Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গোপালগঞ্জে মাছের দাম আকাশ ছোঁয়া :ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছে সিন্ডিকেট

মোহাম্মদ মাহমুদ কবির আলী, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ জেলা শহর এবং পাশ্ববর্তী বিভিন্ন বাজারে আকাশ ছোঁয়া দামে নানা প্রজাতির মাছ বিক্রি হচ্ছে। দেশী কিংবা চাষের মাছ হোক দাম ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে ক্রেতা সাধারনের।
এর পেছনে একটি মধ্যস্বত্ত্বভোগী চক্র রয়েছে বলে তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে। সিন্ডিকেট পরিচালনাকারীদের ইশারায় চলছে মাছের ক্রয়-বিক্রয়। সিন্ডিকেট চক্র প্রভাব খাটিয়ে মাছের বাজার থেকে তুলে নিচ্ছে অঢেল টাকা যা স্বাভাবিকভাবে বোধগম্য হওয়ার নয়।
জেলেরা মাছ ধরে বাজারে আনার পূর্বে কয়েক স্তরে প্রভাবশালীদের তুষ্ট করতে হয়। বাজারে আনার পর ইজতদারের মর্জিমাফিক খাজনা প্রদানে বাধ্য হয়ে যখন ক্রেতা সাধারনের নিকট মাছ বিক্রি হয় তখন দাম গিয়ে পৌঁছে ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। এসবের সাথে রয়েছে দাদন ব্যবসায়ীদের দাপট। সুদের টাকা তুলে নিতে জেলেরা বাধ্য হয় মাছের দাম বাড়াতে। দাদন ব্যবসায়ীরা ক্ষেত্র বিশেষে মাছের মূল্য নির্ধারন করেও দেয়।
যারা নিজ নিজ পুকুরে বা ঘেরে বানিজ্যিকভাবে মাছ চাষ করে পরবর্তীতে আড়তে বিক্রির জন্য নিয়ে যায় তখন তাদেরকে বাধ্য করা হয় এমনকি আড়তে ব্যবহৃত পানির দাম প্রদান করতে। বাজারে ইজতদারকে খাজনা প্রদান করেও আনুষঙ্গিক কাঁচা,পাকা,আড়ত পরিষ্কার ইত্যাদি খাত সহ বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায় করা হয় বিক্রেতাদের কাছ থেকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে আড়তে মাছ নিয়ে গেলে একটি চক্র মাছ বিক্রেতাদের ঘিরে ধরে এবং দাম উঠতে দেয় না। পরে সেই মাছ চড়া দামে সাধারন ক্রেতাদের কাছে বিক্রির জন্য ডাক তোলা হয়। এর সাথে রয়েছে মাছের ওজনে কারসাজি। সাধারন চাষীরা ঘের বা পুকুর থেকে মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করতে গেলে ৪৪ কেজিতে মন ধরা হয়। কিন্তু বিক্রির  সময় তা ওজনে বিক্রি হয় ৩৮ কেজিতে মন হিসাব করে।  একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব চলে, যা চলে আসছে বেশ কয়েক বছর ধরে। আড়তদাররাই লাভবান হয় এ কাজে। এসব অনৈতিক কাজে বাধা দেয়ার কেউ নেই । প্রতিবাদ করলে মাছ চাষী বা জেলেদের মাছ কেনাবেচা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মাছ চাষী,জেলে,মাছ বিক্রেতা বা ক্রেতা সকল মহলেই ভোগান্তির স্বীকার হয়। মাছের দাম বেড়ে হয়ে যায় কয়েকগুন।
গোপালগঞ্জ শহরের নতুন বাজারে বৃহস্পতিবার খোজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি কেজি  বড় ইলিশ মাছ ১২০০ টাকা, মাঝারি ইলিশ মাছ ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছ ১৮০/২৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১০০/১৩০ টাকা, তেলাপিয়া ৭০/১২০ টাকা, সিংগি ৫০০/৯০০ টাকা, চিংড়ি ৩০০/১০০০ টাকা, সিলভার কার্প ৮০/১৬০, চাষের কই  ১৮০/২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের কৈ মাছ খেয়ে অজ্ঞাত রোগে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছে এ ধরনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তা কেউ কিনছে না। দেশী কৈ প্রতি কুড়ী ৪০০/৬০০ টাকা দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ইজতদার, আড়ৎদার এবং দাদন ব্যবসায়ীদের যোগ সাজশ এবং জেলেদের অতিরিক্ত লাভের নেশায় মাছের দাম বেড়ে গেছে পূর্বের তুলনায় অনেকগুন।