাঁয় রয়েছে এক আজব ভিক্ষুক । যে-কিনা কোন বাস ট্রেন বা হাট-বাজার ও গ্রাম ঘুড়ে নয়। শুধু মাত্র নির্দিষ্ট একটি শিশু গাছের নিচে বসে থেকেই ভিক্ষুর পয়সা সংগ্রহ করে সংসার চালিয়ে আসছেন দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে। নওগাঁ জেলা শহর থেকে ১২ কিঃ মিঃ দূরে। নওগাঁ-মহাদেবপুর সড়কের (চৌমাশিয়া) নওহাটা মোড় বাজার বাস ষ্ট্যান্ড থেকে মহাদেবপুর গামী সড়ক দিয়ে মাত্র ২ মিনিট পায়ে হেটে সামনে এগিয়ে গেলেই একটি বিশাল শিশু গাছের নিচে দেখা মিলবে আজব এ ভিক্ষুক আব্দুস সামাদ (৫৬) এর সাথে। আজব এ ভিক্ষুকের কথা লোকজনের মুখে শুনে সরজমিনে নওহাটা বাজার থেকে একটু সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখা গেলো একটি মরো মরো ভাব পুরাতন শিশু গাছের নিচে মাটি ভাঙ্গা ইটের তৈরী টিলার উপর পুরাতন চটের বস্তা বিছিয়ে সেই বস্তার উপর গাছের সাথে হেলান দিয়ে বসে রয়েছেন আঃ সামাদ নামের এই আজব ভিক্ষুক। আর এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও মোটর সাইকেল চালকরা অনেকেই এখানে এসে তাদের যানবাহন দাড়িয়ে রেখে সামাদের হাতে টাকা তুলে দিচ্ছেন আবার অনেক যানবাহন এর চালক ও হেলপাররা যানবাহন চলতি অবস্থায় টাকা ফেলে দিয়ে যাচ্ছেন আর ফেলে দেয়া সেই টাকা ও ঐ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সাধারন পথচারিরা কুড়িয়ে সামাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। কিছুক্ষন দাড়িয়ে দাড়িয়ে এ দৃশ্য দেখার পর এ প্রতিবেদক এগিয়ে গেলেন ভিক্ষুক সামাদের কাছে। পরিচয় পাওয়ার পর সামাদ নিজেই জানালেন তার জীবন কাহিনী, তিনি আজ থেকে ৫৬ বছর পূর্বে পাশ্ববর্তী চৌমাশিয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে অন্ধ ( দুই চোখ নষ্ট) অবস্থায় জন্ম গ্রহন করেন। তার অভাবী পিতা মৃত আব্দুল অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাচ্ছিলেন। এরি এক পর্যায়ে ১০ বছর বয়সে আঃ সামাদ অভাবের তারনায় তার সম-বয়সীদের সহযোগীতা নিয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে এসে সড়কের ধারের সে সময়ের ছোট্ট শিশু গাছটির নিচে বসে থাকেন এবং কোন যানবাহন আশা বা যাওয়ার শব্দ কানে পেলেই হাত তোলেন ঐ সময় থেকেই কিছু কিছু যানবাহন চালকরা অন্ধ ছেলে দেখে সামাদের সহযোগীতাই তাদের যানবাহন দার করিয়ে সামাদের হাতে টাকা তুলে দেন । এরপর থেকে সামাদ ও নিয়মিত ঐ গাছের তলাই বসে থেকেই বিভিন্ন যানবাহন চালক, যাত্রী ও পথচারিদের দেয়া ভিক্ষার টাকা সংগ্রহ করতে থাকেন। আলাপের এক পর্যায়ে আরো জানাগেলো, ইতিমধ্যেই এই একটি গাছের নিচে বসে থেকেই ভিক্ষুক সামাদের কেটে গেছে ৪৬ টি বছর। আলাপ চারিতার এক পর্যায়ে সামাদ আরো জানান, এ গাছ তলায় বসার আনুমানিক প্রায় ১১/১২ বছর পরই সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরি মাঝেই তার একটি মেয়ে ও একটি ছেলে রয়েছে তবে ইতিমধ্যেই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন আর ছেলেটির বয়স এখন ১৯/২০ বছরের মতো। সামাদ আরো জানান, আমাকে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন চালক, যাত্রী সহ সব ধরনের লোকজনই খুবই ভালবাসেন। বিশেষ করে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাস, সিএজি ও মোটর সাইকেল চালকরা তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে হলেও এ গাছ তলায় তাদের গাড়ী দাড়িয়ে আমার হাতে টাকা তুলে দেন আর আমি তাদের দেয়া ঐ টাকা দিয়েই আমার সংসার চালানো সহ ইতিমধ্যে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি এবং সংসারটিও অনেকটা গুছিয়ে নিয়েিেছ।