Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮

নওগাঁর বিআরটিএ অফিসে যদি এমন সেবা মিলতো

জুলাই ২৩, ২০১৭
নওগাঁ
No Comment

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর পোরশা উপজেলা থেকে মোটরসাইকেলের নিবন্ধন করতে গতকাল রোববার নওগাঁ বিআরটিএ অফিসে এসেছিলেন আসাদুল ইসলাম। গাড়ির কাগজপত্র দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির নিবন্ধন নাম্বার পেয়ে যান তিনি। এই সেবা পেয়ে তিনি তো রীতিমত হতভম্ব।
তিনি বলেন, ‘বিআরটিএ অফিসের সেবা এবং দালালদের দৌরাত্ম সম্পর্কে অন্যদের কাজে খোঁজ-খবর নিয়ে আমার তো ধারণা ছিল কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর হয়তো এক বছর পর মোটর সাইকেলের নিবন্ধন পাব। কিন্তু নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত কোনো টাকা না দিয়ে এক দিনেই গাড়ির নিবন্ধন হয়ে যাবে এটা আমার কল্পনাতেই ছিল না।’
রোববার ছিল জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি সেবা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নওগাঁ সার্কেলের উদ্যোগে মোটরযান নিবন্ধন, শিক্ষানবিস ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেটসহ সকল কার্যক্রমের তৎক্ষণাৎ সেবা পায় সেবা গ্রহীতারা। নির্ধারিত কার্যালয়ে এই সেবা না দিয়ে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে বালুডাঙ্গা বাসস্টান্ড এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্প করে এই বিশেষ সেবা দেওয়া হয়। বেলা ১১টায় বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে এই বিশেষ সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক। বালুডাঙ্গা বাসস্টান্ড এলাকায় এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আ.ত.ম আব্দুল্লাহেল বাকী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নওগাঁ বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক এটিএম ময়নুল হাসান, নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি কায়েস উদ্দিন, মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা শফিউল আলম প্রমুখ।
আসাদুলের মতো মোটরযানের নিবন্ধন, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন ধরণের সেবা নিতে নওগাঁ বিআরটিএ আসা গ্রাহকেরা তৎক্ষণাৎ সেবা পেয়ে অনেকেই অবাক হওয়ার পাশাপাশি, খুশিও হয়েছেন। তারা জানান, এই ধরনের সেবা যদি সব দিন মিলতো, তাহলে বিআরটিএ অফিসে সেবা নিতে আসা মানুষদের আর ভোগান্তি পোহাতে হতো না। শুধু কোনো বিশেষ দিন না হয়ে দালাল কিংবা বিআরটিএ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতিরিক্ত টাকা না দিয়ে এবং কোনো প্রকার হয়রানি ছাড়াই এভাবে যেন সারা বছর সেবা দেওয়া হয় এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সেবা নিতে আসা গ্রাহকেরা।
বাসস্টান্ড এলাকায় বিআরটিএ বিশেষ সেবা ক্যাম্পে কথা হয় নিয়ামতপুর থেকে আসা মোস্তাফিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি বলেন, শিক্ষানবিস ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য ব্যাংকে নির্ধারিত টাকা জমা দেওয়ার পর আজ বিআরটিএ অফিসে গিয়ে জানতে পারি, শহরের বাসস্টান্ডে আজকে বিআরটিএর বিশেষ সেবা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে গিয়ে কাগজপত্র জমা দেওয়ার আধা ঘন্টা পরেই আমার শিক্ষানবিস ড্রাইভিং পেয়ে যাই। অথচ এখানে নাকি শিক্ষানবিস ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে কমপক্ষে ১৫ দিন সময় লাগে। আজকে না এলে হয়তো আমাকে এর জন্য অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো।
বিআরটিএ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৫৫টি মোটরযানের নিবন্ধন, ৮৫জনকে শিক্ষানবিস ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং নিবন্ধন ও ছবি তোলার জন্য অনলাইন সেবা পেয়েছেন ১৫০জন গ্রাহক তৎক্ষণাৎ সেবা পেয়েছেন।
নওগাঁ বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক এটিএম ময়নুল হাসান বলেন, ‘জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে এই বিশেষ সেবা দেওয়া হয়। তবে প্রতিদিনই আমরা জনগণকে এইভাবে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। তবে জনবল সঙ্কটের কারণে ইচ্ছে থাকলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী গ্রাহকদের সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না।’ এই অফিসে দালালের মাধ্যমে কিংবা অতিরিক্ত টাকা নিয়ে কাজ করার সুযোগ নেই। কারো বিরুদ্ধে এই ধরণের অভিযোগের সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।