Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গাজীপুরে আলোচনার ঝড়, শ্রীপুরের মেয়র আনিছ ইন্দোনেশিয়া, না-কি কারাগারে?

সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮
অনিয়ম, অপরাধ, আইন- আদালত, শীর্ষ সংবাদ, শ্রীপুর
No Comment

গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট: গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমানসহ দু’জনকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলায় রবিবার কারাগারে প্রেরণ করে ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল আদালত। কিন্তু প্রকৃত মেয়র আনিছুর রহমান বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করার বিষয়টি নিয়ে সোমবার গাজীপুরে আলোচনার ঝড় উঠে। বিষয়টি ছিল টক অব দ্যা ডিস্ট্রিক্ট। স্থানীয়দের প্রশ্ন প্রকৃত মেয়র বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন, তাহলে তার পরিবর্তে মেয়র আনিছুর রহমান পরিচয়ে কারাগারে প্রেরিত ব্যক্তিটি কে? আর কেনই বা সে মিথ্যা পরিচয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন? এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় এবং তাদের স্বার্থ সম্পর্কে জানতে চান এলাকাবাসী। এদিকে সোমবার মেয়র হিসেবে মিথ্যা পরিচয়দান কারীকে সোমবার আদালতে হাজির করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র ও গাজীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান গত শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) ৯ দিনের সরকারি সফরে ইন্দোনেশিয়া গেছেন। তিনি বিদেশ যাওয়ার পর দিন রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান পরিচয়ে এক ব্যাক্তি ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ মিজানুর রহমান খানের আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে চার মামলায় জামিনের আবেদন করেন। আদালত তাকে ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় এক মামলায় জামিন দেন, তবে তিন মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। একই সময় শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক হিসাব রক্ষক আঃ মান্নান একই আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে দুই মামলায় জামিনের আবেদন করেন। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকেও কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পরে আদালত থেকে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এদিকে শ্রীপুর পৌরসভার মেয়রকে কারাগারে প্রেরণের খবর দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে শ্রীপুরসহ গাজীপুরের সর্বত্র শুরু হয় নানা গুঞ্জন। এ ব্যপারে তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে মেয়র পরিচয়ে আদালতে আত্মসমর্পনকৃত ব্যক্তিটি যুবলীগ কর্মী নূরে আলম মোল্লা।

শ্রীপুর পৌরসভার সচিব বদরুজ্জামান বাদল বলেন, শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান ৯দিনের সরকারী সফরে শনিবার রাত ১১টার দিকে মালিন্দো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চড়ে ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক এক সম্মেলনে যোগ দিবেন। তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে বিদেশ অবস্থান করছেন।

শ্রীপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমজাদ হোসেন জানান, মেয়র আনিছুর রহমান দেশের বাইরে থাকায় তিনি রবিবার হতে পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। তবে মেয়র সেজে কে কারাগারে রয়েছেন সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা নেই।

মেয়র আনিছুর রহমানের ছোট ভাই স্থানীয় মাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোকলেছুর রহমান বলেন, মেয়র আনিছুর রহমান বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। লোকমুখে শুনেছি মেয়র আনিছুর রহমান পরিচয়ে তার আস্থাভাজন যুবলীগ কর্মী নূরে আলম মোল্লা নামে একব্যক্তি আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে গেছেন।

মেয়র আনিছুরের আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান নামে একজন রবিবার ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে চার মামলায় জামিনের আবেদন করেন। চার্জশিটের সঙ্গে তার নাম ও পিতার নাম মিল ছিল। আদালত এক মামলায় মেয়র আনিছুর রহমানকে ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় জামিন দেন, তবে তিন মামলায় তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তিনি সঠিক মেয়র কিনা এ বিষয়ে কাগজে প্রমাণিত হবে। তাঁর সঙ্গে শ্রীপুর পৌরসভার সাবেক হিসাব রক্ষক আব্দুল মান্নান আদালতে আত্মসমর্পন করে দুই মামলায় জামিনের আবেদন করলেও আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে তাকেও কারাগারে প্রেরণ করেন। তবে মেয়র বিদেশ রয়েছেন এমন প্রশ্নের তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

এদিকে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমানের নামে কারাগারে যাওয়া নূরে আলম মোল্লাকে সোমবার কারগার থেকে ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে হাজির করা হয়। এসময় নূরে আলম মোল্লা আদালতকে জানায়, মেয়র আনিছুর রহমানের অনুপ্রেরণায় তার পরিচয়ে নূরে আলম মোল্লা আদালতে আত্মসমর্পন করে।

মামলার অভিযোগে সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে আসামিরা শ্রীপুর পৌরসভার অন্তর্গত ৫টি হাট-বাজার থেকে ৭ লাখ ৩৫ হাজার ২শ’ টাকা আত্মসাত করেন। ওই ঘটনায় ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন। ২০১৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি তদন্ত করে চার্জশীট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন।
অপর তিন মামলার অভিযোগে বলা হয়, পৌরসভার রশিদের মাধ্যমে আদায়কৃত ট্যাক্স ও বিবরণীর ৪৩ লাখ ৭৬ হাজার ১০৭ টাকা পৌরসভার তহবিলে জমা না করে আত্মসাত করা হয়। ওই ঘটনায় ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম মামলা দায়ের করেন। তদন্ত কর্মকর্তা ২০১৬ সালের ১২ জুলাই চার্জশীট দাখিল করেন। অন্য দুই মামলায়ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।