Pages

Categories

Search

আজ- রবিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৮

নওগাঁয় আমন ধান ক্ষেতে বাদামী ফড়িং পোকার আক্রমণ

অক্টোবর ২৪, ২০১৬
আজকের প্রধান খবর, কৃষি, জাতীয়, নওগাঁ
No Comment
?

?

জি এম মিঠন, উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলা সদর ও উপজেলার কিছু এলাকা সহ জেলার পোরশা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় আমন ধানের ক্ষেতে বাদামী ফড়িং (কারেন্ট) পোকার আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পরেছেন কৃষকরা। কীটনাশক স্প্রে করেও কারেন্ট পোকা দমন করা না যাওয়ায় বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এ দিকে যে সব আমন ধান ক্ষেতে ইতিমধ্যেই কারেন্ট পোকার আক্রমণ শুরু হয়েছে সে সব ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা তাদের ফসল ঘরে তুলতে পারবেন না এমন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে তারা জানিয়েছেন। এতে লোকসানের গুণতে হবে এমনটি জানিয়েছেন কৃষকরা। তবে এ নিয়ে কৃষকদের সচেতন করতে কৃষি বিভাগ ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা অব্যহত রেখেছেন বলে কৃষি বিভাগ দাবি করেন।
কৃষি সম্প্রসারন সূত্রে জানা গেছে, আবহাওয়া ধান চাষে অনুকূলে থাকায় চলতি আমন মৌসুমে নিয়ামতপুরে ২৯ হাজার ২শ’ ৬০ হেক্টর ও পোরশায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান করা হয়। এর মধ্যে নিয়ামতপুরে আমন ধানের লক্ষ ছিল ২৮ হাজার ৭শ’ ৭৬ হেক্টর।
জানা যায়, এই দুই উপজেলার বিভিন্ন আমন ধান ভালো হলেও ধান পাকার শেষ সময় অর্থাৎ গত সপ্তাহের শুরু থেকে জমিতে কারেন্ট পোকার (বাদামী ফড়িং) আক্রমণে দেখা দিয়েছে। পোকার আক্রমণে ধান গাছের গোড়া নষ্ট হওয় যাওয়ায় ধান গাছের পাতা মরে যাচ্ছে। এদিকে কিটনাশক দিয়েও এই পোকা দমন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে ঘরে ধান তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক।
কৃষকরা জানিয়েছেন, বাদামী রং এর ফড়িং অর্থাৎ কারেন্ট পোকা হলো সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। এ পোকা ক্ষেতে একবার আক্রমণ করলে দ্রুত পুরো মাঠে ছডায় যেতে পারে। এই পোকা মূলত প্রথমে ধানের গোড়া কেটে দেয়। এতে ধানের মাথা সাদা হয়ে মরে যায়। ধানের ফলন না হয়ে চিটা হয়ে যায়।
নিয়ামতপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বর্ণা জাতের ধান ১৯ হাজার ৫শ’ ৮৫ হেক্টর, ব্রি-৩৪ জাতের ধান ২ হাজার ৪শ’ ২২ হেক্টর, ব্রি-৪৯ জাতের ধান ১ হাজার ৫শ’ ২০ হেক্টর, ব্রি-৫১ জাতের ধান ১ হাজার ৪শ’ ৮৫ হেক্টর, ব্রি- ৫৬ জাতের ধান ৩২ হেক্টর, ব্রি-৫৭ জাতের ধান ১৫ হেক্টর, ব্রি-৬২ জাতের ধান ২৭ হেক্টর, বিনা-৭ জাতের ধান ২শ’ ৫ হেক্টর, বিনা-৯ জাতের ধান ৪ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ৩ হাজার ৪শত ৬৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন ফসলি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৭৫ ভাগ কৃষক এবার স্বর্ণা জাতের ধান চাষাবাদ করেছেন। উপজেলার মাকলাহাট, শিবপুর, খড়িবাড়ীহাট, বালাতৈড়, রসুলপুর হাজিনগর, কুশমইলসহ বিভিন্ন স্থানের আমন ক্ষেতের মাঠে প্রায় ৫শ’ বিঘা জমিতে এ পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর তুলনামূলক কম দেখা দিয়েছে।
নিয়ামতপুর উপজেলার শারবাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে ৯ বিঘা জমিতে স্বর্ণা জাতের ধান চাষাবাদ করেছেন। শুরুর দিকে ভাল থাকলেও শেষ সময়ে এসে তার ২ থেকে ৩ বিঘা জমিতে ধানের মাঝে বাদামী গাছ ফড়িং পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে ধানের গোড়ায় কেটে দেওয়ায় ধানের গাছ সাদা হয়ে মরে যাচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ছেন। একই ধরণের সমস্যর কথা জানালেন আব্দুল জব্বার, সবুজ হোসেন, আকবর রহমান, জালাল উদ্দিনসহ কয়েকজন কৃষক।
উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা শফিউল হক কান্টু বলেন, আমরা সুষ্ঠুভাবে আমন ধান যাতে কৃষকরা ঘরে তুলতে পারে তার সব রকমের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কৃষকদের সব রকমের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এবারে
উপজেলা কৃষি অফিসার আমির আব্দুল্লাহ ওয়াহেদুজ্জামান জানান, আমনে পোকা দমনে উপজেলা জুড়ে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সচেতন করতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এ পোকার বিস্তার আকার ধারণ করেনি। আশা কর হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক ফসল কৃষকরা ঘরে তুলতে পারবেন।
এদিকে পোরশার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের জালুয়া গ্রামের কৃষক মো: শহিদুল্লাহ, ইয়ার মোহাম্মদ, বদের মন্ডল, রমজান আলী, আবদুল আজিজ ও চাঁন মোহাম্মদসহ কয়েকজন কৃষক জানান, গত সপ্তাহের শুরু দিকে হঠাৎ করে অন্যান্যে কৃষকদের মতো তাদের জমিতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দেয়। রাতারাতি এই পোকা এক জমি থেকে অন্য জমিতে ছড়িয়ে পড়ছে।
গাঙ্গুরিয়া ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামের কৃষক আজগর আলী ও আব্দুল আলী, বাহারুল গ্রামের মইনুদ্দিন জানান, এই পোকা দিনে দেখা যায় না। রাতে অন্ধকারে এই পোকা ধানের গাছের গোড়া কেটে দেয়। দিনে আলোতে এই পোকা রেব না হওয়ায় কিটনাশক দিয়েও কোন কাজে আসছে না। এর ফলে এই পোকা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। এতে তাদের আমন ধানে লোকসান গুণতে হবে।
ঘাটনগর ইউনিয়নের মাসিমপুর গ্রামের কৃষক সায়েদ আলী, আল-মামুন ও পাঁচড়াই গ্রামের ১২/১৪ কৃষকের সাথে কথা হয়। তারা জানান, পোকার আক্রমণে তাদের ছাড়াও ইউনিয়নে আরো কৃষকদের প্রায় দেড়/দুইশ’ বিঘা জমির ধান অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। দিন দিন এই পোকার আক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষি বিভাগ বিভিন্ন পরামর্শ দিলেও এখন পর্যন্ত এই পোকার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। এই পোকার আক্রমণ ঠেকানো না গেলে ধানের ফলনে বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
উপজেলায় মাত্র ৭২ শতক জমিতে এই পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে দাবি করে পোরশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবার রহমান জানান, এ ব্যাপারে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ মাঠে গিয়ে সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। যাতে কৃষকরা তাদের ধান সঠিকভাবে ঘরে তুলতে পারেন।
অপরদিকে নওগাঁ সদর উপজেলার বলিহার ও মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর মাঠে আমন ধানের ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ভীমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জেজাউল করিম রাজা। তিনি বলেন, হঠাৎ করেই আমার নিজের আবাদী কিছু জমি সহ মাঠের কয়েকজন কৃষকের জমির আমন ধানের ক্ষেতে কারেন্ট পোকা আক্রমণ করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।