Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর ২০১৮

‘ছিনতাই হওয়া’ সেই নববধূ গাজীপুরে উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট:photo rab-11_7406

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিয়ে করে নিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তা থেকে ছিনতাই হওয়া নববধূকে অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে অপহরনকারী মোফাজ্জলসহ  আরও ৩ জনকে। র‌্যাব- ১১ একটি টীম রবিবার রাত সাড়ে ৯টায় কালিগঞ্জ এলাকা থেকে নববধু সুর্বনাকে উদ্ধার করে।

থানা পুলিশ জানায়, গত ১৫ দিন আগে রূপগঞ্জের পুটিনা এলাকার জহিরুলের ছেলে নাজিম উদ্দিনের সাথে উভয় পরিবারের সম্মতিতে শুক্রবার বিয়ের দিন ধার্য হয়। শুক্রবার বিয়ের কার্য সমপন্ন করতে গিয়ে সন্ধ্যা হয়ে যায়। সন্ধা ৬ টায় বরযাত্রীরা নববধুকে নিয়ে যাওয়ার সময় বাঘবাড়ি আড়াইহাজার সড়কের রসুলপুর এলাকায় পৌছালে টেকপাড়া মোফাজ্জল ও তার সহযোগিরা মাইক্রো দিয়ে ব্যারিকেড দেয়। এসময় বরের বহনকারী প্রাইভেটকার থেকে নাজিমকে টেনে হেচরে বের করে বেধরক পিটুনী নেয়। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বরের লোকজনকে মারধর করতে থাকে। আশপাশের লোকজন কিছু বুঝে উঠার পূর্বেই নববধু সুর্বনাকে জোর করে মাইক্রোতে তুলে নিয়ে যায়। সূর্বনার সাথে ৮ ভড়ি সোনার বিভিন্ন অলঙ্কার ছিলো বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। শনিবার নববধু সূবর্না আক্তারের পিতা মোঃ আব্দুল লতিফ বাদী হয়ে মোফাজ্জলসহ আরও ৬জনকে আসামী করে একটি অপহরন মামলা দায়ের করেন। পরে র‌্যাব-১১ নববধু সুর্বণাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতার করে অপহরণকারী মোফাজ্জলসহ আরও তিন জনকে।

র‌্যাব-১১ এক প্রেস বিফিং এ জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানাধীন সাতগ্রাম ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রাম হতে বরের গাড়ী বহরের গতিরোধ করে সন্ত্রাসীরা বরের পাশ থেকে নববধূ সুবর্ণা আক্তার, পিতা-মোঃ আব্দুল লতিফ, সাং-বড় নোয়াগাঁও, থানা-আড়াইহাজার, জেলা-নারায়নগঞ্জকে অপহরন করে নিয়ে যায়। বিষয়টি বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকাতেও প্রকাশিত হয়। র‌্যাব-১১ বিষয়টি অত্যধিক গুরুত্বের সাথে গ্রহন করে অপহৃত নববধূসহ জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে বিভিন্ন সূত্র/মাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং গোয়েন্দা নজরদারী শুরু করে।

এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার বেলা ২টা হতে রাত ১০টা পর্যন্ত র‌্যাব-১১, সিপিএসসি, আদমজীনগর, নারায়ণগঞ্জ এর একটি আভিযানিক দল সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর হোসেন, পিপিএম এর নেতৃত্বে আড়াইহাজার থানা, রূপগঞ্জ থানা, নরসিংদী জেলার পলাশ থানা, গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানা এলাকায় একটানা অভিযান পরিচালনা করে গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানাধীন জামালপুর মীরপাড়া গ্রাম হতে অপহৃত ভিকটিম নববধূ সুবর্ণা আক্তারকে উদ্ধার করে এবং অপহরণকারী দলের মূল হোতা আসামী মোফাজ্জল হোসেন (১৮), পিতা-হাতেম আলী, সাং-টেকপাড়া, থানা-আড়াইহাজার, জেলা-নারায়ণগঞ্জসহ তার সহযোগী সুজন (২১), পিতা-জাহাঙ্গীর, সাং-টেকপাড়া, থানা-পলাশ, জেলা-নরসিংদী, ও রুবেল (২৫), পিতা-মৃত আবুল কাশেম, সাং-আলীরটেক, থানা-পলাশ, জেলা-নরসিংদীদের গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া গ্রেফতারকৃত উক্ত আসামীদের দখল হতে লুন্ঠিত নববধূর স্বর্নালঙ্কার (গলার হার, কানের দুল, টিকলি, হাতের চুড়ি, নাকের নোলক) উদ্ধার করা হয়। এতদ্ব্যতীত আসামীদের দখল হতে অপহরনের ঘটনায় ব্যবহৃত ৪টি মোবাইল সেট ও নগদ ১৫ হাজার৫৩৪ টাকা উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব আরো জনায়, ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় বরের সাথে গাড়ীযোগে নববধূ সুবর্ণা শ্বশুর বাড়ী রূপগঞ্জ যাওয়ার পথে আড়াইহাজার থানাধীন রসুলপুর নামক স্থান হতে সন্ত্রাসীরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহৃত ভিকটিম সুবর্না এর বড়ভাই নাদিম মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মূল অপহরণকারী মোফাজ্জল হোসেনের মোবাইলে কৌশলে যোগাযোগ স্থাপন করে তার বোনকে একনজর দেখার জন্য বিনিত অনুরোধ জানায়। তখন মূল অপহরণকারী আসামী মোফাজ্জল হোসেন সুবর্ণার বড়ভাই নাদিমকে নরসিংদী জেলার পলাশ থানাধীন বাসষ্ট্যান্ডে যেতে বলে। র‌্যাবের সাজানো ফাঁদে এভাবেই অপহরণ চক্র পা ফেলে। র‌্যাবের টীম নাদিমকে নিয়ে সেখানে ওৎপেতে থাকে। অপহরণকারীরা বারংবার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে থাকে। অপহরণকারীরা একপর্যায়ে নরসিংদীর পলাশ থানাধীন জামালপুর গুদারাঘাটে যাওয়ার জন্য নাদিমকে বলে। অতঃপর গুদারাঘাট এলাকা থেকে মূল অপহরণকারীর সহযোগী আসামী সুজনকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি ও শনাক্তমতে পরবর্তীতে রবিবার রাত সাড়ে ৯টায় গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানাধীন জামালপুর মীরপাড়াস্থ জনৈক সামছুল হকের বাড়ী হতে অপহরণকারীর মূল হোতা আসামী মোফাজ্জল হোসেনসহ তার অপর সহযোগী রুবলকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের দখল থেকে অপহৃত ভিকটিম নববধূ সুবর্নাকে লুন্ঠিত স্বর্ণালঙ্কারসহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার বিষয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে আড়াইহাজার থানার (মামলা নং-০৩ তারিখ ০৬/১১/১৫ ধারাঃ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৩০ ধারা) রুজু হয়েছে। এছাড়া গ্রেফতারকৃত আসামী মোফাজ্জল হোসেন আড়াইহাজার থানার (মামলা নং-০৩ তারিখ ০৫/১০/১৫ ধারাঃ ১৪৩/১৪৭/৩০৭/৩২৩/৩২৬/৫০৬ তৎসহ ১৯০৮ সালের বিষ্ফোরক দ্রব্য উপাদান আইনের ৩ ধারা এর) এজাহার নামীয় আসামী বলে জানা যায়। গ্রেফতারকৃত আসামীসহ উদ্ধারকৃত ভিকটিম সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।