Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮

নওগাঁর সাবিনা এক জীবন সংগ্রামী নারী

মার্চ ২৩, ২০১৬
উন্নয়ন সংবাদ, এনজিও, নওগাঁ, ফিচার
No Comment

Naogaon_Sabina_Pic_02[1]
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর টাইপিষ্ট সাবিনা ইয়াসমিন জীবন চলার পথে এক অনন্য উদাহরণ। জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার লড়াইয়ে টাইপিংকে বেছে নিয়েছেন। নওগাঁ জজ কোর্টের বারান্দায় পুরুষ সহকর্মীদের পাশাপাশি টাইপিং করেন। আধুনিক ডিজিটাল যুগে টাইপ মেশিন এখন বিদায়ের পথে। টাইপ মেশিনের কাজ বন্ধ হয়ে গেলে টাইপিষ্টদের জীবন চাঁকা বন্ধ হয়ে যাবে। তখন একটি কম্পিউটার পেলে হয়তো একটি সংসার বাঁচবে।

নওগাঁ শহরের ইকড়তাড়া গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন। চার ভাই-বোনের মধ্যে সাবিনা তিন ন¤^র। ২০০৩ সালে বিয়ে হয় পাশের গ্রামে। সংসারের মধ্য দিয়ে পড়াশুনা চালিয়ে মাদ্রাসা থেকে ডিগ্রী (ফাজিল) পাশ করেন। এক মেয়ে সন্তানের জননী তিনি। কিন্তু ২০১০ সালে আদালতের মাধ্যমে তালাক হয়ে যায়। তারপর বাবার বাড়িতে মেয়ে ও মাকে নিয়ে বসবাস। মেয়ে সুমাইয়া এবার চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে।

সাবিনা জানান, তালাক প্রাপ্ত হওয়ার পর সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক খোজাখুঁজি করেও কোন কাজ পেলাম না। কোর্টের মহুরি নূরুল ইসলাম মামা পরামর্শ দেন টাইপিংয়ের কাজ করার জন্য। ২০১০ সালে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে তিন মাসের একটা কোর্স করলাম। টাইপিং শিখার পর সে বছরই বড় বোনের ¯^ামী ঢাকা থেকে দশ হাজার টাকা দিয়ে একটা টাইপ মেশিন কিনে দেন। কাজ করার মাধ্যম দিয়ে যে আয় হয় তা থেকে একটু একটু করে টাকা পরিশোধ করে দিলাম। প্রথমে কাজের একটু সমস্যা হতো। এ্যাডভোকেটদের লেখা তেমন বুঝতে পারতাম না। সহকর্মীদের কাছ থেকে দেখে নিতে হতো। লেখা এবং কাজের ধরণ বুঝতে এভাবে প্রায় তিন মাসের মতো লেগে যায়। প্রথমে কাজ তেমন না পেলেও ২শ থেকে ৩শ টাকা আয় হতো। এরপর আস্তে আস্তে কাজ বাড়তে থাকেল আয়ও বাড়তে থাকে। দিনে ৪শ থেকে ৫শ টাকার হতো। এভাবে প্রতিদিন চলে সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

তিনি আরো জানান, আদালত চত্বরে এখন কম্পিউটার দিয়ে কাজ করেছেন অনেকে। যারা কম্পিউটার দিয়ে কাজ করেন তারা দিনে প্রায় ৭শ থেকে ৮শ টাকা আয় করেন। যারা টাইপ মেশিন দিয়ে কাজ করে নিতেন তারা আর কাজ করে নিচ্ছেন না। ফলে কাজও কম হচ্ছে। চার বছরে মেশিন ৬বার ঠিক করতে হয়েছে। দিনে এখন ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ টাকার মতো কাজ হয়। এছাড়া ছুটির দিনগুলো আদালত বন্ধ থাকায় কাজ হয়না। তখন কিছুটা কষ্টে সংসার পার করতে হয়। সাবিনা জানান, টাইপিংয়ের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া কাজও কম হচ্ছে। যারা আগে কাজ করে নিতেন তারা এখন আর আসেন না। কম্পিউটার কিনলে তারা আবার কাজ দিতে চেয়েছেন। কম্পিউটারের কাজও মোটামুটি জানা আছে। কিন্তু এতো টাকা পাবো কোথায়। গরীব পরিবার এতো টাকা দিয়ে কম্পিউটার কিনতে পারছি না। কেউ যদি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিতেন।

নওগাঁ জেলা টাইপিষ্ট কল্যাণ সমিতির সভাপতি এরফান আলী জানান, আমাদের ১৯ জন সদস্যের মধ্যে সাবিনা মেয়ে। প্রথমে সদস্য ভর্তি এবং কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাকে সহযোগীতা করা হয়েছে। এখন কাজ একটু কমে গেছে টাইপিষ্টদের ক্ষেত্রে। আমাদের সদস্যদের মধ্যে অনেকেই কম্পিউটার দিয়ে কাজ করছেন।