Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ১৮ অক্টোবর ২০১৮

ঝালকাঠির নলছিটিতে ইটভাটা মালিকদের চাঁদার টাকায় প্রশাসনের বিজয় দিবস পালন

ডিসেম্বর ২০, ২০১৬
অনিয়ম, ঝালকাঠি
No Comment

jhalkathi1

মোঃ আমিনুল ইসলাম,ঝালকাঠি সংবাদদাতাঃ অবৈধ ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর অলিখ বৈধতা দিয়ে চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে নলছিটি উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এসব ইটভাটার মালিকদের দেওয়া টাকায় বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এ ঘটনায় সমালোচনার ঝড় বইছে পুরো উপজেলাজুড়ে। জানাগেছে, নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১১টি ইটভাটা ও ৫-৬টি পাজা রয়েছে। সবগুলো ইটভাটায়ই কাঠ পোড়ানো হয়। কাঠ পোড়ানো অবৈধ জানা সত্তে ও নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোঃ কামরুল হুদা ইটভাটার মালিকদের দণ্ড বা জরিমানা না করে, উল্টো তাদের দেওয়া চাঁদার টাকায় বিজয় দিবসের উৎসব করেছেন। বিজয় দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনকে ১১টি ইটভাটার মধ্যে কোনটির মালিক দশ হাজার, আবার কোনটির মালিক পাঁচ হাজার করে টাকা দিয়েছেন। রেহাই পাননি পাজার মালিকরাও। তারা দিয়েছেন কোনটিতে এক হাজার টাকা, আবার কেউ দিয়েছেন ৫০০ টাকা করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইটভাটার মালিকরা অভিযোগ করেন, নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বিজয় দিবসে চাঁদা দেওয়ার জন্য ইটভাটা মালিকদের খবর পাঠানো হয়। প্রতিটি ইটভাটায় কমপক্ষে পাঁচ হাজার এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি বড় ইটভাটায় দশ হাজার টাকা চাঁদা বাধ্যতামূলক করা হয়। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে এ টাকাগুলো খরচ করা হয়। বিজয় দিবসের উৎসব পালনে প্রশাসনের বরাদ্দ থাকা সত্তে ও ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা তোলার ঘটনায় উপজেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। অনুসন্ধানে জানাগেছে, নলছিটি পৌর এলাকায় দোলোয়ার কমিশনারের দুইটি, মহিদুল ইসলামের একটি, মৃধাদের একটি, মগড় ইউনিয়নের সুজাবাদে দুইটি, দপদপিয়া ইউনিয়নে তিনটি, কুশংগল ইউনিয়নে কবির জোমাদ্দারের একটি এবং ভৈরবপাশা ইউনিয়নের ঢাপর গ্রামে একটি ইটভাটা রয়েছে। এছাড়াও পাজা রয়েছে রানাপাশা ইউনিয়নে তিনটি, তেতুলবাড়িয়া একটি এবং সরই গ্রামে একটি। ইটভাটা ও পাজা থেকে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা চাঁদা দেওয়া হয়েছে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোঃ কামরুল হুদা চাঁদার টাকা দিয়ে অনুষ্ঠান পালন করেন। বিজয় উৎসব পালনে প্রশাসনের বরাদ্দ আর ইটভাটা মালিকদের দেওয়া চাঁদার টাকায় ঝাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করার কথা থাকলেও কান রকমের দায়সারা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে নলছিটিতে বিজয় দিবস পালিত হয়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে নেওয়া চাঁদার টাকা পুরোটাই আত্নসাত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এ ব্যাপারে তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনেরও দাবি করেছেন। নলছিটির সচেতন মহল মনে করেন, অবৈধভাবে কাঠ পোড়ানো ইটভাটাগুলোর কছা থেকে চাঁদা নিয়ে প্রশাসন অলিখিতভাবে তাদের বৈধতা দিয়েছেন। এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক বলেও মনে অনেকে। অবৈধ ইটভাটার মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে বিজয় দিবস পালন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী বলে দাবি করছেন কেউ কেউ। বাঙালীর প্রাণের এই উৎসবকে কলঙ্কিত করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইটভাটা মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছেন বলেও সচেতন মহল মনে করছেন। এব্যাপারে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. কামরুল হুদার সাথে মুঠোফোনে (০১৭১৬২২০৬০৪) যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি ওয়ার্কসপে আছেন পরে কথা বলে ফোন কেটে দেন।