Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নওগাঁয় বোরো চাল সংগ্রহ, চালকল মালিকদের ক্ষোভ

মে ৯, ২০১৮
উন্নয়ন সংবাদ, কৃষি, নওগাঁ
No Comment


নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় উৎপাদনের চেয়ে সরকারি গুদামে বোরো চাল সংগ্রহের বরাদ্দ কম হওয়ায় স্থানীয় চালকল মালিকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সরকারের ধান-চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে বরাবরই নওগাঁর জেলার মানুষ বৈষম্যের শিকার হন। অন্যান্য জেলায় উৎপাদন কম হওয়া সত্তে¡ও সেখান থেকে বেশি করে ধান-চাল সংগ্রহ করে।
বুধবার নওগাঁ সদর উপজেলায় বোরো চাল সংগ্রহ অভিযান উপলক্ষে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চালকল মালিকেরা এ অভিযোগ করেন। এদিন দুপুরে সদর উপজেলা খাদ্যগুদামে আনুষ্ঠানিকভাবে চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন সদর আসনের সাংসদ আব্দুল মালেক।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় সূত্র থেকে জানা যায়, এই মৌসুমে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খাদ্য বিভাগ ৩৮ টাকা কেজি দরে জেলায় মোট ৪৩ হাজার ২ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় সংগ্রহ করা হবে ১৯ হাজার ৭১৭ মেট্রিক টন। সরকারি গুদামে চাল সরবরাহে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তির শেষ হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। চাল সংগ্রহ অভিযান চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
নওগাঁয় চলতি মৌসুমে বোরো চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলার অন্যতম চাল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেলকন কোম্পানী লিমিটেডের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেনকে নওগাঁ সদর উপজেলা খাদ্যগুদামে ২০ মেট্রিক টন চাল সরবরাহের জন্য ওজনমান মজুদ সনদ প্রদানের মধ্যে দিয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি সাংসদ আব্দুল মালেক।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুস সালাম, সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাজের হাসান, সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দুলাল উদ্দিন খান, জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার, যুগ্ম-সম্পাদক মোতাহার হোসেন, সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত চালকল মালিকেরা জেলায় উৎপাদনের তুলনায় চাল সংগ্রহ অভিযান কম হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং চাল সংগ্রহের চুক্তির মেয়াদ আরও কিছু দিন বাড়ানোর দাবি জানান।
জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, ‘আয়তনে বড় জেলা এবং ধান-চাল উৎপাদনের দিক দিয়ে দেশের অন্যতম জেলা হওয়ার পরেও সরকারের ধান-চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। উদাহরণ হিসেবে পাশ্ববর্তী বগুড়া জেলা আয়তনে নওগাঁর সমান এবং সেখানে নওগাঁ চেয়ে চালকল সংখ্যা অনেক কম। তারপরেও বগুড়া থেকে নওগাঁর চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশি চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। এটা একধরণের চরম বৈষম্য।’
জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের ধান-চাল সংগ্রহের ওপর অনেকক্ষেত্রে বাজারে ধানের দাম কত হবে তা নির্ধারণ করে থাকে। সরকার যত বেশি চাল সংগ্রহ করবে মিলাররা কৃষকদের কাছ থেকে তত বেশি ধান সংগ্রহের জন্য আগ্রহ দেখাবেন। এত কৃষকেরা ধানের দাম ভালো পাবেন।’
বেলকন অটোমেটিক রাইস মিলের মালিক বেলাল হোসেন অভিযোগ করেন, ‘নওগাঁর খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাছে সঠিকভাবে তথ্য উপস্থাপন করতে না পারায় বারবার বৈষম্যের শিকার হচ্ছে নওগাঁর মানুষ। আবার অনেকক্ষেত্রে যেটুকু বরাদ্দ পাক না কেন-সেটা আবার অনিয়ম করে সঠিকভাবে মিলার কিংবা সাধারণ মানুষদের বন্টন করা হয় না। ’
এসব অভিযোগ এবং বক্তব্যের জবাবে নওগাঁ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে আমি সঠিকভাবেই তথ্য উপস্থাপন করি। এখন অন্যান্য জেলার কর্মকর্তারা যদি উৎপাদন বেশি দেখিয়ে বরাদ্দ বেশি আদায় সেক্ষেত্রে আমার কিছু করার নেই। আর মিলারদের সঙ্গে চুক্তিতে অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
চালকল মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানে থেকেই মুঠোফোনে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সদর আসনের সাংসদ আব্দুল মালেক খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি বলেন, নওগাঁয় চাল সংগ্রহের বরাদ্দ আরও বাড়ানোর জন্য ডিজি প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন। চুক্তির মেয়াদ আরও কিছু দিন বাড়ানোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে নির্দেশ দেন।