Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ২০ নভেম্বর ২০১৮

গাজীপুরে ১১বছর পর বাবা ও সৎ মাকে হত্যার ৪ ভাইয়ের দায় স্বীকার

RAB_pic_14-5-16[1]
নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর : গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বাসন এলাকা থেকে ১১ বছর আগে বাবা ও সৎ মাকে হত্যা করে লাশ তুরাগ নদীতে ডুবিয়ে দেয়া এবং সৎ ভাই ইমরানকে সিলেটের শাহজালাল (রঃ) এর মাজারে রেখে আসে কথা স্বীকার করেছে গ্রেফতার ৪ ভাই। শনিবার সকালে র‌্যাব-১ এর এএসপি মোহাম্মদ নাজমুল হাসান রাজিব এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল বাসন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই চার ভাইকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- বাসন কালিপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোঃ রমজান আলী (৫০), মোঃ বাবুল হোসেন, মোঃ আরফান আলী (৩৫), মোঃ আকরাম আলী (৩০)। অভিযানকালে তাদে অপর ভাই আহসান হাবিব (৪৫) পালিয়ে যায়।

র‌্যাব জানায়, গত ২০০৫ সালে হঠাৎ করেই মোহাম্মদ আলী (৬০), তার দ্বিতীয় স্ত্রী চায়না খাতুন (২৫) এবং তাদের ৪ চার বছরের ছেলে ইমরান আলী নিখোঁজ হয়ে যায়। আত্নীয় স্বজন, এলাকাবাসী ও পাড়া প্রতিবেশীরা তাদের সম্বন্ধে খোঁজ নিলে মোহাম্মদ আলীর প্রথম ঘরের সন্তানেরা জানায় তাদের বাবা রাগ করে দ্বিতীয় স্ত্রী ও পুত্রকে নিয়ে রংপুর চলে গেছে। এর আগেও সে রাগ করে রংপুর তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ীতে চলে গিয়েছিল তাই প্রতিবেশীরাও কোন সন্দেহ করে নাই। এ ঘটনায় তার পুত্ররা কোন জিডি বা আইনি কার্যক্রম করে নাই। পরবর্তীতে কন্যা ও নাতির কোন খবর না পেয়ে চায়না খাতুনের মা গাজীপুর আসলে আকার ইঙ্গিতে অনেকেই তাকে বলে যে তার মেয়েকে মেরে ফেলা হয়েছে। দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হওয়ায় এবং অন্যান্য চাপে পড়ে সে আইনের আশ্রয় নিতে পারেনি। মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ায় সেও আর ঢাকায় আসেনি। পরবর্তীতে সে র‌্যাবের শরনাপন্ন হয়ে তার কন্যা, জামাই ও নাতির রহস্যময় অন্তর্ধানের বিষয়টি অবহিত করে।
অভিযোগ পেয়ে র‌্যাব-১ বিষয়টির তদন্তে নামে। অভিযোগে উল্লেখিত এলাকায় খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় ঐ তিনজন দীর্ঘদিন যাবৎ রহস্য জনকভাবে নিখোঁজ এবং অনেকে জানায় তারা নাকি রংপুরে চলে গিয়েছে। রংপুরে মোহাম্মদ আলীর শ্বশুড় বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তাদের হদিস না মেলায় সন্দেহ আরো প্রকট হয় যে, হয়তবা তাদের ৩ জনকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হয়েছে এবং পরবর্তীতে রংপুরে চলে যাওয়াকে সামনে এনে সমগ্র বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। পরে র‌্যাব সদস্যরা শনিবার ওই চার ভাইকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্কীকার করে যে, ২০০৫ সালেই তারা তাদের বাবা ও সৎ মাকে হত্যা করে লাশ বস্তায় করে তুরাগ নদীতে ডুবিয়ে দেয় এবং সৎ ভাই ইমরানকে সিলেটের শাহজালাল (রঃ) এর মাজারে রেখে আসে। তারা র‌্যাবকে আরও জানায়, দ্বিতীয় বিবাহের পর বাবা এবং তাদের আপন মায়ের মধ্যে বিভিন্ন সময় ঝগড়াঝাটি লেগে থাকত। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে তাদের বাবা সৎ মা’কে ১০ শতাংশ এবং সৎভাই মোঃ ইমরানকে ১০ শতাংশ জমি লিখে দেয়। উক্ত জমি দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাবার সাথে তাদের প্রায়ই কথা কাটাকাটি লেগে থাকত। জমি দেওয়ার অনুমান এক সপ্তাহ পর তারা ৫ ভাই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তাদের বাবা এবং সৎ মা যে ঘরে ঘুমায় সেই ঘরে প্রবেশ করার পরে জমি দেওয়া নিয়ে বড় ছেলে বাবাকে জিজ্ঞাসা করে। তাদের বাবা বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করলেও পরে ঝগড়া ঝাটির এক পর্যায়ে সৎ মা’কে ও ভাইকে জমি দেওয়ার কথা স্বীকার করে এবং তাদেরকে জমি দেবেনা বলে জানায়। এসময় আকরাম ও আরফান তার বাবার মুখে চেপে ধরে এবং অপর ভাই আহসান বাবার পা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তাদের সৎ মা চিৎকার চেচামেচি শুরু করলে তাদের অন্য ভাই মোঃ বাবুল হোসেন তাদের সৎ মায়ের মুখে বালিশ চেপে ধরে এবং তাদের বড়ভাই রমজান আলী সৎ মায়ের পা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ঘটনার পর তারা বাবা ও সৎ মায়ের লাশ প্লাষ্টিকের বস্তায় মাটি ভরে লাশের কোমড়ে রশি দিয়ে বেধে পার্শ্ববর্তী তুরাগ নদীতে ফেলে দেয়। বাড়ীতে এসে ঐ রাতেই আনুমানিক ৩টার দিকে মোঃ বাবুল ও আহসান তাদের সৎ ভাই ইমরান আলী (৪) কে নিয়ে হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজার সিলেটে যায় এবং সেখানে ইমরানকে ফেলে রেখে পালিয়ে গাজীপুরে চলে আসে। শনিবার সকালে তাদের গ্রেফতার করার পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ও দেখানো মতে তুরাগ নদীতে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি নামিয়ে ব্যাপক তল্লাশী চালিয়েও লাশের দেহবশেষ বা অংশবিশেষ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

র‌্যাব জানায়, চায়না খাতুনের মা ঘটনার পর কয়েকবার এলাকায় এসে খোঁজ না পেয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি জিডি করে। কিন্ত মোহাম্মদ আলীর ছেলেরা ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং বিভিন্ন কৌশলে মিথ্যার আশ্রয়ে চায়না খাতুনের মাকে অভিযোগ প্রদান এবং আইনের আশ্রয় নেয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। তারা চায়নার মাকে আরো জানায় যে, মোহাম্মদ আলীর সাথে তাদের যোগাযোগ হয়েছে এবং মোহাম্মদ আলীর শ্বাশুড়ীকে বিভিন্ন সময় টাকা পয়সা দিয়ে বলে তার মেয়ে পাঠিয়েছে।

নিখোজঁ ইমরানকে খোঁজার জন্য র‌্যাবের আরেকটি দল সিলেটে শাহজালাল মাজার ও সংশিষ্ট এলাকায় ইতিমধ্যে কার্যক্রম শুরুকরেছে কিন্ত এখনও তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।