Pages

Categories

Search

আজ- সোমবার ১২ নভেম্বর ২০১৮

নওগাঁয় বরেন্দ্র অফিসের তালগাছ ইটভাটার কবলে হুমকির মুখে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ

ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৮
অনিয়ম, নওগাঁ, পরিবেশ
No Comment


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: সরকারি ভাবে বর্তমানে দেশে রোপন করা হচ্ছে তালগাছের বীজ আর অপরদিকে ইট ভাটার আগুনে ও জায়গা বৃদ্ধি করার জন্য নষ্ট করা হচ্ছে রোপনকরা তালগাছ। শুধু তালগাছই নয় হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ।

নওগাঁর বদলগাছীতে জমির টপ সয়েল পুড়ছে ইটভাটার আগুনে হুমকির মুখে পড়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ। উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের বদলগাছী-আক্কেলপুর সড়কের সেনপাড়া নামক স্থানে রাস্তা ঘেষে ইটভাটা নির্মাণ করা হয়েছে অবৈধভাবে একাধিক ইট ভাটা আর এই রাস্তার পাশে বরেন্দ্র কর্র্তৃপক্ষের রোপন করা তালগাছ উপরে ফেলে ইটভাটার মাটি ভরাট করায় যানবাহন চলাচল ও পথচারিদের ব্যাপক সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এলাকাবাসী বলেন রাস্তার ধার ও বসত বাড়ী সংলগ্ন এই ইটভাটার কালো ছাই ও ধোঁয়ার কারণে প্রায়ই সময় অসুস্থ হয়ে পড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন আমাদের শ্বাস কষ্টের কারণে ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার বলছেন নি:শ্বাসের সঙ্গে ভাটার ধুলাবালি বা ধোঁয়ার কারণে এই সমস্য গুলি বেশী হয়। স্থানীয় কয়েক জন কৃষক বলেন শুধু মানুষই নয় আগে আমাদের যে জমি থেকে ১৮-২০ মন সবজি পেতাম এখন জমির পার্শ্বে ইট ভাটা হওয়ার কারণে ফলন ১০-১২ মনে কমে এসেছে। এছাড়া আশেপাশের আম, কাঠাল সহ বিভিন্ন ফলদ গাছেরও প্রচন্ড ক্ষতি হচ্ছে। জমির উর্বর শক্তিকে ইটভাটার আগুনে পোড়ানো হচ্ছে নির্বিচারে। এই ইটভাটায় ইট প্রস্তুত করার জন্য ৩ ফসলি জমির উর্বর টপ সয়েল কেটে তোলা হচ্ছে। এতে করে জমিগুলো তার ফসল ফলানোর ক্ষমতা স্থায়ী ভাবে হারিয়ে ফেলতে বসেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার হাসান আলী বলেন, জমির টপ সয়েল ৬ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে। কেউ যদি জমির ৬ ইঞ্চি মাটি কেটে নেয় তাহলে জমির উর্বরতা কমে যাবে যার কারণে জমির ফলনও কম হবে। ফলে জমির স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে ৫-৭ বছর সময় লাগে। তাছাড়া আম কাঁঠাল সহ বিভিন্ন ফলদ গাছের পাতা কুকড়ে যাচ্ছে যার ফলে ফলন কম হচ্ছে।

নীতিমালা তোয়াক্কা না করে উপজেলার বদলগাছী-আক্কেলপুর রাস্তা ঘেষে খাঁন ব্রিকিস ইটভাটায় ব্যাপক হারে পোড়ানো হচ্ছে জ্বালানী হিসাবে কয়লার পরিবর্তে কাঠ ও সোয়াবিনের গাদ যার গন্ধে এলাকার মানুষের বসত বাড়ীতে থাকায় কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

এব্যাপারে সেনপাড়া গ্রামের জগন্নাথ, অনিকা, হরিশ চন্দ্র, গীতিকা, ববিতা, আরতী সহ অনেকে জানায় এই ইটভাটার কালো ধুয়া ও সোয়াবিনের গাদের গন্ধে বাড়িতে থাকা কষ্টকর হয়ে যায়। এমনকি ঘরের জানালা দরজা খুলতে পারছি না।

খাঁন ব্রিকস এর ভাটার মাটি পাকা রাস্তার ধারে বরেন্দ্র অফিসের রোপনকৃত তাল গাছ উপরে ফেলে মাটি ভরাট করছে এতে যানবাহনসহ জন সাধারনের চলাচলের সমস্যর সৃষ্টি হচ্ছে।

ভাটার প্রোপাইটর মোঃ ছামছুল আলম খাঁনকে মোবাইল ফোনে না পেয়ে তার বড় ভাই মোঃ আজিজুল হক এর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন সোয়াবিনের গাদ আমরা একা পুড়ছি না অনেকেই পুড়ছেন। তালগাছ উপড়ে ফেলার বিষয়ে তিনি বলেন আমি এখন অসুস্থ্য পরে আপনাদের সংগে কথা বলব।

বরেন্দ্র অফিসার মোঃ হারুনুর রশিদ বলেন ওই রাস্তার পাশে তাল গাছ আমাদের রোপনকৃত। আমি বিষয়টি জেনেছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুম আলী বেগ বলেন, আমি প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা করে যাচ্ছি নিয়ম বর্হিভূত কোন ইট ভাটা বদলগাছীতে না রাখার জন্য। জমির টপ সয়েল যেন ভাটার মালিকরা নষ্ট না করে সেই বিষয়ে আমি প্রশাসন পক্ষ থেকে প্রদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।