Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮

চলনবিলের তাড়াশে ভূমি দর্শ্যূদের সরকারী খাল অবৈধ দখলে জলাবদ্ধতায় অনাবাদি হয়ে পড়েছে ৫ হাজার হেক্টর ফসলী জমি

Chalonbil_pic_25.07.15
এ এম জাহিদ হাসান, চলনবিল ব্যুরো চীফ ঃ
চলনবিলের তাড়াশে প্রভাবশালী ভূমি দশ্যুরা প্রত্যেকটি রাস্তার সরকারী খাল দখল করে পুকুর খনন ও ভরাট করে ঘর-বাড়ী নির্মাণ করায় পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় প্রায় ৫ হাজার  হেক্টর আবাদি জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। জানা গেছে, চলনবিলের প্রাণকেন্দ্র তাড়াশ উপজেলার শহর রক্ষার উত্তর ওয়াপদা বাঁধ হতে শুরু করে পশ্চিম ওয়াপদা বাঁধ হয়ে শশ্মান পর্যন্ত রাস্তার দূ’পার্শ্বের সরকারী খাল, তাড়াশ টু খুটিগাছা ভায়া খালকুলা, তাড়াশ টু মহিষলুটি রাস্তার দূ’পার্শ্বের খাল, তাড়াশ টু সোনাপাতিল-বোয়ালিয়া বাজার রাস্তার খাল, তাড়াশ টু দেশীগ্রাম, তাড়াশ টু মাধাইনগর,তাড়াশ তাড়াশ টু বিনসাড়া-কাজিপুরসহ সবগুলো রাস্তার দূ’পার্শ্বের সরকারী খাল দখল করে পুকুর খনন ও ঘর-বাড়ী নির্মাণের মহোৎসব চলছে। এদিকে আবাদী জমি জলাবদ্ধ হওয়ায় গতকাল শনিবার সোনাখাড়া ইউনিয়নের দোস্তপাড়া ও মাধাইনগর ইউনিয়নের  ধাপ-ওয়াশিন সহ কয়েকটি গ্রামের শতাধিক কৃষক একত্রিত হয়ে পানি প্রবাহের বাঁধা সৃষ্টির ৫০/৬০ টি সূতিজাল উদ্ছেদ কওে দেয়। এ ব্যাপারে  তাড়াশ সদরের মুক্তিযোদ্ধা করিম বকস্ এর ছেলে আসরাফুল আলম পলাশ ক্ষোভের সাথে জানান, পশ্চিম ওয়াপদা বাঁধের সগুনা রাস্তায় ব্রিজের মুখ বন্ধ করে মঞ্জিল মাষ্টার সহ কয়েকজন প্রভাবশালী ভূমিদশ্যু রাস্তার দু’পাশের সরকারী খাল দখল করে পুকুর খনন ও ভরাট করে ঘর-বাড়ী নির্মাণ করায় নৌঘাটটি অকেজো হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে ধাপ-ওয়াশিন গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম মনি বলেন, উত্থর মথুরাপুর গ্রামের ধাপের ব্রীজ থেকে কাস্তার পর্যন্ত   প্রায় ৩ কি.মিঃ খালটি ১৯৮২ খ্রিঃ সরকারীভাবে খনন করা হয়। এরপরও খালটির দুই দুই বার খনন করে পানি প্রবাহের জন্য  সচল রাখা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ১৫-২০ জনের প্রভাবশালী ভূমিদশ্যু চক্র সরকারী  খালটি অবৈধভাবে ভরাট করে কোথাও পুকুর খনন আবার কোথাও বাড়ী নির্মাণ  করায় এই এলাকার পানি প্রবাহের পথ প্রায় স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে প্রায় ৫ হাজার  হেক্টর ফসলী জমিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বর্ষকালীন বোনা আমন ও রোপা আমণ চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ওয়াশীন গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন জানান, ওই এলাকার অতি গুরুত্বপুর্ণ পানি প্রবাহের একমাত্র খালটি ভরাট করায় ধাপ, ওয়াশীন, কাস্তা, বেত্রাশীন, ধাণকুন্ঠী, বিলাসপুর, পৌষার ও আড়ংগাইল সহ প্রায় ২০টি গ্রামের ফসলী মাঠের পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে গত কয়েক দিনের অব্যহত বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানিতে প্রায় ৫হাজার  হেক্টর জমিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে রোপা-আমন চাষের ভরা মৌসুমে শত শত কৃষক তাদের ফসলী জমিগুলো চাষ করতে পারছেননা। ভুক্তভোগী একাধিক কৃষক বলেন, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এবং খালের পুর্বাবস্থা ফিরিয়ে এনে তাদের শত শত হেক্টর ফসলী জমি চাষযোগ্য  করে দেওয়া হোক। এ প্রসঙ্গে কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই ফসলী মাঠগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির বিষয়টি শুনেছি, উব্বর্ত্তন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে জরুরী ভিক্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে সরকারী খাল দখল প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূুিম) আব্দুল হালিম টলস্টয় জানান , ইতিমধ্যে উপজেলার ৩৩ জন অবৈধভাবে সরকারী দখলদারের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ মামলা করা হয়েছে এবং খুব দ্রুত সকল খাল অবৈধ দখল মুক্ত করে পানির শ্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে।