Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ২০ নভেম্বর ২০১৮

গাজীপুরের সাফারি পার্কে জন্ম নিয়েছে তিনটি বাঘ ছানা

গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট : গাজীপুস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে একটি বাঘ তিনটি বাচ্চা প্রসব করেছে। বাচ্চাগুলোর মধ্যে একটি পুরুষ আর দুইটি মাদী বাচ্চা। প্রায় দেড়মাস আগে এ পার্কে প্রথম জন্ম নেয়া বাচ্চা তিনটির শুক্রবার নামকরণ করা হয়েছে। বাচ্চাগুলো এখন আলাদা বেষ্টনীতে মায়ের সাথেই রাখা হয়েছে। মা বাঘসহ বাচ্চাগুলো সবাই সুস্থ আছে। তারা বেস্টনীতেই মায়ের সাথে হেঁটে বেড়াচ্ছে ।

বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও প্রাক্তন উপ-প্রধান বনসংরক্ষণ ড. তপন কুমার দে ওই বাচ্চাদের নাম দিয়েছেন। পুরুষ বাচ্চাটির নাম রাখা হয়েছে বিজয়, আর মাদী বাচ্চা গুলোর নাম রাখা হয়েছে মাধবী ও বিলাশী।

সাফারি পার্কের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক মো: আনিসুর রহমান জানান, সাফারি পার্কে ৯টি বাঘ রয়েছে। ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফিকার জোহান্সবার্গ থেকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় বেঙ্গল জাতের ওই বাঘগুলো সাফারি পার্কে আনা হয়। কর্ডাটা পর্বের স্তন্যপায়ী শ্রেণীর এ জাতের বাঘের বৈজ্ঞানিক নাম প্যান্থেরা টাইগ্রিস। এদের দেহের রং হালকা কমলার মধ্যে কালো-খয়েরি ডোরা কাটা দাগ রয়েছে। এসব বাঘের উচ্চতা সাড়ে তিন ফুট থেকে চার ফুট এবং দৈর্ঘ্যে সাড়ে চার ফুট থেকে সাড়ে পাঁচ ফুট হয়। পুরুষদের গড় ওজন হচ্ছে ২২১.২ কেজি এবং মাদীদের ওজন গড়ে ১৩৯.৭কেজি হয়ে থাকে। এরা ঘন্টায় প্রায় ২০-২৫কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে পারে। সাধারণত চার থেকে সাড়ে চার বছর বয়সে এরা যৌবনপ্রাপ্ত হয়। বেঙ্গল টাইগারের গর্জন প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত শোনা যায়।

বছরের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস হলো এদের প্রজননন মৌসুম। পুরুষ এবং মাদী বাঘের যৌন মিলনের ৯৬ থেকে ১০৫ দিনের মধ্যে মাদী বাঘ বাচ্চা প্রসব করে। একটি মাটি বাঘ ২ থেকে পাঁচটি পর্যন্ত বাচ্চা প্রসব করতে পারে।
তিনি জানান, চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি গর্ভবর্তী বাঘিনীটি তিনটি বাচ্চা প্রসব করেছে। বাচ্চা প্রসবের দেড় মাস আগে বাঘিনীটিকে আলাদাভাবে মিনি বেস্টনীতে ক্লোজ অবজারভেশনে রাখা হয়। বাচ্চা প্রসবের প্রায় এক বছর পর্যন্ত তাদের অন্য মা বাঘ ও বাচ্চাদের অন্য বাঘদের কাছ থেকে আলাদা করে রাখা হবে। বর্তমানে প্রতিটি বচ্চার ওজন আনুমানিক তিন থেকে সাড়ে ৩ কেজি । উচ্চতা ১০ ইঞ্চির মতো এবং দৈর্ঘ্য এক ফুটের মতো। বাচ্চারা ৮/৯ সপ্তাহ পর্যন্ত কেবল মায়ের দুধ পান করে। এরপর থেকে মাংস খেতে দেয়া হয়।