Pages

Categories

Search

আজ- সোমবার ১৯ নভেম্বর ২০১৮

চালু হচ্ছে না রাণীনগরের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

মে ৩১, ২০১৭
অনিয়ম, নওগাঁ, স্বাস্থ্য
No Comment


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নামে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হলেও চিকিৎসক সংকটের কারণে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আছে দীর্ঘদিন। চিকিৎসক সংকটের কারণে স্বাস্থ্য সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট নির্মিত তিনতলা ভবনটি মুখ থুবড়ে পড়ে আছে আর পদ অনুসারে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় মাত্র ক’জন চিকিৎসক মানসম্মত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

অপরদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেওয়া খাবারের মান নিয়ে হাজারো অভিযোগ। তিন বেলায় নি¤œ মানের খাবার খেয়ে আরো বেশি অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন আবাসিকের রোগীরা। দুপুরের খাবার ১টার মধ্যে দেওয়ার কথা থাকলেও তা রোগীদের কাছে পৌঁছে কোনদিন ৩টা আবার কোনদিন ৩টার পর। অথচ কর্তৃপক্ষ জেগে জেগে ঘুম পারছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, প্রায় ৭বছর পূর্বে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি নতুন তিনতলা ভবন তৈরি করা হলেও তা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবলের অভাবে এখনও পর্যন্ত ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যেখানে সরকারি বিধিমতে ১৭জন চিকিৎসক থাকার কথা কিন্তু সেখানে প্রতিদিন মাত্র ৬জন চিকিৎসক দিয়ে ৮টি ইউনিয়নের বৃহৎ এ উপজেলার লাখ লাখ লোকের চলছে চিকিৎসা সেবা। আবার এই ক’জন চিকিৎসকের মধ্যে তিন জন মহিলা হওয়ার কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাতে জরুরী বিভাগে অধিকাংশ সময়েই পাওয়া যায় না বিশেজ্ঞ চিকিৎকদের। সহকারিরা কোন মতে জোড়াতালি দিয়ে চালিয়ে আসছে এই জরুরী বিভাগটি। তাই অনেক দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিনিয়তই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগীদের ।

জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোর ও ইনডোরে প্রতিদিন প্রায় তিন শতাধিক রোগীর সেবা দিতে হয়। চিকিৎসক সংকটের কারণে প্রায়ই রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অধিকাংশ চিকিৎসক জেলা শহরে থাকায় অফিসে আসেন সকাল ১১-১২টার সময়ে তাই রোগীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয় তাদের জন্য। ৫০শয্যা বিশিষ্ট ভবনের কার্যক্রম চালু না হওয়ায় বেডের অভাবে অনেক সময় ভর্তি হওয়া আবাসিক রোগীদের বেডের অভাবে মেঝেতেই শুয়ে সেবা নিতে হয় দিনের পর দিন। ইনডোরে যেসব রোগী রয়েছে তারাও ঠিকমত মাসম্মত সেবা ,ঔষধ ও খাবার পান বলে অভিযোগ অনেক ইনডোর রোগীদের। ভুক্তভোগী রোগীরা জানিয়েছেন ,যথা সময়ে চিকিৎসক পাওয়া যায় না । মেডিকেল সহকারি বা ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী আবাসিক রোগীদের চিকিৎসা করা হয়। বিশেষজ্ঞ কোন চিকিৎসক না থাকায় অনেক পরিবারের লোকজন কষ্ট করে হলেও তাদের রোগীদের অন্যত্র নিয়ে চিকিৎসা করান।

এ বিষয়ে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এস.এম.নজমুল আহসান বলেন, ৩১শয্যা থেকে ৫০শয্যায় উন্নিত করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোন লিখিত আদেশ এবং যে পরিমাণ জনবল ও সরঞ্জাম প্রয়োজন তা এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি তাই তা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। অপরদিকে চিকিৎসকরা এসে এই সব মফস্বল অঞ্চলে থাকতে চায় না। তারা সরকারের বেধে দেওয়া দুই বছর পার হলেই বিভিন্ন অজুহাত ও সুপারিশে চলে যায় শহরে। তাই বছরের পর বছর এই সংকট কাটিয়ে ওটা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মাত্র হাতে গোনা কজন চিকিৎসক দিয়ে এত বড় একটি উপজেলার স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা খুবই কষ্টসাধ্য একটি বিষয়। তবুও কোন মতে চালিয়ে যাচ্ছি আর শূন্য পদগুলোর জন্য দীর্ঘদিন যাবৎ সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত চাহিদাপত্র দিয়েছি ।