Pages

Categories

Search

আজ- রবিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গাজীপুরে ট্রেন ও অটোরিক্সা সংঘর্ষ, নিহত ৮

গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট: ঈদের ছুটি শেষে গ্রামের বাড়ি থেকে ফেরার পথে বৃহস্পতিবার গাজীপুরে ডেমু ট্রেনের ধাক্কায় ¯^ামী, স্ত্রী ও সন্তানসহ অটোরিক্সারোহী মোট ৮ জন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলো, নরসিংদী জেলার বাসিন্দা।
এলাকাবাসি, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জানায়, ঈদের ছুটি শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে নরসিংদীর গ্রামের বাড়ি থেকে স্ত্রী, সন্তান ও কয়েক আত্মীয়কে নিয়ে শাহ আলম সিএনজি চালিত একটি অটো রিক্সাযোগে গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজারের খাইলকৈর এলাকার বাসায় ফিরছিল। শাহ আলম স্থানীয় এমএম গার্মেন্টসের কর্মী। পথে বিকেল পৌণে তিনটার দিকে অটোরিক্সাটি জয়দেবপুর থানাধীন ধীরাশ্রম স্টেশনের প্রায় দেড় কিলোমিটার হায়দরাবাদ এলাকায় অবৈধ লেবেল ক্রসিং দিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলরুট পার হওয়ার সময় অটোরিক্সার ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এসময় ঢাকা থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুরগামী ডেমু ট্রেন (জয়দেবপুর কমিউটার) আরোহীসহ ওই অটোরিক্সাকে সজোরো ধাক্কা দেয়। এতে আটো রিক্সাটি ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে আটকে যায় এবং ট্রেনটি অটোরিক্সাকে হেঁচেড়ে প্রায় আধা কিলোমিটার উত্তরে দাক্ষিনখান এলাকা গিয়ে থামে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এঘটনায় অটোরিক্সাটি দুমড়ে মুছরে যায় এবং ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিভিন্নস্থানে পড়ে ঘটনাস্থলেই আট আরোহীর নিহত হয়। জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম আলম হাসপাতালে ছুটে যান। এছাড়া অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এদিকে খবর পেয়ে নিহতদের ¯^জনরা হাসপাতালে এসে ভীড় জমায়। এসময় তাদের আহাজারিতে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে।
নিহতরা হলো- নরসিংদী জেলা সদরের জিতরামপুর এলাকার ফরিদ মিয়া ছেলে শাহ আলম (২৭), শাহ আলমের স্ত্রী পিয়ারা বেগম (২১) তাদের ছেলে ইয়াসিন (৪) ও মেয়ে সাদিয়া (৬), পিয়ারার বোন সফুরা বেগম (১২), শাহ আলমের ফুফাতো ভাই আলামিন (২৭), প্রতিবেশি আবুল খায়েরের ছেলে লিটন মিয়া (২২) এবং অটোরিকশার চালক নরসিংদীর বালাফুরের চর এলাকার আব্দুর রফিকের ছেলে মো. মোস্তাফা (২০)। নিহত আল আমিন শান্তিপুর গ্রামের মোসলেম মিয়ার ছেলে।
নিহত শাহ আলমের চাচা শুক্কুর আলী জানান, শাহ ¯^পরিবারে বোর্ডবাজারের খাইকৈর এলাকায় থাকেন, শাহ আলমের বাড়ি নরসিংদী সদরের জিতরামপুর গ্রামে। সেখানে ঈদ করে স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়দের নিয়ে বোর্ডবাজারের  বাসায় ফিরছিল তারা। শাহ আলম বোর্ড বাজার এলাকায় এমএম ফ্যাশনে চাকুরি করতেন।
জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশন পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই দাদন মিয়া জানান, ওই ক্রসিংয়ে কোনো প্রতিবন্ধক সংকেতের ব্যবস্থা ছিল না। একটি ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ ও এলাকাবাসির করা লেবেল ক্রসিং।
জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের মাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, টঙ্গী  থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত রেললাইনের পাশে এরকম অবৈধ ১৩টি রেলগেইট রয়েছে। স্থানীয় সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলররা তাদের এলাকাবাসীর প্রয়োজনেই করে নিচ্ছে। এরজন্য দায়দায়িত্ব তাদের। এ ব্যাপারে কথা বললে আমাদের সমস্যা হয়। ওই রেলগেইট যেহেতু তারা বানিয়ে নিয়েছে, এটা রক্ষণাবেক্ষনের দায়-দায়িত্বও তাদের।
কমলাপুর রেলওয়ে থানার ওসি আব্দুল মজিদ ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে গিয়ে জানান, যেহেতু অবৈধ রেলগেইট দিয়ে অটোর চালক রেললাইন পার হওয়ার সময় ওই দূর্ঘটনা ঘটেছে। এজন্য তার বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এদিকে গাজীপুরের নাওজোর মহাসড়ক পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. বাহার আলম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তর সালনা এলাকায় ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের সামনে গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে এক যুবক নিহত হয়েছে। নিহত যুবকের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। দুর্ঘটনায় তার মুখসহ দেহের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।