Pages

Categories

Search

আজ- সোমবার ২৭ মে ২০১৯

গাজীপুরে ইঞ্জিনিয়ার কাইয়ূম হত্যা মামলার আসামী গ্রেপ্তার


গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট : গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে খুন হওয়া ইঞ্জিনিয়ার কাইয়ূমের হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার এবং হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার দুপুরে র‌্যাব-১ এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার আঞ্জুমান ওরফে আঞ্জু (২৫) টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার মীরদেওহাটা এলাকার মো: সবুর মিয়া ছেলে।

র‌্যাব জানায়, গত ১৩ মার্চ ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান থেকে অর্ধ-গলিত অবস্থায় একটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ব্যাপরে জিএমপি সদর থানায় মামলা হয়। লাশটি ছিল ঢাকার বসুন্ধরা নিবাসী ইঞ্জিনিয়ার আঃ আব্দুল কাইয়ুমের (৩২)। তাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে খুন করে তার লাশের মুখে এসিড দেয়া হয়েছিল। এ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব-১ এর গাজীপুরের পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের সদস্যরাও ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলার কালিয়াকৈর থানার চন্দ্রা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একমাত্র আসামী আঞ্জুমান ওরফে আঞ্জুকে (২৫) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, ছোট বেলায় কাল্পনিক চরিত্র মাসুদ রানা পড়ে বসুন্ধরার কোটিপতি জালাল উদ্দিনের একমাত্র ছেলে ইঞ্জিনিয়ার আঃ কাইয়ুমের মনেও স্বপ্ন জাগে বড় হয়ে মাসুদ রানা হবে। তাছাড়া আতœীয়-স্বজনরাও তাকে মাসুদ রানা নামেই ডাকতো। এই মাসুদ রানা হওয়ার স্বপ্নের কথা জানতে পারে তার টাঙ্গাইলের খালার বাড়ির প্রতিবেশী আঞ্জু। আঞ্জু বয়সে ইঞ্জিনিয়ার আঃ কাইয়ুমের ছোট। ভিকটিম খালার বাড়ি বেড়াতে গেলে আঞ্জু তার সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং ভিকটিমের স্বপ্নকে বাস্তবায়নে সর্বাতœক সহায়তা প্রদানের আসস্থ করে। এদিকে আঞ্জু ধনীর দুলাল ভিকটিমের টাকা আতœসাৎ করে কোটিপতি হওয়ার মনে মনে স্বপ্ন আঁকে। আঞ্জু ২০১৭ সালে চাকুরি করতে মালদ্বীপে যায়। সুবিধা করতে না পেরে বাংলাদেশে ফেরত এসে ভিকটিমকে সরকারী উচ্চ পদস্থ গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসাবে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে ২০ লক্ষ টাকার চুক্তি করে। ২০১৮ সালে ভিকটিমের কাছ থেকে ৯ লক্ষ টাকা নিয়ে মালয়েশিয়া চলে যায় আঞ্জু এবং ফন্দি আটে এই টাকা আতœসাৎ করার। মালয়েশিয়ায় এক বছর অবস্থানকালে আঞ্জু পরিকল্পনা করে গোপনে বাংলাদেশে গিয়ে ভিকটিমকে গভীর জঙ্গলে নিয়ে মেরে ফেলবে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ৪ মার্চ আঞ্জু বাংলাদেশে ফিরে আসে এবং আতœগোপনে থাকে।

র‌্যাব আরো জানায়, ভিকটিম একটি মেয়েকে পছন্দ করতো যা আঞ্জু জানত। হবু স্বামীসহ ওই মেয়ে ন্যাশনাল পার্কে ঘুরতে আসবে এই সংবাদটি আঞ্জু ভিকটিমকে জানায়। ওই মেয়েকে অপহরণ করে ভিকটিমের নিকট তুলে দিবে এই স্বপ্ন দেখিয়ে গত ৯ মার্চ ভিকটিমকে নিয়ে আঞ্জু গাজীপুরের ন্যাশনাল পার্কের গভীর জঙ্গলে চলে যায় এবং বিভিন্ন গল্প করে সময় অতিবাহিত করতে থাকে।

র‌্যাব জানায়, আসামী জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে ভিকটিমের কাছ থেকে নেয়া নগদ ৯ লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে পারবে না বলে পরিকল্পিতভাবে মালয়েশিয়া থেকে দেশে এসে ভিকটিমকে তার পছন্দের মেয়েকে এনে দিবে এই মিথ্যা আশ্বাসে বসুন্ধরা থেকে ৯ মার্চ বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ন্যাশনাল পার্কে নিয়ে আসে এবং ঘুরার ছলে তাকে গহিন জংগলের ভিতরে নিয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে ভিকটিমকে ছবি তোলার কথা বলে গাছের সাথে দাড় করিয়ে পেছন থেকে গলা টিপে ধরে। ভিকটিম মাটিতে পড়ে গেলে গলা টিপে মৃতু্যু নিশ্চিত করে। কেউ যাতে চিনতে না পারে সে জন্য ভিকটিমের মুখে এসিড ঢেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।