Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নওগাঁয় চালের বাজার দর অস্থিতিশীল বিপাকে সাধারণ মানুষ

এপ্রিল ২৭, ২০১৭
অর্থ বাণিজ্য, নওগাঁ
No Comment

আব্দুর রউফ রিপন,  নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় অস্থিতিশীল রয়েছে চালের বাজার দর। ধান-চালের পাইকারী বৃহৎ মোকাম নওগাঁয় প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় সরু চালে দেড়শ থেকে দুইশ টাকা বেড়েছে। প্রকার ভেদে মোটা চালে বেড়েছে একশ থেকে দেড়শো টাকা পর্যন্ত। গত ৩ মাস ধরেই চালের বাজার অস্থিতিশীল রয়েছে। নতুন ধানের চাল বাজারে না আসা পর্যন্ত দাম কমবে না বলে জানালেন চাল ব্যবসায়ীরা।

মওসুমের শুরু থেকে কয়েক দফায় চালের বাজার দর বৃদ্ধি পাওয়ায় অটোমেটিক রাইচ মিলারদের দায়ী করছেন সাধারন চাল ব্যবসায়ী ও ছোট মিলাররা। একইসাথে চালের বাজার দরের এ অবস্থাকে অশনি সংকেত বলে শংকা প্রকাশ করেছেন তারা।

তারা অভিযোগ করে বলেন, অটো মিলাররা ধানের অবৈধ মজুদ গড়ে তুলে সিন্ডিকেট করে দর বৃদ্ধি করেছেন। তবে মিলাররা প্রতিবারই ধান সংকটের অজুহাত দিয়েছেন।

রবিবার নওগাঁর পাইকারী মোকামে খোঁজ নিয়ে যানা গেছে, ভাল মানের প্রতি ৫০ কেজি জিড়া শাইল বা মিনিকেট চাল দুই হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য জাতের ভাল মানের সরু চাল বিক্রি হয়েছে, দুই হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। আর প্রকার ভেদে পাইজাম নাজির শাইল চাল প্রতি ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হয়েছে দুই হাজার ৭০০ টাকা থেকে দুই হাজার ৮৫০ টাকা পর্যন্ত।
এছাড়া স্বর্না, গুটি স্বর্না, বিআর আঠাশ ও বিআর ২৯ জাতের ভাল মানের চাল বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৯০০ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত।

নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার সাধারন চাল ব্যবসায়ী মতিউর রহমান ও হাসকিং বা ছোট মিলার মোস্তফা জানান, মওসুম শুরুতেই হাট থেকে তরিঘরি করে অটো মিলাররা ধান কিনে নিজেদের গুদামে মজুদ গড়ে তুলেছেন। সুযোগ বুঝে তারা হাটে ধান সংকটের অজুহাতে দফায় দফায় সিন্ডিকেট করে চালের বাজার দর বৃদ্ধি করছেন।

এদিকে কয়েক দিনের মধ্যেই বোরো ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের দর বেঁধে দেওয়ার কথা রয়েছে খাদ্য বিভাগ থেকে। ঠিক তার আগে বাজারে অস্থিরতা তৈরী করে সরকারী দর বেশী পাওয়ার আশা করছেন মিলাররা। এ ভাবে সরকারী পর্যায়ে চালের বাজার দর বৃদ্ধির প্রবনতা আগেও দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারী ভাবে বেশী দরে ধান চাল কেনায় গেল মওসুম জুড়েই চালের বাজার দরে অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। ফলে এবারো বেশী দর বেঁধে দেওয়া হলে এ অবস্থার পরিবর্তন আসবে না। এটিকে অশনি সংকেত উল্লেখ করেন তারা।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা চাল কল মালিক গ্রæপের সাবেক সভাপতি তৌফিকুল ইসলাম বাবু জানান, ধান সংকটের কারনে চালের বাজারে মিল গেটে কেজি প্রতি এক থেকে দেড় টাকা বেড়েছে। তবে সেটি অ-স্বভাবিক নয়। প্রতি বছরই এই সময় ধান চালের বাজার দরে কিছুটা অস্থিরতা তৈরী হয়।
তিনি বলেন, আমন মওসুমে কৃষকের কাছ থেকে সরকার ধান কেনায় শুরু থেকেই স্থানীয় হাটগুলোতে ধানের বাজার দর উর্দ্ধগতি ছিলো। শেষ দিকে এসে ধানের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ধানের অবৈধ মজুদ গড়ে তোলার বিষয়টি সত্য নয় দাবি করেন তিনি।
তবে বোরো মওসুমের নতুন ধান আসার আগে চালের দর না কমলেও আর বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চাল কল মালিক সালাউদ্দিন খান টিপু জানান, বাজারে ধান সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে ধান কিনতে হচ্ছে। ফলে চালও বেশি দামে বিক্রয় করতে হচ্ছে।
ধাণ্য ও চাউল আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমিতি সভাপতি নিরোদ বরণ সাহা চন্দন জানান, ভারতে চালের দাম বেশি, আমাদের স্থানীয় বাজারে ধানের দাম বেশি এবং সরকারের চাল সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হওয়ার কারণে হঠাৎ করে বাজারে চালের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।