Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

নওগাঁর বদলগাছীর বিভিন্ন পশুর হাটে লাগামহীন টোল আদায় প্রশাসন নিরব

সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৬
অনিয়ম, অপরাধ, আইন- আদালত, নওগাঁ
No Comment

Naogaon_Cawhhat_pics06_resized[1]

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: মাত্র আর কয়েক দিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। সেজন্য মহা সমারহে জমে উঠেছে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পশুর হাটগুলো। এ উপজেলায় পশুরহাট মাত্র দুইটি সোমবার গোবরচাপাহাট আর শুক্রবার কোলা হাট। সেজন্য প্রতিটি পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতায় গাদাগাদি,এক চুল পরিমান জায়গারও ফাঁকা নেই ,সমস্ত স্কুল মাঠ জুড়ে চারিদিকে শুধু গরু আর গরু। এমনকি জায়গা না থাকায় রাস্তাতেই গরু নিয়ে দাড়িয়েছে বিক্রেতারা। আর এই সুযোগে হাটের ইজারাদার সরকার নির্ধারিত খাজনার (টোল) চেয়ে বেশি খাজনা আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতা, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন। প্রশাসনের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও টাঙানো হয়নি সরকার নির্ধারিত সঠিক খাজনার মূল্য তালিকা।
সরেজমিনে গোবরচাপা ও কোলা হাটের সকল টোল আদায়ের স্থান ঘুরে দেখা গেছে, প্রশাসনের নির্দেশ সত্তে¡ও কোনো স্থানেই টাঙানো হয়নি সঠিক খাজনার (টোল) তালিকা। আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত টোল। শুধু ক্রেতার কাছ থেকে টোল আদায়ের নিয়ম থাকলেও বিক্রেতার কাছ থেকেও আদায় করা হচ্ছে।আর ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে তা নির্ধারিত খাজনার চেয়ে দ্বিগুণ পরিমান খাজনা আদায়েরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি ক্রেতাদের খরচের পরিমান আরও বাড়িয়েছে হাটগুলোতে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য । উপজেলা প্রানি সম্পদ এর অধীনে স্বাস্থ্য পরিক্ষা হলেও প্রতিটি গরুর স্বাস্থ্য পরিক্ষার জন্য নেওয়া হচ্ছে ১০০ টাকা করে।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা, এবার সরকার প্রতিটি গরুর জন্য ২০০ টাকা এবং খাসির জন্য ৭৫ টাকা খাজনার পরিমাণ নির্ধারিত করে দিয়েছে। অথচ সরকার নির্ধারিত খাজনার তালিকা না টাঙগিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ হতে আদায় করা হচ্ছে ইচ্ছে মত খাজনা। শুধু তাই নয় বিভিন্ন ‘ফান্ডের’ কথা বলেও টাকা আদায় করছেন ইজারাদারের লোকজন । ফলে পশু কিনতে আসা ক্রেতারা অতিরিক্ত খাজনা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
সোমবার গোবরচাপা ও শুক্রবার কোলা হাট ঘুরে চোখে পড়ে খাজনা আদায়ের এমন বিভিন্ন দৃশ্য।
সোমবার গোবরচাপা হাটে উপজেলার চাকলা গ্রামের নিজাম উদ্দীন ৪২০০০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু ক্রয় করেন। খাজনা বাবদ তাঁর কাছ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়া হয়। বিক্রেতা মুনজুর এর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে আরও ৩০ টাকা। খাজনা আদায়ের রশিদে সব তথ্য ঠিকঠাক মত লেখা হলেও খাজনার ঘরে টাকার কোনো পরিমাণ লেখা নেই।
ছাগল কিনতে আসা আক্কেলপুরের আমট্র গ্রামের জামাল উদ্দিন নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘৫ হাজার টাকায় একটি খাসি কিনেছি। এর জন্য ২০০ টাকা খাজনা দিতে হল। ৭৫ টাকা সরকারি রেটের জায়গায় নেওয়া হলো ২০০ টাকা। আবার রশিদে খাজনার টাকার পরিমানও লেখা নেই। হাটের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ঈদ সেলামির নাম করে আরও ২০ টাকা নিল।’
ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ইজারাদার ইচ্ছেমতো হাটের টোল বাড়ালেও স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তারা চোখ থেকেও যেন অন্ধ হয়ে বসে আছে। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ইজারাদার এ চাঁদাবাজি করছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।

গোবরচাপা হাটের ইজারাদার মো মাসুদ হোসেন এর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আমরা পূর্বের নির্ধারিত টোল বাতিল করে নতুন করে ৩০০টাকা ও ১৫০ টাকা টোল র্নিধারনের জন্য হাইকোটে রিট করেছি আর তারই পেক্ষিতে এখন টোল আদায় করা হচ্ছে। যা সম্পন্ন বৈধ।
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা র্নিবাহী অফিসার মোহাম্মদ হুসাইন শওকত এর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে এ পর্যন্ত কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করেনি তবে আগামি হাটগুলোতে আমি বিষযটি খতিয়ে দেখব, যদি কোন ইজারাদার অতিরিক্ত টোল আদায় করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।