Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ২০ নভেম্বর ২০১৮

চিরিরবন্দরের লিচু চাষীরা আতঙ্কে

মে ১৯, ২০১৬
কৃষি, দিনাজপুর
No Comment

lisu__chirirbandar[1]

মোহাম্মদ মানিক হোসেন, চিরিরবন্দর(দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
গত কয়েক দিনে ছোট বড় ঝড়ে ও বৃষ্টিতে শঙ্কিত দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার লিচু চাষীরা। এবার ফলন ভাল হওয়ায় অধিক মুনাফা হবে বলে আশাবাদী ছিল লিচু চাষীরা। কিন্তু ২ দিনের ঝড় বৃষ্টিতে অনেক গাছ পালা ভেঙ্গে যাওয়ায় এবং বৃষ্টি কারনে লিচুতে পোকার আক্রমন হতে পারে এই ভয়ে ভীত লিচু চাষীরা।

এই মুহুর্তে দিনাজপুরের লিচুবাগানের লিচু পাকতে শুরু করেছে। লিচুবাগান গুলোতে লেগেছে লাল-সবুজের রঙ্গিন ছোয়া। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে লাল রঙ্গের রঙ্গিন আভায় অপরূপ সাজে সেজেছে লিচু বাগানগুলি। বাগানে বাগানে লাল-সবুজের দোলায় দুলছে লিচু। এই অপরূপ দৃশ্যে সকলেরই প্রান জুড়িয়ে যায়। আগমী সপ্তাহেই ধুম পড়বে লিচু তোলার। সেই সাথে বাজারে আসবে টসটসে মিষ্টি স্বাদের লোভনীয় লিচু।

এবার প্রচন্ড গরম হওয়ায় লিচু একটু দ্রুত পাকার আভাস দিয়েছিল স্থানীয় লিচু চাষীরা। কিন্তু গত দুই দিনের ঝড় বৃষ্টিতে তা কিছুটা ব্যাহত হবে এবং লিচু চাষীরা আশানুরূপ ফল পাবেনা বলে শংকিত।

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের উপজেলার লিচু ব্যবসায়ী মো: রহমান জানান, সবুজ বাগানের গাছের ডালে ডালে থোকা থোকা লিচুর গায়ে লাল রংগের আভা লেগেছে। যেন অপরূপ সাজে সেজেছে বাগানগুলি।সামান্য পরিমানে মাদ্রাজি লিচু এখন বাজারে পাওয়া গেলেও আগামী সপ্তাহেই পুরোদমে বাজারে আসতে শুরু করবে লিচু। এবারে ভাল ফলনের আশাবাদী তিনি। ২ দিনের ঝড়-বৃষ্টিতে সামান্য ক্ষতি হলেও বড় ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে মুনাফা ভাল হবে। শুরুতেই প্রতি শত লিচু ২০০ থেকে ৪০০টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে।তবে বেদনা ও চাইনা থ্রি জাতের লিচু গতবারের তুলানায় দাম বেশী হবে বলে তিনি জানান। যা আরও ২/৩ সপ্তাহ পরে বাজারে আসবে।

মৌসুমী ফলের মধ্যে লিচু অন্যতম। আর সেই লিচুর জন্য বিখ্যাত হচ্ছে দিনাজপুর জেলা । তাইতো দেশের সর্বত্র এখানকার লিচুর ব্যপক চাহিদা। মিষ্টি রসালো স্বাদ নিয়ে বেদানা, বোম্বাই, মাদ্রাজি, চায়না-থ্রিসহ বিভিন্ন জাতের লিচু এখানে উৎপাদন হয়। এখানে এমন কোন বাড়ী পাওয়া যাবেনা যে, যেখানে ২/১ টি লিচু গাছ নাই। আগে স্বল্প পরিসরে বসত ভিঠার আশে পাশে এবং ডাঙ্গা জমিতে অল্প কিছু লিচু গাছ লাগানো হতো। কিন্তু এখন এর বিস্তৃতি ব্যাপক। বানিজ্যিক ভাবেই অনেকে এখন লিচু বাগান করছেন। এখানে ছোট-বড় অধিক লিচু বাগান রয়েছে। বাগান ছাড়াও কিছু সংখ্যক বাড়ী, বাড়ী সংলগ্ন জমিতে ২/৪টি করে লিচু গাছ রয়েছে। লাগানো গাছ সমূহের অধিকাংশ মাদ্রাজী ও বোম্বাই জাত। ৩০ শতাংশ গাছের মধ্যে বেদানা ও চায়না-থ্রি-এর জাত রয়েছে। একটি বড় গাছে ৫ থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত লিচু এক মৌসুমে পাওয়া যায়।আর এই লিচুর মৌসুমে বাড়তি অনেক শ্রমিকেরও কর্ম সংস্থান হয় এখানে।

সরকারী/বেসরকারী যথোপযুক্ত পৃষ্ট পোষকতা পেলে চিরিরবন্দর লিচুর উৎপাদন আরো অনেক গুন বাড়ানো সম্ভব। তাছাড়া উপযুক্ত সংরক্ষন ও বিপনণের ব্যবস্থা করা গেলে লিচু থেকে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করাও সম্ভব।