Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গাজীপুরে গৃহবধুকে হত্যার দায়ে পরকিয়া প্রেমিকের ফাঁসি

জানুয়ারি, ৩১, ২০১৭
অপরাধ, গাজীপুর, ফাঁসি, শীর্ষ সংবাদ, হত্যা
No Comment

20170131_151714
গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট : গাজীপুরে ১৮ বছর আগে এক গৃহবধুকে হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার পরকিয়া প্রেমিকের ফাঁসির দন্ডাদেশ দিয়েছেন গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও জজ প্রথম আদালত। দন্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম আবুল কালাম ওরফে কালু মিয়া (৬৫)। আসামিকে একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অপর এক ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আসামি কালু মিয়া গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বাসন চান্দপাড়া এলাকার আব্দুল মান্নান ওরফে মনা চৌধুরীর ছেলে। নিহত করিমন নেছা (২৮) একই এলাকার মৃত সোনা মিয়ার মেয়ে ।

গাজীপুর জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি মোঃ আতাউর রহমান খান ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩২ বছর আগে করিমন নেছার সঙ্গে ওই এলাকার চাঁন মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর আসামী কালু মিয়ার সঙ্গে করিমন নেছার পরকিয়া সম্পর্ক গড়ে উঠে।তাদের পরকিয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে করিমন নেছাকে চান মিয়া তালাক প্রদান করে। তারপর থেকে আসামী কালু মিয়া তার স্ত্রী সন্তান থাকা সত্তেও করিমন নেছার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক রাখে। এ ঘটনা করিমনের পরিবার মেনে নেয়নি।এক পর্যায়ে গত ১৯৯৯ সালের ১২ জানুয়ারি মায়ের সঙ্গে রাগ করে বোন রহিমননেছার বাড়িতে চলে যায় করিমন। বোনের বাড়িতে ইফতার খেয়ে রাত সাড়ে সাতটার দিকে বাপের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় করিমন নেছা। এর পর য়্রথেকে সে নিখোঁজ ছিল। বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজ করেও সন্ধান মেলেনি। পরে ২৫ জানুয়ারি দুপুরে ভিকটিমের বাবার বাড়ির কাছে একটি পুকুরে কচুরিপানার নিচে তার লাশের সন্ধান মিলে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সফিজ উদ্দিন বাদি হয়ে কালু মিয়াসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জয়দেবপুর থানার ওসি দীর্ঘ তদন্ত শেষে আবুল কালাম ওরফে কালু মিয়াসহ একই এলাকার নাছির উদ্দিনের ছেলে নাজিম উদ্দিন ও জালাল উদ্দিন এবং কান্দুর আলীর ছেলে ফজলুল হককে অভিযুক্ত করে থানায় চার্জশীট দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানী শেষে মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোঃ ফজলে এলাহী ভূইয়া । মামলায় ৮জন স্বাক্ষীর সাক্ষ গ্রহণ করা হয়।।এ মামলায় নির্দোষ প্রমান হওয়ায় ওই এলাকার নাছির উদ্দিনের দুই ছেলে নাজিম উদ্দিন ও জালাল উদ্দিন এবং কান্দুর আলীর ছেলে ফজলুল হককে খালাস প্রদান করে আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আতাউর রহমান খান এবং আসামী পক্ষে ছিলেন মো. হুমায়ূন কবির।