Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮

নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর ইকরতারা বাঁধে ভাঙ্গন

অগাষ্ট ১৭, ২০১৭
নওগাঁ, প্রকৃতি
No Comment


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ নওগাঁ সদরের তিলকপুর ইউনিয়নের ইকরতারা নামক স্থানে বৃহস্পতিবার ছোট যমুনা নদীর মূল বাঁধে প্রায় দেড়শ ফুট ভেঙ্গে নওগাঁ সদর সহ বগুড়ার আদমদীঘির উপজেলার সান্তাহার সহ জেলার রাণীনগর ও আত্রাই প্লাবিত হওয়া শুরু করেছে।
এলাকাবাসী বাঁধের ভাঙ্গা স্থান মেরামত করার জন্য প্রানপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল এক পর্যায়ে পুলিশ ও বিজিবির সহায়তায় তারা সফল ও হয়েছিল কিন্তু বিকাল ৫টায় আবার বাঁধ ভেঙ্গে যায় এতে করে কয়েক লক্ষ হেক্টর জমির পাকা ও আধা পাকা রোপা আমন ফসল এখন পানির নিচে। স্থানীয় জেলা প্রসাশন সহ সংসদ সদস্যরা দফায় দফায় মিটিং করলেও বাস্তবে কোন পদক্ষেপ নেয়নি বলে এই জেলার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা কঠিন হবে বলে শতাধিক পানি বন্দি মানুষ জানায়। ভাঙ্গন সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে স্থানীয়রা নিজ উদ্যেগে ভাঙ্গন আটকাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভাঙ্গন স্থানে প্রশাসনের কেহ না থাকলেও রাতজেগে পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে বলে অনেকে জানান। আত্রাই নদীর পানি এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিপদ সীমার ২১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহীত হচ্ছে। অপর দিকে নওগাঁ সদরে প্রবাহিত ছোট যমুনার শাখা নদী তুলশী গঙ্গার বেড়ি বাঁধে ৩টি স্থানে ঝুঁকি পূর্ন অবস্থায় আছে। এছাড়া নওগাঁ সদরের তিলকপুর ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামের কুমার ঘাটি নদীর বাঁধের অবস্থা ভয়াবহ হলেও স্থানীয় জেলা প্রশাসনের কোন নজর দারী নাই। এ কারনে যে কোন সময় বাঁধটি ভেঙ্গে যাবার সম্ভাবনা আছে। পানি বন্দি অনেকে অভিযোগ করে বলেন ৩দিন ধরে আমরা পানি বন্দি থাকলেও জেলা প্রশাসনের পক্ষে এখন পযন্ত কোন ত্রান সমগ্রী পৌছায়নি। নওগাঁ সদর মডেল থানার ও’সি তোরিকুল ইসলাম জানান আমাদের লোকজন কাজ করছে ভাঙ্গন স্থানের সামনে বেরিগেট দিয়ে আটকানোর জোর চেষ্টা চলছে। অপরদিকে গভীর রাতে জেলার পতœীতলা উপজেলা সদর নজিপুরে আত্রাই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধ ভেঙ্গে কয়েকটি ইউনিয়নের বিস্তৃীর্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে ৯টি উপজেলার বিস্তির্ন অঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নওগাঁ সদর, পতœীতলা, রানীনগর, মান্দা ও আত্রাই উপজেলার ২০টি স্থানে আত্রাই ও ছোট যমুনার বন্যা নিয়ন্ত্রন ও ভেরী বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে ওইসব অঞ্চল প্লাবিত হয়। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। জেলা সদরের সাথে আত্রাই উপজেলার ও নাটোর জেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। বন্যার পানিতে নওগাঁর ৯টি উপজেলার হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে এবং কয়েক হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। জেলার ছয়টি নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপদসীমার এখনও উপর দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডে কন্টোল রুম সূত্রে জানা যায়, আত্রাই নদীর ধামইরহাট উপজেলার শিমলতলীর হার্ড পয়েন্টে ২ মিটার, মহাদেবপুর পয়েন্টে ৭৫ সেঃ মিটার ও আত্রাই রেল ষ্টেশন ব্রীজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৬ সেঃ মিটার উপরদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছোট যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৮২ সেঃ মিটার উপরদিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে সীমান্তবর্তী পূনর্ভবা নদীর পানি ২.৯৭ সেঃ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ওই নদী গুলির নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অন্তত ৫০টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।