Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮

ছাত্রীকে পতিতাবৃত্তি করতে বললেন শিক্ষক

নভেম্বর ১০, ২০১৫
নারী অঙ্গন, পরীক্ষা, শিক্ষা, সারাদেশ
No Comment

bagerhat_bn_553996982বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পুরণের টাকা জোগাড় করতে না পারায় দরিদ্র এক ছাত্রীকে পতিতাবৃত্তি করতে বললেন তার স্কুলের এক সহকারী প্রধান শিক্ষক। এঘটনায় পর ফরম পুরণে ব্যর্থ ওই ছাত্রী বাড়িতে ফিরে একাধিকবার অাত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়ে দু’দিন ধরে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

হতভাগা ওই ছাত্রীটির পিতা হতদরিদ্র দিনমজুর রুবেল শেখ এঘটনায় প্রতিকার ও কেজি মাধ্যমিক স্কুলের ওই শিক্ষকের বিচার চেয়ে সোমবার মোড়েলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা অবিলম্বে ওই শিক্ষকের পদত্যাগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলার ভাইজোড়া গ্রামের হতদরিদ্র দিনমজুর রুবেল শেখ জানান, তার মেয়ে কেজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। পরিবারের চরম অস্বচ্ছলতার কারণে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পুরণের জন্য স্কুল নির্ধারিত সাড়ে তিন হাজার টাকার কিছু কম জমা দেয় তার মেয়ে। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম তালুকদার শনিবার ওই ছাত্রীকে ক্লাস রুমে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ্যে অশালীন ভাষায় গালমন্দ করে। ফরম পূরণের টাকা জোগাড় করতে প্রয়োজনে পতিতাবৃত্তি করতে বলেন।

এঘটনার পর বাড়ি ফিরে তার মেয়ে লোকলজ্জা ও ঘৃণায় গত দু’দিন ধরে স্কুলসহ পড়ালেখা বন্ধ করে দিয়েছে। কয়েক দফা অাত্মহত্যার চেষ্টাও চালিয়েছে। তিনি এখন তার মেয়ের জীবন ও লেখাপড়া নিয়ে চরম দুর্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন বলে জানান রুবেল শেখ। তিনি জানান, এঘটনার প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে কেজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সাজেদা খাতুন ও স্কুল পরিচালনা পরিসদের সভাপতি এম এমদাদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, গুরুতর অভিযোগের এবিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম তালুকদার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসএসসি পরীক্ষার্থীর সঙ্গে এ ধরনের মন্তব্য করা একজন শিক্ষকের পক্ষে কীভাবে সম্ভব। আমি একজন শিক্ষক হিসেবে ঘটনাটি বিকেলে শুনতে পেয়ে মর্মাহত হয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমানের সঙ্গে রাতে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি অভিযোগের কপি তার দফতরে জমা হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।