Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নওগাঁয় মাদক সেবনের আখড়া একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গন

naogaon-pic-4
জি এম মিঠন, উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি: শিশুর হাতে ফেন্সিডিলের বোতল…। নাম রাকিব হোসেন (ছন্দ নাম ) ৭ অথবা ৮ বছর তার বয়স। তার হাতের পলিথিন ব্যাগেই অন্নান্ন খেলনার সাথে খেলনা হিসেবে রেখেছে ভারতীয় মরন নেষা ফেন্সিডিলের খালি বোতল। অতপরঃ এ শিশুর দেয়া তথ্যে বেরিয়ে এলো মাদক সেবনকারীদের কাছে নিরাপদ একটি মাদক স্পটের ঠিকানা। সেইও আবার কোমলমতি শিশুদের বিদ্যাপিঠ একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পাঙ্গনকেউ মাদক সেবনের স্পট পরিনত করেছে মাদক সেবীরা। হাঁ-এমনই এক ঘটনা ঘটেছে নওগাঁয়।
৯ ডিসেম্বর শুক্রবার সময় দুপুর ১২ টারদিকে নওগাঁর নওহাটা বাজার বাস ষ্ট্যান্ড এক বৃদ্ধা মহিলার সাথে গন্তব্যস্থানে যাওয়ার জন্য দাড়িয়ে ছিল শিশু রাকিব। এমন সময় অঙ্গাত এক যুবক ¯িপ্রড খাওয়ার পর খালি বোতলটি ফেলে দিলে বোতলটি কুড়িয়ে ব্যাগে তুলতে গিয়ে রাকিবের হাত থেকে ব্যাগটি পড়ে যাওয়ায় অন্নান্ন খেলনা ও বোতলের সাথে ফেন্সিডিলের খালি ৩টি বোতল বেড়িয়ে আসার দৃশ্যটি প্রতিবেদকের নজর কারে। এসময়ই শিশু রাকিব এর সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। রাকিব জানায়, সে তার দাদীর সাথে নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে স্কুলে খেলার সময় বোতল গুলো কুড়িয়ে নিয়েছে খেলার জন্য। এসময় বোতল গুলো যে নেশা মাদকদ্রব্যর এমন কথা প্রতিবেকর কাছে থেকে শোনার সাথে সাথেই শিশুটির দাদী পরিচয়দানকারী মহিলা বোতল ৩ টি নিয়ে ফেলে দেয়। বোতল ফেলে দেয়ার রাগেই শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে জানায়, নানার বাড়ির স্কুলে মেলা বোতল আছে। কোমলমতি এ শিশুর দেয়া তথ্য অনুসন্ধানে নওগাঁর পতœীতলা উপজেলার ডাশনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে অবুঝ শিশুর দেয়া তথ্য যে মিথ্যা নয় সেটাই প্রমান হলো। এল.জি.ডি পতœীতলার বাস্তবায়নে ১৯৯৪ ইং ও ২০০৫-২০০৬ ইং সালে নির্মিত পাশাপাশি দুটি ভবন নিয়ে ৭৪ নং ডাশনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়ের সামনে মাঠে লাগানো ঈদগাহ মাঠ। বিদ্যালয় ভবনের গায়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে রং দিয়ে লেখা রয়েছে ( ক্লাসের সকলেই আমরা বন্ধু ) আমি ছেড়া কাগজ বিস্কুটের প্যাকেট নির্ধারিত ময়লার ঝুড়িতে ফেলি সহ বিভিন্ন বানী। এর পরই দুটি ভবনের মাঝে অবস্থিত পরিত্যাক্ত প্রসাব খানা ও লাক্টিন সহ ভবনের পিছনের চিত্র দেখেই মনে হলো এযেন মাদক সেবিদের কাছে মাদক সেবনের একটি নিরাপদ স্পট। কোমলমতি শিশুদের বিদ্যাপিঠ এ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যাক্ত প্রসাব খানা ও লাক্টিন এই পড়ে রয়েছে একশত ও বেশী ফেন্সিডিলের বোতল। এছাড়া বিদ্যালয়ের আশে-পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে আরো কয়েকশত বোতল। এসময় নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানিয় একজন জানান, এলাকার কয়েক জন প্রভাবশালী যুবক ফেন্সিডিল কেনাবেচা করে প্রকাশ্যে। ঐ যুবকরা উগ্র-হওয়ায় তাদের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনা। প্রতিদিন দুপুর থেকে সন্ধা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে ফেন্সিডিল সেবনের জন্য সেবনকারীরা মোটর সাইকেল নিয়ে এলাকায় অবাধে বিচরন করে এমনকি স্কুল চলাকালিন স্কুলের পিছনে কেনাবেচা ও সেবন কারবার প্রকাশ্যেই চলে বলেও সে জানিয়েছে।
এব্যাপারে ডাশনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রেজাউল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে, প্রসাব খানা ও লাক্টিনে প্রচুর পরিমান ফেন্সিডিলের বোতল পড়ে থাকার কথা শিকার করে বলেন, স্কুল বন্ধ থাকা কালে রাতে মাদক সেবিরা খাওয়ার পর এগুলো ফেলে যায়। স্কুল এলাকা মাদক মুক্ত করার জন্য এলাকার লোকজনকে মাদক বিরোধী সচেতন করে গড়ে তোলার লক্ষে কাজ করা হচ্ছে বলেও তিনি প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন।