Pages

Categories

Search

আজ- সোমবার ১২ নভেম্বর ২০১৮

ত্রিশালে এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিং এর টাকা লুটপাট, পর্ব-২

Trishal_news_crime.dalal_G.R_Pic[1]

এইচ এম মোমিন তালুকদার, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ত্রিশালে এতিমখানা মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোডিং এর নামে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালযের বরাদ্ধকৃত ৪৫০ মেট্রিকটন চাউল লুটপাটের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোবের সৃষ্টি হয়েছে। ১৪৭ টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশই ভ‚য়া নাম দিয়ে এসকল প্রকল্প দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যারা মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোডিং এর টাকা আত্বসাদ করেছে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা।

জানা গেছে, ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নে ৩৭টি, রামপুর ইউনিয়নে ১৫টি, কাঠাল ইউনিয়নে ৯টি এবং কানিহারি ইউনিয়নে ৩টি এতিমখানা মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোডিং এর নামে প্রকল্প বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে প্রকল্পের তালিকা নাম অনুযায়ি অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের কোন হদিস নেই। প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত যে কয়টি প্রতিষ্ঠান খোজে পাওয়া গেছে তার কোনটিতেই দেওয়া হয়নি বরাদ্ধকৃত চাউল বা অর্থ। ধানীখোলা ইউনিয়নে ১১ নং প্রকল্পে হাপানিয়া গইসাপাড়া নূরানীয়া এতিমখানা লিল্লাহ বোডিং এর মুহ্তামিম মাওলানা নূরুল্লা তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্ধকৃত অনুদান ৩ মেট্রিকটন চাউল না পাওয়ায় হতভাগ হয়ে যান।
১৩ নং প্রকল্পে দক্ষিন ভাটিপাড়া নূরানীয় হাফেজিয়া এতিমখানা লিল্লাহ বোডিং মাদ্রাসার মুহ্তামিম হাফেজ মাওলানা মোস্তফা হুসাইন জানান, আমাদের মাদ্রাসার নামে ৩মেট্রিকটন চাউল বরাদ্ধ হয়েছে পাওয়া তো দুরের কথা তা আমাদের জানা নেই।
ধানীখোলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ মুঞ্জরুল হক জানান, আমার ওয়ার্ডে ১৩টি এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিং মাদ্রাসা প্রকল্পে দেওয়া থাকলেও বাস্তবে ছয়টি মাদ্রাসা রয়েছে। এবং কোন মাদ্রাসা বরাদ্ধকৃত সরকারি অনুদান পায়নি।
ভাটিদাসপাড়া নূরানীয়া হাফিজিয়া এতিমখানা লিল্লাহ বোডিং মাদ্রাসার সভাপতি মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন, আমাদের মাদ্রাসার নামে ৩ মেট্রিকটন চাউল বরাদ্ধ হয়েছে তা আমাদের জানা নেই। এবং বরাদ্ধকৃত কোন অনুদান আমরা পায়নি।
কাঁঠাল ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সিংরাইল নুরানী হাফিজিয়া এতিমখানা লিল্লাহ বোডিং মাদ্রাসার বোডিং এর তত্বাবদায়ক গোলাম ফারুক বলেন, আমি আওয়ামীলীগের নেতা হওয়ার পরেও আমার মাদ্রাসায় বরদ্ধকৃত চাউল পাইনি এর আগে মাদ্রাসার নামে সোলার বরাদ্ধ হয়েছিল সেটাও পাইনি।
কানিহারি ইউনিয়নের কুষ্টিয়ার হাফেজ আব্দুল মতিন জানান, কুষ্টিয়া প্রথম খন্ড নূরানী হাফিজিয়া এতিমখানা লিল্লাহ বোডিং মাদ্রাসা নামে কোন প্রতিষ্ঠিান নেই।
এ ব্যাপারে কাঁঠাল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবীর জানান, আমাদের ইউনিয়নের মাদ্রাসার নামে জি আর প্রকল্প বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে তা আমার জানা নেই। এসকল টাকা লুটপাট করতে পারে তা দেশও খেয়ে ফেলতে পারে।
ধানীখোলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান জানান, আমি শুনেছি আমাদের ইউনিয়নে ৩৬টি প্রকল্পে বরাদ্ধকৃত চাউল লুটপাট করা হয়েছে। যারা এই লুটপাটের সাথে জরিত তাদের দৃষ্টান্ত মূলক বিচার হওয়া উচিৎ।

এসকল লুটপাটের ব্যাপারে ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন-আহবায়ক আলহাজ্ব এড. জিয়াউল হক সবুজ জানান, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিং মাদ্রাসার নামের বরাদ্ধকৃত অনুদান যারাই লুটপাট করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এবং এসকল লুটপাট জারা করেছে তাদেরকে শাস্তি না দিলে আমাদের সরকারের ভাব মূর্তি ক্ষুন্য হবে।
ময়মনসিংহ-৭ ত্রিশাল আসনের সাবেক এমপি আলহাজ¦ হাফেজ রুহুল আমিন মাদানীর কাছে এসকল লুটপাটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, যারা এতিমখানা মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোডিং এর নামে সরকারি বরাদ্ধের টাকা আত্বসাত করেছে তাদের বিচার হওয়া উচিত। কোন মুসলমানের পক্ষে এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিং এর টাকা আত্বসাত করা সম্ভব না।