Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮

গাজীপুর নগরের চতরে স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের দাবী


গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট : গাজীপুর মহানগরের চতর এলাকার শিশু ও নারীসহ সাধারন মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র নির্মাণ প্রয়োজন। সিটির ২৪নং ওয়ার্ডের চতর ও আশপাশে দশ হাজারের বেশী মানুষের বসবাস। চতর বাজার ঘণবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র স্থাপনের দাবী জানিয়েছেন স্থানিয়রা।


সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সিটি কর্পোরেশনের ২৪নং ওয়ার্ডের চতরবাজার ও আশপাশ এলাকা এবং ২৩নং ওয়ার্ডের বিশাল এলাকার মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই এলাকার নারী ও শিশুরা স্বাস্থ্য সেবা নিচ্ছেন সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নং ওয়ার্ডের সিডিসি- ১৩ সিটি গভার্ণমেন্ট প্রকল্পের দারিদ্র হ্রাসকরণ কর্মসূচীর আওতায় কুকিল মহিলা দলনেত্রীর বাড়িতে। স্বল্প পরিসরে এখান থেকে দেয়া হয় পরিবার পরিকল্পনা সেবা। আরো রয়েছে সূর্যের হাসি ক্লিনিক কেন্দ্র, যক্ষ¥া নিরাময় কেন্দ্র, ইপিআই সেন্টার, পলিও এবং ভিটামিন এ কেন্দ্র। এলাকার পাঁচ হাজারেরও বেশী দরিদ্র নারীরা দীর্ঘদিন ধরে এই কেন্দ্র থেকে সেবা ভোগ করে আসছেন। এলাকাবাসিরা জানান, বিএডিসি ও শিমুলতলী এলাকায় রয়েছে অনেকগুলো জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা নিজস্ব ব্যবস্থায় চিকিৎসা সেবা পেলেও আশপাশের সাধারন মানুষরা বঞ্চিত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা থেকে। ১৬ অক্টোবর মঙ্গলবার রাজেন্দ্রপুর- টাকশাল রোডের উত্তর পাশে সিটির চতরে মো: অলিউল্লাহ হাওলাদারের বাড়িতে ইপিআই টিকা কেন্দ্রে নারী ও শিশুদের ভীর দেখা যায়। টিকা কার্যক্রম পরিচালনার দায়িতে¦ থাকা কুকিল মহিলা দলনেত্রী খালেদা আক্তার জানান, এখানে দীর্ঘদিন যাবৎ স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম চলে আসছে। যে পরিমান রোগী আসে তাদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। বাড়ির মালিক ১৯৭১ সালের ১৯শে মার্চে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ যোদ্ধা মো: অলিউল্লাহ হাওলাদার জানান, ১৯৮৬ সাল থেকে এখানে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুর সেবা সহ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। চতর এলাকায় একটি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হলে আশপাশের ৮/১০ গ্রামের মানুষ আধুনিক চিকিৎসা সেবা পাবেন।


শিশুকে টিকা দিতে আসা জোস্নাৎ রবিদাস বলেন, হাসপাতাল না থাকায় অনেক কষ্ট হয়। হাসপাতাল হলে অনেক ভালো হবে। ১৫-৪৯ বছর বয়সী নারীদের টিটি টিকা দেয়া হয়। হাতিয়াব এলাকার শাপলা আক্তার কাজ করেন শিমুলতলীর প্লাষ্টিক কারখানায়। টিটি টিকা নিতে আসা শাপলা আক্তার এ প্রতিবেদকের কাছে হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার(অব:) ইদ্রিস মিয়া সহ এলাকার অনেকের দাবী এখানে একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হউক।
সিটি কর্পোরেশনের ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, একটি হাসপাতাল হলে এলাকার মানুুষের অনেক উপকার হবে। চিকিৎসা সেবার জন্য হাসপাতাল প্রয়োজন। এলাকাবাসীর এই দাবী দীর্ঘদিনের।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের টিকাদান কর্মী মাকসুদা আক্তার ও রিনা আক্তার জানান, শূণ্য থেকে আঠারো মাস বয়সী ৬২ জন শিশুকে য²া, হামরুবেলা, বিসিজি প্যান্টা ও টিসিবি ভায়েল, আট জন গর্ভবতী এবং ১৫বছর বয়স থেকে ৪৯ বছর বয়সী ৮৬ জন নারীকে টিটি টিকা প্রদান করা হয়েছে। এই এলাকায় একটি হাসপাতাল নির্মাণ হলে মানুষ উপকৃত হবে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর গাজীপুরের উপ পরিচালক লাজু শামসাদ হক বলেন, নগরের ভিতর নতুন করে সরকারি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ সীমিত। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম তরান্বিত করতে সিটি কর্পোরেশন নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন সহ অন্যকোনো উদ্যোগ নিতে পারে।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো: আ: ছালাম সরকার জানান, স্বাস্থ্য সেবা মানুষের অধিকার। চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র অথবা ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করা যেতে পারে। বিষয়টি উর্ধ্বত্তন কর্তৃপক্ষের নজরে আনবো।