Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নওগাঁয় বন্য পরিস্থিতি’র চরম অবনিত, ৫০ হাজার লোক পানি বন্দি

জি এম মিঠন, উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি: নওগাঁ’র মান্দা উপজেলায় আত্রাই নদীর দু’টি স্থানে মুল বাঁধ এবং ৬টি স্থানে বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে ৯টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ছোট যমুনা নদীর ফ্লাড ওয়ালের আউটলেট দিয়ে পানি প্রবেশ করে নওগাঁ শহরের বিভিন্ন এলাকায় এক থেকে দেড় ফুট পানির নীচে তলিয়ে গেছে। জেলায় বন্যা আক্রান্ত এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। প্রায় ৫০ হাজার বিঘা ফসলি জমির ফসল ক্ষতি হয়েছে। কয়েক হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। মান্দায় ৩০টি পয়েন্ট এখনও ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে।
মান্দা উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ নুরুজ্জামান জানিয়েছেন মান্দা উপজেলায় আত্রাই নদীতে কমপক্ষে ৮টি পৃথক স্থানে ভেঙ্গে গেছে। এর মধ্যে বুড়িদহ সুজনসখি ঘাট এবং চকমারপুর নামকস্থানে মুল বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। অপরদিকে পার নুরুল্যাবাদ, চকরামপুর, চকবালু, কয়লাবাড়ি ও কয়াপাড়া কলেজ মোড়ে বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে সোমবার দুপুর ১২টায় আত্রাই নদীর পানি ধামইরহাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১৮০ সেন্টিমিটার, আত্রাই পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার, মান্দা পয়েন্টে বিপদসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ও মহাদেবপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার এবং ছোটযমুনা নদী নওগাঁ পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মান্দায় নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ৩০টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আতঙ্কে রয়েছেন বন্যা কবলিত এলাকার লাখ লাখ মানুষ। বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে ঘরবাড়ি ও ফসল ডুবে যাওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অবহেলাকেই দায়ি করছেন স্থানীয় ও ভুক্তোভ’গীরা।
বর্তমানে অসহায় পরিবার গুলো বিশ্ব বাঁধে, স্কুলে ও উচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোন সরকারী সাহায্য বা ত্রাণ তাদের কাছে না পৌছায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এসব ভাঙঙ্গনের ফলে উপজেলার কুসুম্বা, নুরুল্যাবাদ, বিষ্ণপুর, কালিকাপুর, প্রসাদপুর, ভারশো, তেতুলিয়া, ভালাইন, মান্দা সদর ও কশব ইউনিয়নের বিস্তিীর্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার বাড়িঘর এবং ফসলের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষয় ক্ষতির তালিকা প্রস্তত করতে প্রশাসন পদক্ষেপ গ্রহন করেছে। মান্দা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জরুরী সমন্বয় সভা ডেকেছে। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহাঃ ইমাজুদ্দিন প্রামানিক এবং জেলা প্রশাসক ড. মোঃ আমিনুর রহমান এই সমন্বয় সভায় অংশগ্রহন করেন। এদিকে ছোট যমুনা নদীর ফ্লাডওয়ালের আউটলেট গুলো দিয়ে শহরে পানি ঢুকে পড়েছে। এর ফলে শহরের ডিগ্রির মোড়, বিহারী কলোনী, উকিলপাড়া, জেলা প্রশাসকের বাসভবন, পুলিশ সুপারের বাসভবন, পুরাতন কোর্ট এলাকা, জেলা পরিষদের ডাকবাংলো, সুপারীপট্টি, কালিতলা, পার নওগাঁ এলাকায় এক থেকে দেড় ফুট পানির নীচে। উকিলপাড়া সড়ক, কাচাড়ী সড়ক, কেডি’র মোড় থেকে মুক্তির মোড় সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক ড. মোঃ আমিনুর রহমান বলেছেন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোর তালিকা তৈরীর কাজ চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হবে।