Pages

Categories

Search

আজ- সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গাজীপুরে ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার নবজাতকটি মারা গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুরে ডাস্টবিনে বিড়ালের কবল থেকে কয়েক ঘন্টা বয়সি উদ্ধার মেয়ে নবজাতকটি মারা গেছে। রোববার দিবাগত রাতে ওই নবজাতকটি মারা যায়। সোমবার দুপুরে জানাজার নামাজ শেষে গাজীপুরের লক্ষীপুরা এলাকায় গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

উদ্ধারকারী পোশাক শ্রমিক রেখা আক্তার, রাত দেড়টার দিকে শিশুটি মারা যায়। পরে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে জানাজার নামাজ শেষে লক্ষীপুরা এলাকায় গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

উল্লেখ, রোববার দুপুরে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তিনসড়ক এলাকার স্প্যারো কারখানার পোশাক শ্রমিক রেখা আক্তার তিনসড়ক এলাকার ঢাকা-গাজীপুর সড়কের পাশের ডাস্টবিনে প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ নিয়েবিড়ালের টানাটানি এবং বাচ্চার কান্নার শব্দ পেয়ে এগিয়ে যান। পরে বিড়াল তাড়িয়ে দিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। পরে হাসপাতালে ওই শিশুটিকে চিকিৎসা ও ভর্তি করা হয়।

ওই সময় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক প্রণয় ভূষন দাস জানিয়েছিলেন, নবজাতকটির মুখমন্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন বিড়ালের দাঁত ও নখের আচর ও ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তাকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হয়। বিকেলে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার জন্য রেফার্ড করা হয়। কিন্তু শিশু আনায়নকারী রেখা শিশুটিকে ঢাকায় না নিয়ে নিজেদের বাসায় নিয়ে গেছেন বলে জানতে পেরেছি। তাছাড়া এ নবজাতকের বিষয়টি জয়দেবপুর থানা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
জয়দেবপুর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে জয়দেবপুর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে রেখা আক্তার জানান, তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের সাদাতপুর থানা এলাকায়। আমার স্বামী আব্দুল মতিন ২০০৮সালে মারা গেছেন। এখন ছেলেকে লক্ষীপুরা এলাকার কাজীমদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থেকে পোশাক কারখানায় চাকুরি করে। তার ঘরে রেজাউল করিম নামের (১৭) প্রতিবন্ধী ছেলে রয়েছে। কণ্যা শিশুটি পেয়ে তার প্রতি আমার খুব মায়া সৃষ্টি হয়েছে। বাসায় এনে তাকে গরম ছ্যাক দিয়ে গুড়া দুধ গুলিয়ে পান করানোর পর এখন ভাল আছে। আমার ও আমার ছেলের নামের সাথে মিল রেখে নবজাতকটির নাম রেখেছি রাবেয়া।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লোকজনের সমস্যার কারণে তাকে হাসপাতাল থেকে ঢাকায় না নিয়ে বাসা নিয়ে এসেছি।