Pages

Categories

Search

আজ- রবিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গাজীপুর সিটির কিচেন মার্কেট পাঁচ বছরেও চালু হয়নি

রিমিন আক্তার : গাজীপুর শহরের জয়দেবপুর বাজারে নির্মিত কিচেন মার্কেটটি পাঁচ বছরেও চালু হয়নি। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে নির্মিত কাঁচাবাজার চালু না হওয়ায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বেচাকেনা করছেন দোকানিরা। আর এ কারণেই জয়দেবপুর বাজারের যানজটে দুর্ভোগে শহরবাসি। জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে জয়দেবপুর বাজারে ১৮ হাজার ৬০০ বর্গফুটের এই আধুনিক কাঁচাবাজার (কিচেন মার্কেট) চালু করতে সিটি কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দিচ্ছেন জেলা প্রশাসন।
গাজীপুর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, জয়দেবপুর বাজারে নির্ধারিত দোকান না থাকায় এখানকার কাঁচাবাজার ও মাছ ব্যবসায়ীরা খোলা আকাশের নিচে বেচাবিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে বিপাকে পড়েছেন শহরের ক্রেতা ও বিক্রেতারা। ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে ২০০৯ সালে জয়দেবপুর বাজারে কিচেন মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয় তৎকালীন গাজীপুর পৌরসভা। ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর তৎকালীন গাজীপুর পৌরসভার মেয়র বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক মার্কেটটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে মার্কেটের নির্মাণকাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দোতলা এই মার্কেটটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয় ৩ কোটি ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭০ টাকা। ১৮ হাজার ৬০০ বর্গফুট জায়গার ওপর নির্মিত এই মার্কেটের নিচতলায় রয়েছে মাছ, তরকারি ও অন্যান্য দোকান। দোতলায় রয়েছে রকমারি দোকানের ব্যবস্থা। ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি গাজীপুর পৌরসভা সিটি করপোরেশনে অর্ন্তভ‚ক্ত হয়। ওই বছরের ৬ জুলাই নবগঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান কিচেন মার্কেটের উদ্বোধন করেন।
জয়দেবপুর বাজার তরকারি ব্যবসায়ী সমিতির সহ সভাপতি মো. বাচ্ছু মিয়া বলেন, এই বাজারে ৪২বছর ধরে কাচা মালের ব্যবসা করে আসছি। কিচেন মার্কেটে দোকান পাওয়ার জন্য পাঁচ বছর আগে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জমা দিয়েও রাস্তায় বেচা-বিক্রি করছি। কিন্তু কিচেন মার্কেটে দোকান বরাদ্দ পাচ্ছিনা। কিন্তু এখনো ওই দোকানে উঠতে পারেননি তিনি। তাঁর অভিযোগ প্রথম ১০ফট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থ্য মাপের দোকান বরাদ্দ দেয়ার কথা ছিল\ দোকানদার বেশী হওয়ায় মেয়র মান্নান আলোচনা সাপেক্ষে আট ফুট করেছিলেন । কিন্তু পরবর্তী সময় সেই দোকান সাড়ে ছয় ফুট করা হয়েছে।
কাঁচা মালের ব্যবসা করেন মো: ফিরুজ মিয়া। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কাঁচা মালের দোকানীরা রাস্তায় বসে ব্যবসা করেন। এতে করে জয়দেবপুর বাজারে সারাক্ষণ যানজটে সাধারন মানুষের কষ্ট হয়। আবার মাঝে মধ্যেই পুলিশ এসে দোকান উঠিয়ে দেয়।
দোকানের জায়গার অভাবে আমরা বাইরে খোলা জায়গায় বসে ব্যবসা করতে বাধ্য হচ্ছি। মাঝে মধ্যে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট এসে আমাদের রাস্তার পাশ থেকে সরিয়ে দেয়। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দোকান চালালেও জায়গার অভাবে বেশি মালামাল রাখা যায় না।’
কিচেন মার্কেটের দোতলায় দোকান বরাদ্দ পেয়েছেন মুরগি ব্যবসায়ী মো. রায়হান মিয়া। তিনি বলেন, স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করার জন্য আট লাখ টাকা ব্যয় করে দোকান বরাদ্দ নেন তিনি। দীর্ঘদিন হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তাঁদের দোকান বুঁঝিয়ে দেয়নি সিটি করপোরেশন। । দ্রæত নতুন কিচেন মার্কেটে ব্যবসায়ীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন তিনি।
জয়দেবপুর বাজার মাংস ব্যবসায়ী মো: আকতার হোসেন বলেন, জায়গার অভাবে রাস্তার উপর মাঁচায় মাংস বিক্রি করছি। মাংস ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দ্দিষ্ট মার্কেট তৈরীর দাবী জানান তিনি।
জয়দেবপুর বাজারের ব্যবসায়ী বাবু সঞ্জয় প্রথম দফায় দোকান বরাদ্দ পাননি। পরে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের সাথে যোগাযোগ করে ২লাখ ৭০হাজার টাকা দিয়েছেন দোকান পাওয়ার জন্য্।

গাজীপুর জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সেপ্টেম্বর মাসের সভায় সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি একমাসের মধ্যে কিচিন মার্কেটটি চালুর কথা জানান। সভার সিদ্ধান্ত জনস্বার্থে বাস্তবায়ন করতে সিটি মেয়র ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়ে দেয়া হয়।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম রাহাতুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন সময় যারা মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন তারা দোকান বরাদ্দ দিয়েছেন। নির্দ্দিষ্ট সংখ্যক দোকানের চেয়ে আবেদনকারী বেশী হওয়ায় বরাদ্দ দেয়া যাচ্ছেনা। তিনি আরো বলেন, সিটি মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান মার্কেটটি নিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে গত কয়েকদিন আগ্ওে বসেছিলেন। জটিলতা শেষ করে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্যে দোকানগুলো বরাদ্দ কবে নাগাদ দেওয়া যাবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছেনা।