Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

চিরিরবন্দরে গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা, প্রশাসন নীরব

1মোহাম্মদ মানিক হোসেন, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে অবৈধভাবে গড়ে উঠছে অসংখ্য ইটভাটা। ইটভাটার সঠিক তথ্য নেই সংশ্লিষ্ট দফতরে। মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতরকে নিয়ে।

চিরিরবন্দর উপজেলা ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এর আয়তন ৩১ হাজার ২’শত ৮৫ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা (২০১১ ইং সালের আদমশুমারী অনুযায়ী) ২ লক্ষ ৯২ হাজার ৫’শত জন। আবাদী জমি ২৫ হাজার ৯’শত ৯২ হেক্টর। ইটভাটার সংখ্যা (উপজেলা নির্বাহী অফিস) ১৯টি। মূলত ইটভাটার সংখ্যা-২৫টি। এর মধ্যে নির্মানাধীন ২টি।

সরকার ইট প্রস্তুত ও ইট ভাটা স্থাপন সংক্রান্ত (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ করেছে ঠিকই কিন্তু সেই আইনের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ না হয়ে চিরিরবন্দর উপজেলায় একের পর এক আবাদী জমিতে অবৈধ ইটভাটা গড়ে ইঠায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স ছাড়া কেউ ইট ভাটা প্রস্তুত করতে পারবেনা আইনে স্পষ্ট উল্লে¬খ আছে। এছাড়াও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ও অনুমোদন ব্যতীত, কোনও ব্যক্তি ইট প্রস্তুতের জন্য কৃষি জমি, পাহাড়, টিলা, মজা পুকুর, খাল, বিল, খাঁড়ি, দিঘি, নদ-নদী বা পতিত জায়গা থেকে মাটি কাটা নিষিদ্ধ।

এছাড়াও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর কর্তৃক নির্মিত উপজেলা, ইউনিয়ন বা গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে, ভারি যানবাহন দ্বারা ইট বা ইটের কাঁচামাল পরিবহন না করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হিসেবে উল্লে¬খ আছে।

কিন্তু আইনের এসব ধারা বা বিধির সবকটিই ভঙ্গ করে ইট ভাটা স্থাপন করেছে চিরিরবন্দর উপজেলায়। অদৃশ্য কারণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও এসব ইট ভাটার বিষয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ফলে পরিবেশ দূষণের নানা রকমের হুমকির মধ্যে রয়েছে এলাকাবাসী।

সূত্র জানায়, একটি ইটভাটা তৈরী করতে কম পক্ষে ২ হেক্টর জমির প্রয়োজন। ২৫টি ইটভাটায় ৫০ হেক্টর জমি (১ হেক্টর সমান ৫ বিঘা, ৫০ হেক্টর সমান ২৫০ বিঘা) প্রতি বছর টপ সয়েল ভাটর গর্ভে চলে যাচ্ছে। ভাটার নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া মানুষ, পশু-পাখি ও উদ্ভিদ ও জীব বৈচিত্রের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলছে। তাই উপজেলার মানুষের মধ্যে নানা রোগ বালাই, খাদ্যশস্য ও ফলফলাদী উৎপাদন দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।

নির্মানাধীন আর এল ব্রিকস ও এ আর বি ভাটা সরেজমিনে দেখা গেছে, সরকারের কোনো আইন কানুনই মানা হয়নি। এখানে নেই আবাদী জমির উপর, লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড় পত্র ছাড়াই গড়ে উঠছে ইটভাটা। বঞ্চিত হচ্ছে সরকার মোটা অঙ্কের রাজস্ব আয় থেকে। এই ইটভাটা চিরিরবন্দর উপজেলার ৭নং আউলিয়া পুকুর ইউনিয়নের গার্মেন্টস বাজার এলাকায় চিরিরবন্দর-দিনাজপুর সড়ক সংলগ্ন এবং ১ নং নশরতপুরের ইউনিয়নের রাণীরবন্দর-চিরিরবন্দর সড়কের ঠাকুরের মোড় এলাকায়। ভাটার সামনে প্রাইমারী স্কুল সাথে আবাসিক এলাকা ও আবাদি জমি উচ্ছেদ এবং লিচুর বাগানের ভিতর দিয়ে কাজ চলছে ইট ভাটার। লিচু বাগানের মালিক ভবেশ চন্দ্র (নোওশা) জানান এই ইট ভাটার কারনে আমার লিচু বাগান শেষ হয়ে যাচ্ছে আবাদি জমি নষ্ট করে নির্মিত করা হচ্ছে ইট ভাটাটি।

এব্যাপারে চিরিরবন্দর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে বলেন, ইট ভাটায় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে আইন, বিধি কোনটিই কোথাও মানা হচ্ছেনা। আইন প্রয়োগ করতে গেলে অনেক বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়। তবে সংশ্লি¬ষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ পেলে অবৈধ এসব ইট ভাটার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত আছে বলে জানান।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকতা মো: মাহমুদুল হাসান বলেন, নতুন ইটভাটা তৈরিতে আমাকে কোন চিঠি দেওয়া হয়নি। নতুন ইটভাটর ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।

3অবৈধ ইট ভাটায় কার্যক্রমের বিষয়ে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ফিরোজ মাহামুদ এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইট ভাটায় কার্যক্রমের বিষয়ে শুনেছেন এবং বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে ইটভাটা নির্মান করতে হবে। তবে নিয়মনীতিগুলো যদি ইটভাটা নির্মানের ক্ষেত্রে মেনে না চলে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। এমনকি ট্রেড লাইসেন্স বা ছাড়পত্র ছাড়া যে সকল ব্রিক ফ্রিল্ড অবৈধ ভাবে ইট প্রস্তুত করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলার সচেতনমহল ইটভাট স্থাপন সংক্রান্ত (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ সঠিক বাস্তবায়ন, অনিয়মতান্ত্রিক ও আবাদী জমিতে নির্মানাধীন ভাটা তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্মান ও তৈরী বন্ধ এবং আবাদী জমি সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ঠ দফতরের উর্দ্ধতন কর্তকর্তার সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

এমএইচএস/