Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮

গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর ও হোতাপাড়ায় আরিফ ও জসিমের জুয়া বাণিজ্য চলছেই

অগাষ্ট ১৭, ২০১৫
অনিয়ম, গাজীপুর সদর
No Comment

রুবেল সরকার :
গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর ও হোতাপাড়ায় জুয়া এখনো রমরমা। প্রশাসনের চোখের সামনে প্রকাশ্যে চলছে নানা অপকর্ম। কুখ্যাত জুয়ার ব্যবসায়ী মুরগি আরিফ ও জসিম ভ্রাম্যমাণ আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং দিন যত যাচ্ছে তাদের দাপটও তত বাড়ছে। যেন টাকার গরমে পুড়ে যাচ্ছে নৈতিকতা!
খোঁজ নিয়ে প্রাপ্ত তথ্যমতে, জেলা সদরের রাজেন্দ্রপুর ও হোতাপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে মেলার নামে জুয়ার হাট চলে আসছে। দুটির নেতৃত্বে দুই শীর্ষ জুয়ার ব্যবসায়ী। রাজেন্দ্রপুরে আরিফ ওরফে মুরগি আরিফ, হোতাপাড়ায় জসিম। এতে হাউজি, ওয়ান টেন, ডাইস, বৌমাছ, চড়চড়ি ইত্যাদি খেলার নামে লেনদেন হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। তাদের লোভনীয় প্রচারণায় ভিড় জমাচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাত গভীর হলে চলে অশ্লীল নৃত্য ও মদ-গাঁজার উন্মাদনা। আগে ১০০-৩০০ টাকার টিকেট লাগলেও এখন ফ্রি। এর প্রভাবে বিপথগামী হচ্ছে যুবসমাজ। চুরি-ছিনতাই বেড়ে ঘটছে আইন-শৃক্সখলার অবনতি। জেলা প্রশাসন তা একাধিকবার উচ্ছেদ করলেও কাজ হচ্ছে না। ফলে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্পট রাজেন্দ্রপুর : রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তার একটু দক্ষিণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে গজারি বন। এই স্থানটি বেছে নিয়েছেন কাপাসিয়ার নরত্তোমপুরের মুরগি আরিফ। বড় পরিসরে প্যান্ডেল তুলে চলছে জুয়ার হাট। বনের কপিচ গাছ কেটে করা হয়েছে রাস্তা। সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত চলে বাণিজ্য। রাত দুইটা থেকে শুরু হয় অশ্লীল নৃত্য। জুয়াড়িদের উৎপাতে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ।
স্পট হোতাপাড়া : হোতাপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির কাছে গজারি বনের ভেতরে জুয়ার হাট চালাচ্ছেন জসিম। তিনি আগে বোর্ডবাজারের হাট চালাতেন। মুক্তিযোদ্ধা না হলেও ব্যবহার করতেন গাছা ইউনিট কমান্ডের ভিজিটিং কার্ড। কথায় কথায় দেখান দাপট। তার হাটেও জুয়া ও অশ্লীল নৃত্যের সমাহার। শুরু হয় রাত ১০টার পর।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আরিফ ও জসিম অত্যন্ত ধূর্ত। পুলিশ প্রশাসনের সাথে তাদের গভীর সখ্যতা রয়েছে। দু-তিনজন ভুঁইফোঁড় সাংবাদিক ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করেন। ফাঁড়ি, থানা, ডিবি‌র সবার কাছে টাকা যায়। তাই দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
ডিসির বক্তব্য : বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস এম আলমের সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, আমি গাজীপুরে এসেছি বেশি দিন হয়নি। এর মধ্যে একবার বন্ধ করেছি। আবারও লোক পাঠিয়ে বন্ধ করব। আমার কাছে জুয়াচুরি-বাটপারির স্থান নেই। তিনি আরও বলেন, জুয়ার বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। আপনারা লেখালেখি করেন, দেখবেন এরা পারবে না। তবে পুলিশ ঠিক থাকলে এগুলো সহজে বন্ধ হবে।