Pages

Categories

Search

আজ- সোমবার ১৯ নভেম্বর ২০১৮

ঢাকার সাথে গাজীপুর হয়ে কিশোরগঞ্জের সড়ক নেটওয়ার্ক স্থাপনে ২৪৫ কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা

IMG_20100107_032318 (1)
মঞ্জুর হোসেন মিলন : রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যে কোন জেলা শহরের সড়ক যোগাযোগ সক্ষমতা সেই এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ন উপাদান। তাই উন্নত সড়ক যোগযোগ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০২১ সালের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে। রাজধানী ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার সড়ক পথে যোগাযোগের দুরত্ব কমিয়ে আনতে গত ২০০৫ সালে কাপাসিয়ার বানার নদীর উপর ফকির মজনুশা সেতু তৈরী করা হয়। ওই সেতুর কারনে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ জেলার সড়ক পথে দুরত্ব কমে আসে প্রায় ৬০ কিলোমিটার। কিন্তু ৪১ কি:মি: সরু খানা খন্দে ভরা রাস্তার কারনে ওই সুবিধার বারো আনাই অধরা থেকে যাচ্ছে কিশোরগঞ্জসহ ওই রুটে চলা চলকারী পার্শ্ববর্তি জেলার বাসিন্দাদের। বর্তমানে আশার কথা হলো গাজীপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার মধ্যে সড়ক নেটওর্য়াক স্থাপন করতে সালনা- কাপাসিয়া – টোক- মঠখোলা আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য ২৪৫ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরে প্রশস্তকরণ ও মজবুতীকরণে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প প্রেরণ করেন গাজীপুর সড়ক বিভাগ। যাচাই বাছাই শেষে দ্রæততম সময়ে সড়কটির উন্নয়ন করা হলে কিশোরগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তি জেলা ও এলাকার জনসাধারনের জীবন মান ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার ব্যাপক উন্নয়ন হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটি প্রায় ১৮ কিলোমিটার প্রশস্ত, আঞ্চলিক সড়ক হিসেবে নির্মাণ করায় সড়কটি যাত্রীবাহী বাস, মালাবাহী ট্রাক ও ভাড়ী যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। অপ্রস্থতার কারনে একটি গাড়ি সড়কের পাশে থামিয়ে বা গতি কমিয়ে অপরটিকে সাইড দেয়। গত বর্ষায় আর ভাড়ি যানবাহন চলাচলের কারনে সড়কটিতে গর্ত ও খানা খন্দের সৃস্টি হয়। তাৎক্ষনিক ভাবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুর সড়ক বিভাগ ইট ও খোয়া বিছিয়ে সাময়িক ভাবে এস সমস্যার সমাধান করে। পুনরায় বর্ষা শুরু হলে সড়কটি আর যান চলাচলের উপযোগী থাকবে না বলে সড়কে চলাচল কারী যানবাহনের চালক, মালিক, শ্রমিক সহ সংশিষ্টরা জানিয়েছেন। এই সড়কে চলাচলকারী জলসিঁড়ি এক্সপ্রেস (প্রাঃ) লিমিটের পরিবহনের পরিচালক গোলাম ছামদানী বলেন, এই রুটে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৯টি পরিবহন সার্ভিসের কয়েক’শ যাত্রীবহি বাসসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন পরিবহন চলাচল করে। এছাড়া মালবাহী গাড়ি তো আছেই । একে সরু রাস্তা, তার উপর সড়কের বিভিন্ন স্তানে বসে হাট – বাজার । আবার একই সড়কে একই সময় অননুমোদিত, ফিটনেস বিহিন ভিন্নভিন্ন গতির যানবাহন চলাচল করায় যেমন দুর্ঘটার ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি সময়ও লাগে বেশি। তিনি এ সড়কের বাঁক কমিয়ে আরো প্রশস্ত করার দাবী জানান। এই রুটে চলাচলকারী উজান-ভাটি পরিবহন লিঃ এর চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন মানিক জানান, সরু রাস্তায় অপরিকল্পিত গতিরোধক থাকায় তিন ঘন্টার রাস্তা অতিক্রম করতে সাড়ে চার থেকে পাঁচ ঘন্টা সময় ব্যায় হয়। পরিবহনের চালক ও মালিক আলম জানান, সরু রাস্তায় গাড়ী পাশকাটাতে গেলে মালবাহি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে লেগে বাসের বডি ক্ষতিগ্রস্থ হয়, অনেক সময় জানালার কাঁচ ভেঙ্গে যাত্রীদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে যায়।
জয়দেবপুর সড়ক বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী কে বি এম সাদ্দাম হোসেন জানান, সালনা (রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা) – কাপাসিয়া – টোক – মঠখোলা সড়ক আঞ্চলিক পর্যায়ে নিরবিচ্ছন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ । সড়কটির গুরুত্ব বিভেচনায় নিয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের গাজীপুর সড়ক বিভাগ ২৪৫ কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয় ধরে প্রশস্তকরণ ও মজবুতীকরণে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প প্রেরণ করেন। মন্ত্রণালয়ের যাচাই বাছাই কমিটি প্রস্তাবিত প্রকল্পের উপর সমীক্ষা চালাতে অধিদপ্তরকে দেয়া নির্দেশ মতে গাজীপুর সড়ক বিভাগ কাজ শুরু করেছে। সমীক্ষার পর সড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতীকরণ প্রস্তাব যাবে পরিকল্পনা কমিশনে। কাপাসিয়া-টোক-মঠখোলা ৪১কিলোমিটার সড়ক ১৮ ফুট থেকে ২৪ফুট প্রশস্ত করা হবে।
একাধিক সুত্র জানায়, খুব দ্রæতই পরিকল্পনাধীন উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির(একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী ডি এ কে এম নাহীন রেজা জানান, সালনা- কাপাসিয়া – টোক – মঠখোলা সড়কের রাজেন্দ্রপুর থেকে কাপাসিয়া হয়ে গাইন্দালীয়া ব্রীজ পর্যন্ত সাময়ীক মেরামতের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে । স্বল্পতম সময়ে এর মেরামত কাজ শুরু হবে। এদিকে সড়কের উন্নয়নের প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আন্ত:মন্ত্রণালয়ের সভায় আলোচনা হয়ে এবং পুনরায় ফিজিভিলিটি সার্ভে(সরেজমিন সমিক্ষা) প্রতিবেদন চেয়েছে। আশাকরি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির(একনেক) সভায় উঠবে। একনেকে অনুমোদন পেলে দ্রুতই রাস্তার কাজ শুরু হবে।