Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮

গাজীপুরে ভিক্ষুকদের পীড়াপিঁড়িতে মানুষ বিরক্ত


মঞ্জুর হোসেন মিলন : গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষুকের সংখ্যা বাড়ছে। ভিক্ষাবৃত্তি সামাজিক নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন কর্মসূচিকে । হতদরিদ্র বা অতি দারিদ্র্যের সংখ্যা কমায় এবং বিশ্ব ব্যাংকের হিসেবে মাথাপিছু আয়বাড়ায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা লাভ করেছে। এঅবস্থায় ভিক্ষুকের ভিক্ষাবৃত্তি জাতীয় জীবনে অন্তরায় হিসেবে দাঁড়িয়েছে। শহরের সরকারি- বেসরকারি অফিসের বারান্দা, সিটি কর্পোরেশন ভবন এলাকা, রাস্তা, মসজিদ ও দোকান সহ এমন কোন জায়গা নেই যেখানে ভিক্ষুক দেখা যায় না। অন্ধ, পঙ্গু, বোবা, রুগ্ন এবং বিভিন্ন ধরণের ভিক্ষুক দেখা যায়। তারা ভিক্ষা করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকার অঙ্গভঙ্গি, চিৎকার, গান, ছলনা, প্রতারণা ও প্রবঞ্চনার আশ্রয় নেয়। জীবন যতই কঠিন হচ্ছে ভিক্ষুকের ভিক্ষাবৃত্তির ধরণ ততই পাল্টাচ্ছে। এদের মধ্যে প্রকৃত ভিক্ষুক, কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট ভিক্ষুক, মৌসুমী ভিক্ষুক, উত্তরাধিকারী ভিক্ষুক, অভাবী ভিক্ষুক, কর্মবিমূখ ভিক্ষুক ও ব্যবসায়ী ভিক্ষুক সহ বহু ধরণের ভিক্ষুক দেখা যায়।
গাজীপুর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শত শত ভিক্ষুক জনবহুল এলাকায় ভিক্ষার জন্য অর্থ প্রার্থনা করছে। ভিক্ষা করে জীবনধারণ করতে সাহায্য চাওয়ার ঘটনায় সাধারন মানুষ বিরক্ত হতে দেখা গেছে। বিনা পরিশ্রমে মানুষের করুণা ও দয়া হাত পেতে গ্রহণ করে জীবিকা অর্জণ যেন পেশায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন সরকারী অফিসের বারান্দায় ও অফিসের প্রবেশ পথে, মসজিদের সামনে এবং চায়ের ষ্ট্রল বা দোকানের আশপাশে ভিক্ষুকরা সাহায্য প্রার্থনা করছেন। গাজীপুর শহরের রেলক্রসিংয়ের যানজটে আটকে থাকা প্রাইভেটকার ও রিক্সায় ভিক্ষা করতে দেখা যায় অনেক ভিক্ষুকদের। নাছরবান্দা এসব ভিক্ষুকদের পীড়াপিঁড়িতে মানুষ বিরক্ত। তবে জেলায় কি পরিমান ভিক্ষুক আছে এ তথ্য সরকারি সংস্থার কাছে নেই। এমনকি ভিক্ষাবৃত্তিকে নিরুৎসাহীত করতে সরকারি কোনো তৎপরতা নেই।
সম্প্রতি এক শুক্রবার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন মসজিদে জুমার নামাজের পর প্রায় অর্ধশত ভিক্ষুককে মসজিদের সামনে সাহায্য প্রার্থনা করতে দেখা গেছে। নারী, শিশু ও বয়স্ক দু:স্থ্য মানুষদের ভিক্ষার জন্য হাত বাড়িয়ে রাখতে দেখা গেছে। এদের মধ্যে পঙ্গু ও রোগাক্রান্ত অসহায় মানুষরাও মুসল্লিদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছেন। নামাজ শেষে কথা হয় গাজীপুর শহরের বাসিন্দা জিল্লুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, ইদানিং গাজীপুর শহরে ভিক্ষুকের সংখ্যা বেড়ে গেছে। ভিক্ষুককে সাহায্য দেয়ার জন্য পকেটে হাত দিলে মূহুর্তেই আশপাশ থেকে ভিক্ষুকরা ঝড়ো হয়। এটি একটি জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে, ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করতে ভিক্ষুক পুনর্বাসন কার্যক্রম চালু করা দরকার বলে মত দেন তিনি।
সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশন মসজিদের ইমাম আলহাজ্ব মাও: কাউসার আহমাদ হাবিবীর সাথে কথা হয়। তিনি জানান, ধর্মীয় দৃষ্টিতে ভিক্ষাবৃত্তি নিষেদ। এটি সন্মানের পেশা নয়।
সুজন গাজীপুর জেলা সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক রুহুল আমিন সজিব এবিষয়ে বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভিক্ষুকদের ভিক্ষা দেয়না। গাজীপুরের মানুষ উদার ও দানশীল। শিল্প এলাকা হওয়ায় দরিদ্র মানুষরা গাজীপুরে ভীরছে ভিক্ষা করতে। ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে ভিক্ষাবৃত্তির কুফল তুলে ধরে সরকারি- বেসরকারি পর্যায়ে প্রচারনা চালাতে পারে। ভিক্ষুক পুর্নবাসনে সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে।
জেলা প্রশাসন সুত্র জানায়, গাজীপুরকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, ভিক্ষুক পুনর্বাসনে জরিপ কার্যক্রম চলছে। পেশাদার ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছেনা। গাজীপুর জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করার পদক্ষেপ হিসেবে ভিক্ষুক পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রীর তহবিলের অর্থ ও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের একদিনের টাকাও এই তহবিলে জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ডভিত্তিক বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভিক্ষুকদের তালিকা করা হচ্ছে।
গাজীপুর সমাজসেবা উপপরিচালক এস. এম. আনোয়ারুল করিম এ প্রতিবেদককে বলেন, জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভার রেজুলেশনে বলা হয়েছে তবে কোনো রকম দায়িত্ব দেয়া হয়নি। জেলা সমাজসেবা বিভাগকে কমিটির দায়িত্ব দেয়া হলে ভিক্ষুক পুনর্বাসনের কাজটি করবো।