Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ

মঞ্জুর হোসেন মিলন : প্রতীক বরাদ্দের পরপরই নির্বাচনী প্রচারে মাঠে নেমেছেন প্রার্থীরা। গতকাল গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী প্রার্থীদের মধ্যে রির্টানিং অফিসার প্রতীক বরাদ্দ করেন। আগামী ১৫মে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার নির্বাচনে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৭জন মেয়রপ্রার্থী, ২৫৬জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ৮৪জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রতীক পেয়ে জনসংযোগে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। সকালে প্রতীক পেয়েই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই মেয়রপ্রার্থী জনসংযোগে নেমে পড়েছেন।

জয়দেবপুর শহরে বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার রকিব উদ্দিন মন্ডল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্ধ দেয়া শুরু করেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যান। ১১টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীসহ প্রতীক নিতে আসেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মো.জাহাঙ্গীর আলম। রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রথমে ৭জন মেয়রপ্রার্থী ও পরে সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্ধ দেন।
নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মন্ডল জানান, মেয়র প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো.জাহাঙ্গীর আলম (নৌকা), বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার (ধানের শীষ), ইসলামী ঐক্য জোটের ফজলুর রহমান (মিনার), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো.নাসির উদ্দিন (হাতপাখা), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. জালাল উদ্দিন (মোমবাতি), বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির কাজী মো. রুহুল আমিন (কাস্তে) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ আহমদ (টেবিল ঘড়ি) প্রতীক পেয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জন মেয়রপ্রার্থী তাদের দলীয় নির্ধারিত প্রতীক পেয়েছেন। একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থীকে তার পছন্দের প্রতীক টেবিল ঘড়ি দেয়া হয়েছে। এছাড়া সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের প্রতীক বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে একই প্রতীকে একাধিক প্রার্থীর পছন্দ থাকায় সেখানে লটারীর মাধ্যমে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মন্ডল জানান, মঙ্গলবার প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারনা করতে পারলেও কোন দালান ও দালানের দেয়াল, বেড়া, যানবাহন, বিদ্যুতের খুঁটি বা গাছে আঠা বা অন্য কোন পদার্থ দ্বারা পোস্টার লাগাতে পারবেন না। তবে ভোট কেন্দ্র ব্যতীত নির্বাচনী এলাকায় পোস্টার, হ্যান্ডবিল, লিফলেট ঝুলিয়ে বা টানাতে পারবেন। রঙ্গীন পোস্টার ছাপানো বা সাঁটানো যাবে না। পোস্টারে নিজের ছবি ও প্রতীক ছাড়া অন্য কারো ছবি বা প্রতীক ছাপানো যাবে না। তবে প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীরা রাজনৈতিক দলের মনোনীত হলে দলীয় প্রধানের ছবি পোস্টার বা লিফলেটে ছাপাতে পারবেন। এছাড়া সাদা-কালো কাগজের পোস্টার দড়ি, সুতলী বা রশি দিয়ে ঝুলিয়ে বা টাঙ্গিয়ে দেয়া যাবে। পোস্টারের অবশ্যই মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, মুদ্রণের তারিখ, পোস্টারের মোট সংখ্যা উল্লেখ করতে হবে। নির্বাচনী প্রতীকের আকার দৈর্ঘ্য, প্রস্ত ও উচ্চতা কোন অবস্থানেই তিন মিটারের অধিক হতে পারবেনা।
প্রতীক বরাদ্দকালে রিটার্নিং কর্মকর্তা আরো বলেন, বিগত দিনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকরে অনেক মেয়রপ্রার্থীর লিফলেট, হ্যান্ডবিল বিলি করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে তিনি প্রার্থীদের আহŸান জানান।
উল্লেখ্য, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মোট আয়তন ৩২৯দশমিক ৫৩বর্গ কিলোমিটার। ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১৯টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫লাখ ৬৯হাজার ৯৩৫জন ও মহিলা ৫লাখ ৬৭হাজার ৮০১জন। নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র ৪২৫টি। মোট ভোট কক্ষ ২৭৬১, অস্থায়ী কেন্দ্র ১টি, অস্থায়ী ভোট কক্ষ ২৩৫টি।