Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮

টঙ্গীতে সৎ মায়ের হাতে স্কুল ছাত্রী খুন : বাবা ও সৎ মা গ্রেফতার

জুন ১৩, ২০১৫
অপরাধ, গাজীপুর সদর
No Comment

Tongi_Photo[1]
টঙ্গী থেকে হাসান মামুন: টঙ্গীতে সৎ মায়ের হাতে খুন হলো সপ্তম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী। শনিবার সকাল ৬টার দিকে টঙ্গীর আউচপাড়ায় নুর হোসেন নুরানীর বাড়ীর ৬তলার একটি ফ্ল্যাটে ধারালো চাপাতি দিয়ে মাথায় ও বুকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে এ হত্যাকান্ড ঘটানো হয়। নিহত স্কুল ছাত্রীর নাম সাদিয়া আলম (১৪)। সকালে তার বাবা শফিউল আলম সাগর বাড়ির বাহিরে গেলে এই ফাকে সৎ মা মরিয়ম জাহান শাকিলা (২৫) চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাকে খুন করে। পালানোর সময় বাড়ীর দারোয়ান তার শরীরে রক্ত দেখে সন্দেহ হলে শাকিলাকে আটক করে। পুলিশ শাকিলাকে গ্রেফতার করে জবান বন্দী নিয়েছে। সাদিয়া টঙ্গী পাইলট স্কুলে লেখাপড়া করত।
নিহত সাদিয়ার বাবা শফিউল আলম সাগর জানায়, মেয়ে সাদিয়াকে অধিক ভালোবাসার কারণে তার দ্বিতীয় স্ত্রী ঈর্ষাšি^ত হয়ে সাদিয়াকে হত্যাকান্ডের পথ বেছে নেয়। ঘটনার সময় সাদিয়ার বাবা সফিউল আলম সাগর বাসা সংলগ্ন পাইলট স্কুল মাঠে মর্নিংওয়াক করছিলেন বলে তিনি জানান। তিনি বাসায় ফিরে এ বীভৎস হত্যাকান্ড দেখে পুলিশকে খবর দেন। এ ঘটনায় নিহত সাদিয়ার মা ফারজানা ইসলাম শ্বপ্না বাদী হয়ে টঙ্গী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সৎ মা শাকিলা ও তার শ্বামী শফিউল আলম সাগরকে আসামী করা হয়েছে। পুলিশ এই দুই আসামীকেই গ্রেফতার করেছে। সাদিয়ার আসল মা ফারজানা জানান, প্রায় সাত বছর আগে সাদিয়াকে রেখে তাকে তালাক দেয় সাগর। তখন তিনি ৬ মাসের অন্তসত্ত¡া ছিলেন। পরে তিনি একটি ছেলে সন্তাান প্রসব করেন। ছেলেটি বর্তমানে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। ফারজানা একটি স্থানীয় কিন্ডারগার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করে বহু কষ্টে ছেলেকে লালন পালন করছেন। একান্ত ইচ্ছা থাকা সত্তে¡ও আর্থিক সামর্থ না থাকায় তিনি মেয়ে সাদিয়াকে সাথে রেখে তত্ত¡াবধান করতে পারেননি।
এদিকে পুলিশের কাছে হত্যাকান্ডের বিবরণ দিয়ে সৎ মা শাকিলা জানায়, স্কুলে যাওয়ার জন্য সাদিয়া প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখনই সে এ ঘটনা ঘটায়। বাসায় লুকিয়ে রাখা চাপাতি দিয়ে সাদিয়াকে প্রথমে পিছন দিক থেকে কোপ দেয়। এসময় সাদিয়া বাঁচতে এ ঘর থেকে ও ঘরে দৌড়াতে থাকে। শাকিলাও পিছু পিছু দৌড়ে তাকে চাপাাতি দিয়ে কোপাতে থাকে। সাদিয়া বাঁচার জন্য বহু কাকুতি-মিনতি করে। এক পর্যায়ে সাদিয়া মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে সাদিয়ার দেহ ছিন্নভিন্ন করে ফেলে তার সৎ মা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সাদিয়ার। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় টঙ্গী পাইলট স্কুলের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক শিক্ষিকাসহ ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।