Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গাজীপুর সিটি মেয়র মান্নান তৃতীয়বার বরখাস্ত

মঞ্জুর হোসেন মিলন : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানের বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা এক মামলা আদালতে চার্জশীট গৃহীত হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে ফের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের উপ সচিব মোঃ শহীদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান দায়িত্ব পালন কালে সিটি কর্পোরেশনের ত্রাণ ও দরিদ্র তহবিলের আয় সমূহ কোন ব্যাংক হিসেবে না রেখে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ক্যাশ ইন হ্যান্ড হিসেবে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার কাছে রাখেন। তারা পরস্পর যোগ সাজসে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও অপরাধ মূলক বিশ্ববি ভঙ্গ ও টাকা গ্রহীতার স্বাক্ষরবিহীন ৯৯৯টি ভ‚য়া ভাউচার সৃজন করে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪৯ লক্ষ ১ হাজার ৮৪৮ টাকা আত্মসাৎ করেন। এ মর্মে দুদক গত বছরের জয়দেবপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

ওই মামলায় গত ১২ জানুয়ারি গাজীপুরের বিশেষ জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদুক। পরে ১৮ জানুয়ারি ওই অভিযোগপত্রটি ওই আদালতে গৃহিত হয়। এর প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

একই প্রজ্ঞাপনে সিটি কর্পোরেশনের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ গোলাম কিবরিয়াকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, একই অভিযোগে অভিযুক্ত ওই মামলার অপর আসামী গাজীপুর সিটি করপোরেশনের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তাকে গত বছরের ৮ নভেম্বর সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এনিয়ে অধ্যাপক এমএ মান্নানে তৃতীয়বার বরখাস্ত করা হলো। এর আগে নাশকতার দুটি মামলায় অভিযোগ পত্র গৃহিত হলে তাকে একই মন্ত্রণালয় পর্যায়ক্রমে ২০১৫ সালের ১৯ আগষ্ট এবং ২০১৬ সালের ১৯ এপ্রিল তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল ।

দীর্ঘ দিন বরখাস্ত থাকার পর আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে গত ১৮ জুলাই মেয়রের চেয়ারে বসেন অধ্যাপক এমএ মান্নান।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মাসিক সভা শুরু হয়। সভায় কোরাম সংকট থাকায় মেয়র মান্নান সভা মুলতবি করেন এবং পরে নগরভবন ত্যাগ করেন।

এদিকে বিকেলে সাড়ে ৪ টার দিকে প্যানেল মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ মেয়রের চেয়ারে বসেন।

উল্লেখ্য, যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা হামলা মামলায় ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রæয়ারি সন্ধ্যায় মান্নানকে ঢাকার বারিধারার বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আদালত কতৃর্ক অভিযোগপত্র গৃহিত হলে ওই বছরের ১৯ আগষ্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। গ্রেফতারের পর থেকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন প্যানেল মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ।

বর্তমানে এম এ মান্নানের বিরুদ্ধে ৩০টি মামলা রয়েছে। সবকটি মামলায় এখন তিনি জামিনে রয়েছেন।