Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ১৩ নভেম্বর ২০১৮

গাজীপুরে পাসপোর্ট অফিসে অনিয়ম

নভেম্বর ১২, ২০১৬
অনিয়ম, গাজীপুর
No Comment

20161020_142605
গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট : নির্ধারিত ফি ব্যাংকের জমা দিয়েও এমআরপি পাসপোর্ট পাওয়া যায় না। পাসপোর্ট করতে লাগে অতিরিক্ত টাকা, নয়তো কারো তদবির। এমনই অভিযোগের কাথা জানালেন গাজীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্টস অফিসে পাসপোর্ট করতে আসা ব্যক্তিরা।

শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা মো. মনিরুজ্জামান যাবেন বিদেশে। ব্যাংকে নির্ধারিত ফি জামা দিয়ে এমআরপি পাসপোর্টের ফরম পূরন করে সকাল ১০ টা থেকে লাইনে দাড়িয়ে আছেন। সকাল সাড়ে ১১ দিকে তাকে যখন ডাকা হলো তখন তাকে বলা হয়, আপনার ফরমে ভুল রয়েছে। ঠিক করে নিয়ে আসেন। দুইদিন ঘুরেও সেই ভুল আর ঠিক হয়না। পরে এক দালালের মাধ্যমে এক হাজার টাকা দিলেই সব ভুলই ঠিক হয়ে গেল।

পাসপোর্ট করতে আসা ব্যক্তিরা জানান, গাজীপুর শহরের টাংকিরপাড় এলাকায় অবস্থিত গাজীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। এখানে টাকা ও তদবির ছাড়া পাসপোর্ট মিলে না। তবে সরকারী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের তদবির থাকলে সহজেই পাওয়া যায় পাসপোর্ট। পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হুদাসহ ছোট বড় সকল স্যারকে মেনেজ করে ৩০-৪০জন দালাল কাজ করে এ অফিসে। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দালালদের মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয় লাখ লাখ টাকা। কোন ব্যাক্তি পাসপোর্ট করতে আবেদন করলে এই ভুল সেই ভুল দেখিয়ে নানা হয়রানির শিকার হন তারা। এতে বাধ্য হয়ে অনেকেই দালালের কাছে আসে পাসপোর্ট করতে। আবার অনেকেই তদবির করাতে যান উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে। পাসপোর্ট করতে দালালকে দিতে হয় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫০০ টাকা যায় ব্যাংকে আর বাকি টাকা ভাগাভাগি হয় পাসপোর্ট অফিসের ছোট বড় সব কর্মকর্তা কর্মচারীদের পকেটে।
গাজীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে কল্যান সাহ্ নামে এক দালাল জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ৫-৬ হাজার টাকা দিলে পাসপোর্ট আমরা করে দেই। শুধু ছবি তোলার দিন আসতে হয়। টাকা দিলে ফরম পূরণ থেকে শুরু করে সব আমরা করে দেই। এ টাকা শুধু আমরা খাই না। প্রতি পাসপোর্টের জন্য অফিসে দিতে হয় ১ হাজার টাকা। এ টাকার ভাগ পায় অফিসের ছোট-বড় সব স্যার।
তিনি আরো জানান, এ পাসপোর্ট অফিসে ৩০-৪০ জন দালাল কাজ করে। সাধারণ মানুষ পাসপোট করতে আসলে হয়রানির শিকার হন যার ফলে তারা আমাদের কাছে আসে। কিছু টাকা বেশী দিতে হলেও কেউ হয়রানি পছন্দ করে না।

গাজীপুরের কানাইয়া এলাকার বাসিন্দা মো. মুকুল মিয়া জানান, নাতির জন্য পাসপোর্ট করতে ৫দিন ধরে ঘুরছি। ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছি। ফরম পূরণ করে জামা দিতে গেলে হয়রানির শিকার হচ্ছি। পাসপোর্ট অফিসের লোকজন শুধু এই সমস্যা ওই সমস্যা দেখায়। বাধ্য হয়ে দালাল ধরেছি। কিছু টাকা খরচ হলেও ভাল। হয়রানি থেকে বাঁচা যাবে।

এব্যাপারে গাজীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, গাজীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে কোন দালাল নেই। আমি কোন দালালকে এখানে ঢুকতে দেই না। এখানে পাসপোর্ট করতে আসলে কেউ হয়রানি হয় না। সবাই হয়রানি ছাড়া পাসপোর্ট পায়।