Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮

গাজীপুর শহরে নেই শিশু পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র

গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট : গাজীপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের চারপাশে তিন কিলোমিটার আবাসিক এলাকা স্কুল-কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নগরীতে পরিনত হয়েছে। বিভিন্ন ভবনের ভাড়া কক্ষে গড়ে ওঠা বিদ্যালয় গুলোতে নেই খেলাধুলা বা বিনোদনের সুযোগ। গুরুত্বপূর্ণ এই শহরে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শিশুদের নেই কোনো বিনোদন কেন্দ্রও। শিশুর মানষিক ও শারীরিক বিকাশে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে শিশু পার্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।
শিশু আইনে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে শিশুর স্বপ্নের জগৎ ও ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দেয়ার কথা রয়েছে। আবার রাষ্ট্রের সংবিধানে শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান, খেলাধুলা-বিনোদন, দুর্যোগ মোকাবেলায় সাহায্য-সহযোগিতা পাওয়া এবং সুস্থ্য সামাজিক পরিবেশে বেড়ে উঠা শিশুর জন্মগত অধিকার। এসব বিষয়ে কথা হয় শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, এনজিও কর্মী, সমাজকর্মী ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে।
শহরের নগর ভবন সড়কের উত্তরণ আদর্শ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আফিফা রউফ জানান, শহরের শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য দ্রæতই এই উদ্যোগ নেয়া দরকার।
গাজীপুর শহরের মধ্য ছায়াবিথী এলাকার শহীদ ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো: শহীদুল ইসলাম শহীদ বলেন, শিশুদের নির্মল বিনোদনের জন্য অবশ্যই একটি শিশু পাক নির্মাণ প্রয়োজন। এছাড়া রাজবাড়ির মাঠটিও শিশুদের বিনোদনের জন্য উন্মুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ নেয়া দরকার।
গাজীপুর শহরের একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী তৌহিদুর রহমান সাজিদের বাবা মো: সাদেক আলী বলেন, ‘স্কুলে পড়াশোনার বাইরে খেলাধুলা বা বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। চার তলা বিশিষ্ট স্কুল বিডিং এ সরু সিড়ি ও অপর্যাপ্ত টয়লেট ব্যবস্থা। খোলামেলা পরিবেশ নাই বললেই চলে। বিদ্যুৎ না থাকলে অনেক সময় স্কুল ছুটি হয়ে যায়’।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এনজিও ‘ইউনিসেফ বাংলাদেশ’ শিশু সুরক্ষায় কাজ করছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের (জিসিসি) ৫নং অঞ্চল কোনাবাড়ি কাশিমপুর এলাকায়। শিল্প এলাকার কর্মজীবি নারীদের শিশু পরিচর্যা ও হতদরিদ্র বা অতিদরিদ্র শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সেবাসহ শিশু সুরক্ষায় কাজ করছেন ইউনিসেফ। জিসিসি-ইউনিসেফ আরবান প্রকল্পের সিনিয়র শিক্ষা কর্মকর্তা মো: শফিকুল হাসান মনে করেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিন্ডার গার্টেন স্কুল গুলোতে পড়াশোনার বাইরে অন্য কোনো সহ শিক্ষার ব্যবস্থা নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসকল বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া শিশুর পরিচর্যার পাশাপাশি প্র্কা-প্রাথমিক শিক্ষা হিসেবে আচরণগত শিক্ষা এবং বিনোদন নিতান্ত প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কারিগরি কলেজ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব অধ্যাপক আসাদুজ্জামান আকাশ বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশুদের জন্য বিনোদন ‘নয়নের অংশ যেমন নয়নের পাতা’ এমনই একটি বিষয়। তাই প্রত্যেকটি স্কুলের সাথেই খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য প্রয়োজনীয় মাঠ ও মহানগরের প্রত্যেকটা ওয়ার্ডেই একটি শিশুপার্ক অতি অল্প সময়ে স্থাপন করা জরুরী।
জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো: নাসির উদ্দিন বলেন, শিশুদের মানষিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য প্রয়োজন শিশু একাডেমীর নিজস্ব ভবন। বর্তমানে জেলা শহরের একটি ভাড়া বাসায় শিশু একাডেমীর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এখানে সীমিত জায়গার মধ্যে শিশুর বিনোদন ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শিশু সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে জরুরী ভিত্তিতে শিশু একাডেমীর ভবনের জন্য জমি প্রয়োজন। শিশু একাডেমী ভবন নির্মাণে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাও রয়েছে।
সিটির ২৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব মো: হাসান আজমল ভূঁইয়া জানান, নারী ও শিশুদের বিনোদনের জন্য একটি বিনোদন কেন্দ্র খুবই প্রয়োজন। এ কারণেই হাড়িনাল এলাকার রাজবাগানটি বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান মেয়র মহোদয়ের নিকট প্রস্তাব দিয়েছি।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সচিব(ভারপ্রাপ্ত) ড. খ ম কবিরুল ইসলাম বলেন, শিশুদের জন্য বিনোদন কেন্দ্র প্রয়োজন। কর্পোরেশনের কোনো শিশু পার্ক নেই। তবে সিটির মাস্টার প্ল্যানে শিশু পার্ক প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ বিষয়।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, গাজীপুর শহরে দৃষ্টিনন্দন একটি শিশু পার্ক নির্মাণ করতে চাই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে। আর শিশু একাডেমী ভবন নির্মাণের জন্য জায়গা খোঁজা হচ্ছে।