Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮

নওগাঁয় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে বিপাকে

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৬
অনিয়ম, অর্থ বাণিজ্য, আইন- আদালত, জাতীয়, নওগাঁ
No Comment

naogaon_leather_pic_15-09-161
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: ঈদুল আজহায় কোরবানী ঈদে প্রতি বছরের ন্যায় নওগাঁয় উল্লেখযোগ্য পরিমান চামড়া বেচাকেনা হলেও এবারের চিত্র ভিন্ন। গ্রামাঞ্চল থেকে উচ্চ মুল্যে চামড়া কিনে লোকশান গুনতে হচ্ছে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। অনেক নিঃস্ব হয়ে সর্বশান্ত হয়ে গেছে। চামড়া ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে নওগাঁয় চামড়ার দাম ধ্বস নামিয়েছে এবং মৌসুমী ব্যবসায়ীদেরকে সর্বশান্ত করেছেন। চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, তারা সরকার ও ট্রেনারী মালিকদের বেধে দেয়া দামের চেয়েও বেশী দামে চামড়া কিনছেন। তাদের অভিযোগ, চামড়ার দাম না বাড়ালে দেশের এই মুল্যবান চামড়া ভারতে বেশী দাম থাকায় পাচার হবে। পাচার ঠেকাতে নওগাঁর পুলিশ ও বিজিবি ব্যাপক তৎপর রয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর ঈদুল আজহার দিনে কোরবানীর পশুর চামড়ার বিশাল বাজার বসে নওগাঁয়। শহরের বিভিন্ন এলাকা ও গ্রামাঞ্চল থেকে চামড়া কিনে এনে বিক্রির জন্য ভীড় করে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বিগত বছরের তুলনায় এবারে চামড়ার দাম ট্যানারী মালিকরা কম নির্ধারণ করায় নওগাঁয় চামড়া কিনে লোকশানের মুখে পড়েছে মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, গ্রামের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতি গরুর চামড়া ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা করে কিনে এনে নওগাঁ শহরে বিক্রি করছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, খাসীর চামড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা করে কিনে এনে ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করছে।
নওগাঁর চামড়া ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করার কারনে এই অবস্থা তাদের। তারা সর্বশান্ত ও নিঃস্ব হয়ে গেছে। তাদের ধারনা, চামড়ার বেশী দামে না কিনলে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে বেশী দাম হওয়ায় চামড়া পাচার হবে বলে আশা করছেন শতভাগ।
জেলা চামড়া ব্যবসায়ী মালিক গ্রুপের সভাপতি মোমতাজ উদ্দীন জানান, তারা কোন সিন্ডিকেট করে চামড়া কিনছেন না। তারা উন্মুক্ত বাজারে চামড়া কিনছেন। তারা সরকার ও ট্রেনারী মালিকদের বেধে দেয়া দামের চেয়ে উচ্চ মূল্যে চামড়া কিনছেন। তিনি আরও জানান, লাইসেন্সধারী চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে লবনজাত করে দেশের বিভিন্ন স্থানে চিটাগাং, নাটোর, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে থাকি। লাইসেন্সধারী চামড়া ব্যবসায়ীরাও মৌসুমী ব্যবসায়ীদের সাথে একই আশংকা প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন, ভারতের বাজারে চামড়ার দাম বেশী আর ট্যানারী মালিকদের বেধে দেয়া দাম কম হওয়ায় পাচার হওয়ার স¤^বনা আছে। পাচার যাতে না হয় সেজন্য সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তিনি।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোঃ মোজাম্মেল হক বিপিএম, পিপিএম জানান, ভারতে যেন চামড়া পাচার না হয়, সেজন্য পুলিশের প্রতিটি ইউনিটকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় পুলিশের বেশী নজরদারী বাড়ানো হয়েছে। চামড়াবাহী গাড়ীগুলিকে সীমান্তের দিকে যেতে দেয়া হচ্ছে না। সীমান্তের দিকে কোন চামড়াবাহী গাড়ী যেতে না পারে সেজন্য পুলিশ বিজিবিকে নিয়ে কোন ক্রমেই দেশের সম্পদ এই মুল্যবান চামড়া অন্যদেশে পাচার না হতে পারে সেজন্য নিশ্চিত করছেন বলে জানান তিনি।
নওগাঁর ৪৩ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল জাহিদ হাসান, পিবিজিএম, জি+ জানান, কোরবানীর পশুর চামড়া দেশের অর্থনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ন। এই চামড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। চামড়া পাচার যাতে না হয় শিল্পমন্ত্রীর নির্দেশে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে আইন শৃংখলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। সীমান্তের ৮ কিলো মিটারের মধ্যে কোন মজুদ বা ক্রয় বিক্রয় না হয় সেজন্য বিজিবি সর্তক রয়েছেন। সীমান্তবর্তী সবগুলো রুটে চেক পোষ্ট বসিয়েছে। এই চেকপোষ্ট থাকবে ঈদের দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানান ৪৩ বিজিবির অধিনায়ক।
চামড়া শিল্পকে টিকে রাখা এবং চামড়া ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচানোর জন্য সরকারী ট্যানারী মালিকদের বেধে দেওয়া চামড়ার মূল্য অবিলম্বে পূণঃ নির্ধারনের দাবী জানান নওগাঁর চামড়া ব্যবসায়ীরা।