Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮

ধান্ধাবাজ সাংবাদিকের চামচামি গাজীপুর পাসপোর্ট অফিসে মাসে ঘুষ বাণিজ্য ৫০ লাখ!

রুবেল সরকার :
গাজীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস এখন ঘুষ-দুর্নীতির শক্ত আখড়া। এখানে টাকা ছাড়া কোন সেবা মিলছে না। অবাধে চলছে কর্মকর্তাদের রমরমা বাণিজ্য। দুর্নীতিবাজ চক্রের পক্ষে এরই মধ্যে কথিত এক বড় সাংবাদিকের চামচামি শুরু হয়েছে।
বিতর্কিত সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান কিছুদিন আগে প্রশিক্ষণ নিতে সৌদি আরব গেছেন। এখন হাল ধরেছেন উপ-সহকারী পরিচালক শামীম হোসাইন। তাদের বাণিজ্যের নেশায় গড়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ চক্র। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালদের সমš^য়ে গড়া চক্রের ক্যাশিয়ার অ্যাকাউন্টেন্ট মামুন। মাসে লেনদেন হচ্ছে প্রায় ৪০-৫০ লাখ টাকা।
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল বলছেন, জনসাধারণকে সহজে সেবা দেওয়ার সরকারি উদ্দেশ্য দুর্নীতিবাজদের কারণে ভেস্তে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত তিন কর্মচারীসহ কয়েকজন দালালকে জেল-জরিমানা করলেও অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে না। তাই জেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যমতে, পাসপোর্ট অফিসের কাউন্টারে সেবাপ্রার্থীরা যথা নিয়মে আবেদন জমা দিতে যান। তখন কাগজপত্র ঠিক থাকলেও নানা খুঁত ধরে আবেদন ফেরত দেওয়া হয়। পরে আবেদনকারীরা আশপাশে অবস্থানরত দালালদের দাবিকৃত টাকা দিলেই আবেদন গৃহীত হয়।
সাধারণ বা জরুরি-সব ধরনের পাসপোর্টে দালালরা অফিস খরচ বাবদ নেয় ৯০০ টাকা। চার-পাঁচ দিনে পাসপোর্ট নিলে লাগে চার হাজার টাকা। দালালরা আবেদন ফরম পূরণ ও ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে পারিশ্রমিক হিসেবে ৫০০-৬০০ টাকা নেয়। কেউ কেউ বেশিও নেয়। দালালরা আগে আবেদন নিজে জমা দিত। একটি পত্রিকায় লখালেখি হওয়ায় এখন ফোন দিয়ে আবেদনকারীকে অফিসের কর্মচারীদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যা ‘ওপেন সিক্রেট’।
দালালরা অফিসের কর্মচারীদের কাছে ৯০০ টাকা করে জমা দেয়। কর্মচারীরা ১০০ টাকা রেখে ৮০০ টাকা করে জমা দেন অ্যাকাউন্টেন্ট মামুনের কাছে। পরে তা ডিএডি শামীম হোসাইনের হাতে যায়। শামীম হোসাইন বড় অংশ রেখে বাকিটা অন্যদের মধ্যে বণ্টন করেন।
গাজীপুর পাসপোর্ট অফিসে গত মাস থেকে আবেদন বেড়েছে। এখন দৈনিক প্রায় ২০০ আবেদন জমা পড়ে। আবেদনগুলো থেকে দৈনিক আদায় হয় পৌনে দুই লাখ টাকা। আর এখানে আছে পেশাদার দালাল অন্তত ২০-৩০ জন।
একাধিক ওয়াকিবহাল সূত্র জানায়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদেশ ফেরত অপরাধীদের পাসপোর্টও করে দেন। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সার্ভার থেকে আগের ফিঙ্গার প্রিন্ট ডিলিট করে নতুন প্রিন্ট যোগ করা হয়। যা গুরুতর অপরাধ। এ ক্ষেত্রে নেওয়া হয় ১৮ হাজার টাকা। যেমন-কাপাসিয়ার সাইফুল মিয়া- অদুদ মিয়া সেজে ওই প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট করেছেন।
অপপ্রচার ও হুমকি : গাজীপুর পাসপোর্ট অফিসের দুর্নীতি নিয়ে দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ ও দৈনিক অন্যদিগন্ত’তে কয়েকবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সত্যজিৎ রায় দাশ প্রতিবেদনের সত্যতা পেয়ে কিছু ব্যবস্থাও নিয়েছেন। এতে সুবিধাভোগী ওই সাংবাদিকের রীতিমত গাত্রদাহ শুরু হয়। তিনি এ প্রতিবেদককে ম্যানেজ করতে না পেরে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখান। তাতেও কাজ না হওয়ায় অপপ্রচারের মিশন বেছে নেন। স্থানীয় দুটি দৈনিকে কৌশলে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেন। একজন সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, সঠিক সাংবাদিকতা হল বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ লেখা। নিচু মানসিকতার ব্যক্তিরা সাংবাদিকতার নামে দালালি ও চামচামি করেন। তাদের দৌরাত্ম্যে সাংবাদিকদের মান-মর্যাদা নষ্ট হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই স্থানীয় পত্রিকা দুটি নিজেই আন্ডারগ্রাউন্ড। প্রতিদিন ছাপা হয় ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫০ কপি। যাকে বলে ‘চোরের মার বড় গলা’!