Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গার্মেন্টে চাকরি করতে এসে পাচারকারী চক্রের কবলে কিশোরী

নভেম্বর ৬, ২০১৬
অপরাধ, টঙ্গী, নেত্রকোনা
No Comment

ohida
রেজাউল সরকার (আঁধার), গাজীপুর : টঙ্গীতে এক কিশোরী পোশাক শ্রমিককে পাচারকারী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চক্রের সদস্যরা নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার ১৭ দিন পর শনিবার রাতে মামলা নিয়েছে পুলিশ। এলাকার কথিত মাতাব্বররা পাচারকারী চক্রের সদস্যদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন এমন অভিযোগও করেছেন স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীরা। গত ১৮ দিন ধরে মেয়েটিকে কোথাও না পেয়ে অসহায় পরিবারটিতে চলছে শোকের মাতম।

জানা গেছে, নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানার হেইচ্যা গ্রামের একটি হতদরিদ্র পরিবার কাজের সন্ধানে গত প্রায় ৩মাস আগে টঙ্গী শহরে আসে। তারা টঙ্গী আউচপাড়ায় মোল্লা বাড়ি রোডের ফজর আলীর বাড়িতে ৩২শ’ ৭০ টাকায় একটি টিনশেড রুম ভাড়া নেয়। ওই পরিবার প্রধানের নামও ফজর আলী। নেত্রকোনা থেকে আসা এই ফজর আলী মাটি কাটার কাজ এবং তার স্ত্রী বাসা-বাড়িতে ঝি এর কাজ নেন। বড় মেয়েকে একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ দেন। ছোট দুই মেয়েকে দেন একটি পোশাক কারখানায়। অজপাড়া গা থেকে আসা এই পরিবারটির শহুরে পরিবেশে চলার কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। তাদের এই অজ্ঞতা ও সরলতার সুযোগ নেয় পাচারকারী চক্র। একই বাড়িতে পাশের রুমে ভাড়া থাকে সহোদর সেলিম ও হানিফ। পাশের হযরত মাতবরের বাড়িতে ভাড়া থাকে সেলিম-হানিফের ভাতিজা মোখলেস। সেসুবাদে সেলিম, হানিফ ও মোখলেস পরিবারের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে ফজর আলী পরিবারের। ফজর আলীর মেয়ে সরলমনা অহিদার সাথে প্রায়ই কথা বলতো মোখলেস। গত ১৭ অক্টোবর আনিস নামে মোখলেসের এক বন্ধু বেড়াতে আসে। আনিস ভারতের কলকাতা শহরে গাড়ি চালায় বলে জানায় মোখলেস। অহিদাকে আনিসের সাথে বিবাহ দেওয়ার প্রস্তাবও দেয় মোখলেস। অতিমধ্যে গত ২০ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৭টায় অহিদা (১৪) কারখানার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরেনি। একই দিন মোখলেসের বন্ধু আনিসও রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায়। অহিদাকে না পেয়ে মোখলেসের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেয় ফজর আলী। কিন্তু পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। পর দিন আবারো অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে সাদামাটা সাধারণ ডায়েরী নিয়ে দায়িত্ব শেষ করে পুলিশ। ইতিমধ্যে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মোখলেস ও তার দুই চাচা সপরিবারে পালিয়ে যায়। এলাকার কথিত মাতবর আক্তার ও বাড়িওয়ালা ফজর আলী তাদেরকে পালাতে সহযোগিতা করে বলে স্থানীয় মহিলা মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেন। এরা পালিয়ে যাওয়ার পর মানবাধিকার সংগঠন আসক এর স্থানীয় মহিলাকর্মীদের সহযোগিতায় অবশেষে গত শনিবার রাতে মামলা নেয় টঙ্গী মডেল থানা পুলিশ।

অহিদার মা সালেমা বলেন, আমার ছেরিডারে ইন্ডিয়া নিয়া বেইচ্যালাইছে। আমার ৫ ছেরি (মেয়ে), ২ ছেরা (ছেলে)। এতডি পুলাফান নিয়া কিভা চলি। তাই তিনডা ছেরি লইয়া তিন মাস আগে এহানে (টঙ্গীতে) আইছি। যাতে দুইডা পয়সা-কড়ি কামাই কইড়া ছেইরানডিরে বিয়া দিতারি। এহন আমার ডর করতাছে। আমি আর ইহানে থাকতাম না। গেরামের বাড়িতে চইল্যা যাইয়াম। ছেরিডার (অহিদার) চিন্তায় আমরা খাওন-পানি ছাইরা দিছি। আমার হেই ছেরিডারেও (সুজাতা) এক তারিখ থেইকা কাজে যাইতে দিতাছি না। ঘরের খাওন-অ শেষ অয়া গেছে। একশ টেহা আছিল; হেইডা-অ শেষ। থানায় গেছিলাম পুলিশে কোন কথা হুনে নাই। আঙ্গরে (আমারেকে) খেদাইয়া দিছে।

টঙ্গীতে কিভাবে বা কার মাধ্যমে এসেছেন জানতে চাইলে সালেমা ময়মনসিংহের আঞ্চলিক ভাষায় আরো বলেন, আমার চাচা হৌরের (শ্বশুরের) ঘরের ননদ-অ এহানে থাহে। ছেরি দুইডা ছোড (ছোট) দেইহ্যা ভালা গারমেনছে নিত ছানা। হেই (ঐ) গারমেনছের সুপারভাইজার আমার দেওড়ের ছেরির জামাই। তার ওছিলায় ছোড দুইডা ছেরিরে হেই গারমেনছে দেই। বড়ডারে এহানে এক বড় লোকের বাড়িতে কাজে দিছি। এহন আমি সবাইরে লয়্যা বাড়িত যাইয়াম গা।