Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নওগাঁর রাণীনগরে বিদ্যালয়ের মাঠ পানির নিচে নিমজ্জিত

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের সিম্বা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ পানির নিচে নিমজ্জিত থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলা-ধূলা ও জাতীয় সমাবেশ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে বছরের পর বছর। তবুও নজর নেই উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার খট্টেশ্বর রাণীনগর ইউনিয়নের সিম্বা গ্রামে অবস্থিত সিম্বা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শতবর্ষী এই বিদ্যালয়টি ১৮৮৫সাল থেকে এই অঞ্চলের মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মরহুম হুরমত আলী তৎকালীন সময়ে অবহেলিত এই অঞ্চলের মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নিজের প্রায় ৬০ শতাংশ জমি দান করে এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করেন। বিদ্যালয়ে দুই শিফটে প্রতিদিন প্রায় ১শত ৫৫জন শিক্ষার্থীরা পাঠ গ্রহণ করতে আসে। কিন্তু ঐতিহ্যপূর্ণ এই বিদ্যালয়টিতে এখনো আধুনিকতার কোন ছোঁয়াই স্পর্শ করেনি। কয়েক বছর পূর্বে একটি নতুন ১তলা ভবন নির্মাণ করা হলেও বিদ্যালয়ের একমাত্র মাঠটি বছরের ৯মাসই পানির নিচে নিমজ্জিত থাকে। যার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায় সারা বছরই খেলা-ধূলা ও জাতীয় সমাবেশ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। এতে করে শিক্ষার মনোরম পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এই কমলমতি শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়টি রাণীনগর-আবাদপুকুর সড়কের পাশে অবস্থিত। এই রাস্তার পাশ দিয়ে পার্শ্ববর্তি মাঠ থেকে পানি বের হওয়ার জন্য একটি ছোট খাল বয়ে গেছে। আর মাঠটি পার্শ্ববর্তি জমির মাঠ থেকে অনেক নিচু বলে সব সময় তা পানির নিচে নিমজ্জিত থাকে। বহুবার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিত ভাবে জানানোর ফলে একবার মাঠে মাটি দেওয়া হয় কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল বলে জানান বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা। তাই মাঠটি নিচু হওয়ার কারণে সব সময় পানি জমে থাকে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল অতি দ্রæত এই নিমজ্জিত মাঠকে মাটি দিয়ে ভরাট করে শিক্ষার্থী এবং এলাকার ছেলে-মেয়েদের খেলা-ধূলা করার জন্য আধুনিক মান সম্মত মাঠে পরিণত করতে সরকার এবং উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জড়ালো পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা: শেফালী আক্তার, মোছা: ছালমা বানু, মো: রকিব হাসানসহ অনেকেই জানায় বিদ্যালয়ের মাঠটি সারা বছর পানির নিচে নিমজ্জিত থাকার কারণে আমরা জাতীয় সমাবেশ করতে পারি না। অবসর সময়ে খেলা-ধূলা করতে পারি না। বিদ্যালয়ে এসে সারাক্ষণ ঘরের মধ্যে বন্দি হয়ে থাকতে হয়। আমরা বিদ্যালয়ে আধুনিক মানসম্মত একটি খেলার মাঠ চাই যেখানে বিদ্যালয়ে এসে অবসর সময়ে এবং বিদ্যালয় শেষে মনের আনন্দে বিভিন্ন খেলা খেলতে পারব।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা: মনোয়ারা খাতুন জানান, শতবর্ষী এই বিদ্যালয়টি খুবই অবহেলিত। বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীদের ঘরে বন্দি হয়ে একঘেয়েমী পরিবেশে পাঠ গ্রহণ করতে হয়। তারা খোলা মাঠে না পারে খেলতে আর আমরাও শিক্ষার্থীদের নিয়ে না করতে পারছি জাতীয় সমাবেশ। আনন্দবিহীন শিক্ষা কখনো শিশুর মেধাকে সঠিক ভাবে বিকশিত করতে পারে না। মাঠ না থাকার কারণে তারা মনের আনন্দে খেলা-ধূলা করতে পারছে না এতে শিক্ষার্থীরা আধুনিক মান সম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাই অতি দ্রæত বিদ্যালয়ের এই মাঠকে সংস্কার করা অতিব প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মজনুর রহমান জানান, এই ধরনের কাজগুলো সাধারনত উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে করা হয়। আমি এই বিষয়টি একাধিকবার উপজেলার পরিষদের বিভিন্ন সেমিনারে তুলে ধরেছি কিন্তু পরিষদের পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তবে আমি এখনো চেষ্টা করে যাচ্ছি এই মাঠটি সংস্কার করার জন্য।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোনিয়া বিনতে তাবিব জানান, বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কার করার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে এবং উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ এলেই এই মাঠের সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম আল ফারুক জেমস বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় উপজেলার বরাদ্দ খুবই কম। যার কারণে অনেক কিছু করতে চাইলেও তা করতে পারি না। আমি ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তাই কোন কিছু করতে না পারায় আমারও খুব খারাপ লাগে। আমার তবে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি প্রয়োজন মতো বরাদ্দ পেলেই মাঠের সংস্কার কাজ করবো।