Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গাজীপুর শহরে ভিক্ষাবৃত্তি বাড়ছে


মঞ্জুর হোসেন মিলন : গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তি বাড়ছে। সামাজিক নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন কর্মসূচি না থাকায় ভিক্ষুকের ভিক্ষাবৃত্তি জাতীয় জীবনে অন্তরায় হিসেবে দাঁড়িয়েছে। শহরের সরকারি বেসরকারি অফিসের বারান্দা, রাস্তা, মসজিদ ও দোকান সহ এমন কোন জায়গা নেই যেখানে ভিক্ষুক দেখা যায় না। অন্ধ, পঙ্গু, বোবা, রুগ্ন এবং বিভিন্ন ধরণের ভিক্ষুক দেখা যায়। তারা ভিক্ষা করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকার অঙ্গভঙ্গি, চিৎকার, গান, ছলনা, প্রতারণা ও প্রবঞ্চনার আশ্রয় নেয়। জীবন যতই কঠিন হচ্ছে ভিক্ষুকের ভিক্ষাবৃত্তির ধরণ ততই পাল্টাচ্ছে। এদের মধ্যে প্রকৃত ভিক্ষুক, কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট ভিক্ষুক, মৌসুমী ভিক্ষুক, উত্তরাধিকারী ভিক্ষুক, অভাবী ভিক্ষুক, কর্মবিমূখ ভিক্ষুক ও ব্যবসায়ী ভিক্ষুক সহ বহু ধরণের ভিক্ষুক দেখা যায়।


গাজীপুর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শত শত ভিক্ষুক জনবহুল এলাকায় ভিক্ষার জন্য অর্থ প্রার্থনা করছে। ভিক্ষা করে জীবনধারণ করতে সাহায্য চাওয়ার ঘটনায় সাধারন মানুষ বিরক্ত হতে দেখা গেছে। বিনা পরিশ্রমে মানুষের করুণা ও দয়া হাত পেতে গ্রহণ করে জীবিকা অর্জণ যেন পেশায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন সরকারী অফিসের বারান্দায় ও অফিসের প্রবেশ পথে, মসজিদের সামনে এবং চায়ের ষ্ট্রল বা দোকানের আশপাশে ভিক্ষুকরা সাহায্য প্রার্থনা করছেন। গাজীপুর শহরের রেলক্রসিংয়ের যানজটে আটকে থাকা প্রাইভেটকার ও রিক্সায় ভিক্ষা করতে দেখা যায় অনেক ভিক্ষুকদের। নাছরবান্দা এসব ভিক্ষুকদের পীড়াপিঁড়িতে মানুষ বিরক্ত। তবে জেলায় কি পরিমান ভিক্ষুক আছে এ তথ্য গুলো সরকারি সংস্থার কাছে নেই।


গত শুক্রবার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন মসজিদে জুমার নামাজের পর প্রায় অর্ধশত ভিক্ষুককে মসজিদের সামনে ভিক্ষুকরা সাহায্য প্রার্থনা করতে দেখা গেছে। নারী, শিশু ও বয়স্ক দু:স্থ্য মানুষদের ভিক্ষার জন্য হাত বাড়িয়ে রাখকে দেখা গেছে। এদের মধ্যে পঙ্গু ও রোগাক্রান্ত অসহায় মানুষরাও মুসল্লিদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছেন। নামাজ শেষে কথা হয় গাজীপুর শহরের বাসিন্দা জিল্লুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, ইদানিং গাজীপুর শহরে ভিক্ষুকের সংখ্যা বেড়ে গেছে। ভিক্ষুককে সাহায্য দেয়ার জন্য পকেটে হাত দিলে মূহুর্তেই আশপাশ থেকে ভিক্ষুকরা ঝড়ো হয়। এটি একটি জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে, ভিক্ষাভিত্তি বন্ধ করতে ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রম চালু করা দরকার বলে মত দেন তিনি।
সিটি কর্পোরেশন মসজিদের ইমাম আলহাজ্ব মাও: কাউসার আহমাদ হাবিবী জানান, ধর্মীয় দৃষ্টিতে ভিক্ষাবৃত্তি নিষেদ। এটি সন্মানের পেশা নয়।
সুজন গাজীপুর জেলা সভাপতি অধ্যাপক মুকুল কুমার মল্লিক এবিষয়ে বলেন, দরিদ্র মানুষরা ভিক্ষা করে। তবে কিছু মানুষ অতিরিক্ত আয় রোজগারের জন্যও ভিক্ষাবৃত্তি করে থাকে। মসজিদে আসা ধনীরা সোয়াবের আশায় দান করে থাকেন। আদালত চত্তরে অনেক ভিক্ষুক দেখা যায়, বিচার প্রার্থীরা ন্যায় বিচার পাওয়ার আসায় মুক্তহস্তে ভিক্ষুকদের দান করে থাকেন। হাত পেতে ভিক্ষা নেয়া সন্মানের পেশা নয়। ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে মসজিদের ইমাম কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা সচেতনতা সৃষ্টি করতে বয়ান করতে পারেন। এছাড়া ভিক্ষাবৃত্তির কুফল তুলে ধরে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে প্রচারনা চালাতে পারে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর জেলা সমাজসেবা বিভাগকে ভিক্ষুক পুনর্বাসনের জন্য জরিপ কার্যক্রম চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে গাজীপুর জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করার পদক্ষেপ হিসেবে মসজিদকেন্দ্রিক প্রচারণা চালাতে এবং বাস্তবায়নে গুরুত¦সহকারে কার্যকর ভুমিকা রাখতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন গাজীপুরের উপ পরিচালককে দায়িত্ব দিয়েছেন। জেলা প্রশাসন সুত্র জানায়, গাজীপুরকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন গাজীপুরের উপ পরিচালক মো: মহিউদ্দিন গাজীপুরে ভিক্ষাবৃত্তি বেড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ভিক্ষাবৃত্তি নিরুৎসাহীত করতে জেলার মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষকদের বলা হয়েছে। তবে ফান্ড না থাকায় মসজিদে মসজিদে ব্যানার ও লিফলেট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
গাজীপুর সমাজসেবা উপ পরিচালক শঙ্কর সরণ সাহা এ প্রতিবেদককে বলেন, জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভার এরকম কোনো সিদ্ধান্তের কথা আমার জানা নেই। ইউনিয়ন পরিষদ জরিপ করার কথা। খোঁজ নিয়ে এবিষয়ে পরে আপনাকে জানাতে পারবো।