Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮

গাজীপুরে কাশিমপুর কারাগারে বন্দিদের প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ বিতরণ

Gazipur-(1)-_27_August_2015-Kashimpur_Jail-1[1]
গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট: কারাবন্দিদের আরো আধুনিক ও উন্নত প্রশিক্ষনের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাবন্দিদের পুনর্বাসন প্রশিক্ষণ স্কুল, মোকাসিন জুতা তৈরীর প্রশিক্ষন এবং কারা বেকারী চালু করা হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২তে কারাবন্দিদের পুনর্বাসন প্রশিক্ষণ স্কুল ও কারা বেকারীর নাম ফলক উন্মোচন এবং প্রশিক্ষণার্থী কারাবন্দিদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খান। কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জিআইজেড এর প্রোগ্রাম উপদেষ্টা তাহেরা ইয়াসমিন, কোয়েলের ভাইস চেয়ারম্যান একেএম আফজালুর রহমান, প্রশিক্ষণার্থী বন্দি মোঃ রুহুল আমীন। উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম আলম, অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্ণেল মোঃ ফজলুল করীম, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী মোজাম্মেল হক, সিনিয়র জেলসুপার প্রশান্ত কুমার বনিক, সুব্রত কুমার বালা, মিজানুর রহমান, সুবাস চন্দ্র ঘোষ প্রমুখ।

স্বরাষ্ট্র সচিব ড. মো: মোজাম্মেল হক খান বলেছেন, আমরা জিরো টলারেন্সে বিশ্বাসী। আমাদের ভূখন্ডে বাইরের কোন অপশক্তির আঘাত আমরা সহ্য করব না। সে অবস্থানে আমরা অটল রয়েছি। আমি মনে করি সে রকম পরিস্থিতি আর সৃষ্টি হবে না, যাতে অন্য কোন দেশ আক্রমন করতে হবে। বিজিবির টহল চৌকির উপর গুলি বর্ষন তাদের হয়ত একটি ভূল পদক্ষেপ ছিল, যে কারণে আমাদের যথাসময়ে পদক্ষেপ নেয়ায় এটা প্রতিহত হয়েছে। মিয়ানমারের একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী দল আরাকান আর্মির মাধ্যমে গুলিবর্ষণের ঘটনা হয়েছে। মিয়ানমারকে এ বিচ্ছিন্নতাবাদী দলটি প্রতিনিধিত্ব করে না। যেটা ঘটেছে, সেটা আমাদের দেশকে নয়, এমনিতে তারা পালাতে গিয়ে হয়ত গুলি করেছে নিজেদের বাঁচার জন্য। কিন্তু সঠিকভাবে জবাব দিয়েছি এবং তারা প্রতিহত হয়েছে।

সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে কারাবন্দিদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব আরো বলেন, কারাগার এখন পুনর্বাসন ও সংশোধনের জায়গা। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর কারাগার গুলোতে অনেক উন্নতি হয়েছে। বন্দিরা সাজা শেষে বাড়ি ফিরে যেন স্বাভাবিক পরিবেশে জীবনযাপন করতে পারে সে জন্য কারাগারে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বন্দিরা বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পাবে। প্রশিক্ষিত কারাবন্দিদের সমাজের মূল ধারায় পুনর্বাসিত করতে এবং কর্মসংস্থানের বন্দোবস্ত করার জন্য সরকারি-বেসকারি সকল উদ্যোগেকে সমন্বিত কারার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি জানান, কেরানীগঞ্জের কারাগারটির নির্মাণ কাজ সমাপ্তির পথে। আগামি দুই মাসের মধ্যে ওই কারাগারটি বুঝে নেয়া হবে। এর পর প্রধানমন্ত্রী এটি আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করবেন। এসময় মহিলা কারা রক্ষীদের তৈরী দুটি শোবিজ প্রদান করা হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২’তে ১৯জন বন্দি জিআইজেড ও কোয়েল’র কারিগরী সহযোগিতায় এবং ঢাকা আহসানিয়া মিশনের বাস্তবায়ন সহযোগিতায় ২৫ জুন হতে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ১২০ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণে সফলভাবে অংশ নেয়। বৃহস্পতিবার তাদের মাঝে আনুষ্ঠানিক ভাবে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। এর আগে প্রধান অতিথি কারাগারে এসে পৌঁছালে ওই কারাগারের সিনিয়র জেলসুপার প্রশান্ত কুমার বনিক ও জেলার মোঃ নাশির আহমেদ স্বাগত জানান। তিনি ওই কারাগারের অভ্যন্তরে একটি লটকন গাছের চারা রোপন করেন। পরে কারাবন্দিদের প্রশিক্ষণ পুনর্বাসন স্কুল উদ্বোধন, কারা ডিজিটাল প্রিন্টিং প্রেস ও কারা বেকারী পরিদর্শন করেন।