Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নওগাঁর বদলগাছীতে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করনে পুকুরচুরি

অগাষ্ট ২৫, ২০১৬
অনিয়ম, অপরাধ, কৃষি, দূনীতি, নওগাঁ
No Comment

durniti

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর বদলগাছীতে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করনে পুকুরচুরি মত ঘটনা ঘটেছে। বাজার মূল্যে দ্বিগুন মূল্যে মাছ ক্রয় সহ বরাদ্দের চেয়ে কম পরিমান পোনা ছাড়া হয়েছে। আর এসব অনিয়ম হয়েছে মৎস্য কর্মকতা ও সরবরাহকারি উভয়ের যোগসাজসে বলে অনেকেই ধারনা করছেন।
জানা যায়, চলতি অর্থবছরে উপজেলার ৯টি জলাশয়ের জন্য মোট ৪২১ কেজি মৎস্যপোন অবমুক্ত করনের বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে উপজেলার আধাইপুর ইউপির বসনই বিলে ১৮৬ কেজি ও বাকি আটটিতে ২৩৫ কেজি। সে মোতাবেক আনুষ্ঠানিক ভাবে ১৮৬ কেজি পোনা অবমুক্ত করনের জন্য গত বুধবার সকালে বসনই বিলে নিয়ে গিয়ে অবমুক্ত করন করা হয়। অবশিষ্ট্য মাছ বিভিন্ন জলাশয়ে বিতরনের জন্য তিনটি ভটভটিতে করে মৎস্য অফিসের সামনে রাখা হয়।
এসময় সেখানে কি পরিমান মৎস্যপোন আছে তা জানতে চাইলে মৎস্যপোনাগুলোর প্রকৃত চাষি উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের সাগর মৎস খামারের মালিক সাগর হোসেনকে জিঙ্গাসা করলে তিনি বলেন, আমার তিন গাড়িতে মোট সাড়ে তিন মন অথ্যাৎ ১৪০ কেজি পোনা আছে। পরে মৎস্য অফিসার বসনই বিল হতে ফিরে এসে অবশিষ্ট্য পোনাগুলো বাকি ৮টি জলাশয়ের জন্য বিতরন করে। উপরুক্ত তথ্য মতে বসনই বিলে ১৮৬ কেজি ও তিন ভটভটিতে ১৪০ কেজি মোট ৩২৬ কেজি মৎস্য পোনা অবমুক্ত করা হযেছে । অথচ ৯ টি জলাশয় মিলে মোট ৪২১ কেজি মৎস্যপোনা ছেড়ে দেয়ার বরাদ্দ্য রয়েছে। অথ্যাৎ বরাদ্দের চেয়ে ৯৫ কেজি কম পোনা ছেড়ে দিয়ে বাকি টাকা পকেটে ভরাচ্ছেন সরবরাহকারি সহ মৎস কর্মকতা । এছাড়াও বাজার মূল্যের চেয়ে দ্বিগুন মূল্য দেখিয়ে মাছ ক্রয় করা হযেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান বাজারে রুই,মিরগা ও কাতলা যেই মাছ হোকনা কেন সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা কেজির বেশী লাগবেনা অথচ সেখানে ২৯০ টাকা সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ভাই ভাই মৎস্য খামারকে সরবরাহের দ্বাযিত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় মৎস্য ব্যাবসায়ি মিলন হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানা,বর্তমানে ১৩০ টাকা কেজি হলে রুই ,মিরগা, কাতলা যেকোন ধরনের পোনা দেওয়া সম্ভব। আর ২৯০ টাকা কেজি পোন ক্রয় মানে পুকুরচুরি ছাড়া অন্য কিছু নয়, আপনারা খোজ নিয়ে দেখুন এর লাভের ভাগ মৎস্য কর্মকতাও নিয়েছে।
এ বিষয়ে ভাই ভাই মৎস্য খামার এর প্রোপাইটর জয়নুল ইসলাম দোলন এর সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা কোন প্রকার কম পোনা দেয়নি যথারিতি ওজন করে নিজ নিজ এলাকার লোকদেরকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বদলগাছী উপজেলা মৎস্য কর্মকতা সুজিত কুমার মুন্সী এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের যেখানে যেই পরিমান মৎস্যপোনা ছেড়ে দেবার বরাদ্দ আছে সে পরিমানই পোনা দিয়েছি। কোন প্রকার কম পোন ছাড়া হয়নি। এছাড়া নিয়ম মোতাবেক সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ভাই ভাই মৎস্য খামারকে সরবরাহের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । বাজারে কি মূল্যে মৎস্য পোনা পাওয়া যাচ্ছে তা আমার জানা নেই।
উপজেলা র্নিবাহী অফিসারকে বিষয়টি অবহিত করে মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি অবশ্যই খতিয়ে দেখব এবং কোন অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।